আবারও সাংবাদিকের মর্মান্তিক হত্যায় সরগরম গোটা দেশ

আবারও সাংবাদিকের মর্মান্তিক হত্যায় সরগরম গোটা দেশ
আজবাংলা      ফেসবুকে নিজেই দুই মাস আগে পোস্ট করে জানিয়েছিলেন যে তাঁকে কেউ মেরে ফেলতে পারে।পুলিশকে জানিয়েও কোনও লাভ হয়নি তাঁর। বুধবার রাতে সেই সাংবাদিককেই মারধর করার পর কুপিয়ে হত্যা করা হয় এবং মৃত্যু সম্পূর্ণ করতে গাড়ি চাপা দেওয়া হয়। ঘটনাটি মধ্যপ্রদেশের তিকমগড় জেলায় হয়েছে। মৃত ব্যক্তির নাম সুনীল তিওয়ারি, বয়স ৩০। 12ের একটি হিন্দি খবরের কাগজে সাংবাদিকের কাজ করতেন। গত মে মাসে, সুনীল একটি ভিডিয়ো ক্লিক পোস্ট করেছিলেন ফেসবুকে। তিনি ঝাঁসির জেলাশাসক ও নিওয়ারির এসপিকে উল্লেখ করে ভিডিটি শেয়ার করেছিলেন। সেখানে তাঁর বক্তব্য ছিল, পুলিশের কাছে তিনি প্রাণসংশয়ের অভিযোগ করেছিলেন, কিন্তু পুলিশ এফআইআর নেয়নি। তিনি বলেছিলেন, ''আমি এই লোকগুলোর আসল রূপ নিয়ে এসেছি সামনে, তাই এরা এখন শত্রু আমার। মধ্যপ্রদেশ, উত্তর প্রদেশ ও রাজস্থানে এদের নেটওয়ার্ক আছে। আমি মারা গেলে জানবেন মৃত্যুর জন্য এরাই দায়ী।'' এই ভিডিয়ো পোস্টের দুই মাসের মধ্যেই সুনীলের শোচনীয় মৃত্যুতে গ্রামে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। গত বুধবার রাতে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে পুতিলগেরা গ্রামের মধ্যে দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। নিওয়ারি টাউন থেকে সেই এলাকার দূরত্ব ৩ কিলোমিটার। ভাই আশিসের দাবি, 'আমার চোখের সামনে দাদাকে মেরে ফেলেছে। প্রথমে ওরা হাওয়ায় গুলি করে, তারপর মাটিতে বসে পড়ি আমরা। তার ঠিক পরেই লাঠি আর লোহার রড দিয়ে দাদাকে মারতে শুরু করে ওরা। আমি পালিয়ে গিয়ে পুলিশকে খবর দিই।' পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একটি নালা থেকে সুনীলের রক্তাক্ত দেহ উদ্ধার করে। অধেশ তিওয়ারির সঙ্গে সুনীলের পরিবারের জমি সংক্রান্ত ঝামেলা চলছিল বলে জানতে পেরেছে পুলিশ। কিন্তু সেটা কিছুদিন আগে মিটেও গেছে। নিওয়ারির এসপি বাহিনী সিং বলেছেন, 'সাতজনকে এই ঘটনায় ইতোমধ্যেই আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে সুনীলের দেহে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছে। পরে মৃত্যু নিশ্চিত করতে তাঁর শরীরের উপর গিয়ে গাড়ি চালানো হয়েছিল। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে চলে আসবে দ্রুত।' অধেশের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করবে পুলিশ। এমনিতেই তার নামে ১০টি পুরনো মামলা চলছে।