IIT খড়গপুরের গবেষকদের নতুন আবিস্কারে চমকে গেল গোটা বিশ্ব

IIT খড়গপুরের গবেষকদের নতুন আবিস্কারে চমকে গেল গোটা বিশ্ব

আজবাংলা   ছোটদের পাশাপাশি বড়ো রাও কিন্তু ভয় পায়। বিশ্বাস না হলে একবার শুধু ছুঁচ এর কথা মনে করুন। হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন। এখানে ছুঁচ মানে সেলাই করার ছুঁচের কথা বলা হয়নি, বলা হয়েছে ইঞ্জেকশানের কথা। এই ইঞ্জেকশানের বিষয় কথা হলেই কম বেশি সকলেই ভয় পান। আসলে এই ভয়টা জন্ম নিয়েছে, ছুঁচ ফোটানোর সময় ব্যথা হওয়ার জন্য। তবে এখন থেকে এই ব্যথা পাওয়ার দিন শেষ হতে চলল।

ডায়াবেটিসের ক্ষেত্রে ইনসুলিন থেকে শুরু আর অনেক গুরুতর রোগের কারনে, রোগীকে আস্থা রাখতে হয় সেই ইঞ্জেকশানের ওপর। এবার সেইক্ষেত্রে ছুঁচ ফোটানোর ভয় থাকলেও কিছু করার নেই। সম্প্রতি নতুন এক ইঞ্জেকশান আবিস্কার হওয়ায় ব্যথা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়েও নির্ভয়ে ইঞ্জেকশান নেওয়া যাবে। এই নতুন আবিষ্কৃত ইঞ্জেকশানের নাম দেওয়া হয়েছে, পেইনলেস ইঞ্জেকশান। বলা ভালো পেইনলেস ইঞ্জেকশানে দেওয়ার জন্য নতুন এক ‘মাইক্রো নিডল’ বা ছোট ছুঁচ আবিস্কার হয়েছে। এমন ‘মাইক্রো নিডল’ তৈরি করেছেন যার মাধ্যমে সূচ ফোটানোর যন্ত্রণা ছাড়াই ইনজেকশন দেওয়া সম্ভব।

আশা করা হয়েছে, এই ইঞ্জেকশান করোনার টিকা দেওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাপক কার্যকর হতে পারে। এই পেইনলেস ইঞ্জেকশান আবিস্কারের পিছনে রয়েছে, IIT খড়গপুরের ইলেকট্রনিক ও ইলেট্রিক্যাল কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের গবেষক অধ্যাপক তরুণকান্তি ভট্টাচার্য ও তাঁর টিম। এর পাশাপাশি শুধু করোনা টিকার ক্ষেত্রেই নয়, যে কোনও টিকা নেওয়াকেই ‘পেইনলেস’ করতে পারবে এই ‘মাইক্রো নিডল’। এর সঙ্গে, IIT খড়গপুরের গবেষকেরা জানিয়েছেন, তাঁদের এই ছুঁচ শুধু আকারেই ছোট নয়, ইঞ্জেকশান দেওয়ার প্রচলিত ছুঁচের চেয়ে অনেক সরু।

তবে দেহে ওষুধ পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ‘মাইক্রো নিডল’-এর ক্ষমতা আগের ছুঁচের মতই থাকবে। আসলে এই ‘মাইক্রো নিডল’ অনেকটা ব্যান্ডেডের মতো হবে। দেহের চামড়ার ওপর জড়িয়ে দিলেই ইনজেকশনের ওষুধ শরীরের ভিতরে চলে যাবে। বিজ্ঞানের ভাষায় এই পদ্ধতিকে ‘ট্রান্স ডার্মাল ড্রাগ ডেলিভারি সিস্টেম’ বা TDDS বলে। এই মাইক্রো নিডলে প্রায় ১০০টি অতি সূক্ষ্ম সূচ রয়েছে। ফলে, স্নায়ুকে না ছুঁয়েই ইনজেকশনের ওষুধ শরীরে প্রবেশ করাতে পারে। সেইকারনে ব্যথাও হবে না। এই মাইক্রো নিডলের বিষয়টি ‘নেচার’ পত্রিকায় ছাপা হয়েছে।