ফুলন দেবী হত্যাকান্ড এর ইতিহাস 

ফুলন দেবী হত্যাকান্ড এর  ইতিহাস 

ফুলন দেবী ( ইংরেজি: Phoolan Devi, হিন্দি: फूलन देवी) (১০ আগস্ট ১৯৬৩ - ২৫ জুলাই ২০০১) একজন ভারতীয় নারী অধিকারকর্মী; পরবর্তীতে ডাকাত ও একজন রাজনীতিবিদ। "দস্যু রানী" নামেই তিনি বেশি পরিচিত। মাল্লা বর্ণের এক পরিবারে তিনি জন্ম নেন। ফুলন একাধিকবার পুরুষ নিষ্ঠুরতার বলি হন। পুলিশের নিকট থেকেও তিনি ন্যায় পাননি যার জন্য তিনি বাধ্য হয়ে ডাকাত জীবন গ্রহণ করেন বলে নিজে বর্ণনা করতেন।

ভারতের উত্তর প্রদেশের বেহমাই গাও নামক স্থানের কয়েকজন ঠাকুর সম্প্রদায়ের জমিদার ফুলন দেবীকে তেইশ দিন ধরে ধর্ষন করে। ১৯৮১ সনে সেই গ্রামের বাইশ জন ঠাকুরকে ডাকাতরা হত্যা করে। হত্যার জন্য ফুলনকে অভিযুক্ত করা হয়। বেশীর ভাগ অপরাধ তিনি নির্যাতিত মহিলা ; বিশেষত নিম্ন শ্রেণীর মহিলাদের ন্যাযতা প্রদানের জন্য সংঘটিত করেন। ২০ বছরেরও কম বয়সের এক নিম্ন শ্রেণির প্রায় নিরক্ষর কিশোরী হয়েও তিনি সমগ্র ভারতে আলোড়নের সৃষ্টি করেন। পরবর্তীতে ফুলন আত্মসমর্পন করে ভারতীয় রাজনীতিতে যোগদান করেন।

ভাগ্যের ফেরে ডাকাতদলের হাতে পড়েন, ধর্ষিতা হন এবং ঘটনাচক্রে একসময় নিজেই এক দস্যুদলের গুরুত্বপূর্ণ মুখ হয়ে ওঠেন। যদিও তারপরেও তাঁর জীবনে অন্ধকার ঘনিয়েছে পুনরায়। বেহমাই গ্রামের উচ্চবর্ণের ঠাকুরেরা তাঁকে বন্দী করে ধর্ষণ করেছিল। তারই প্রতিশোধ নিতে ফুলন দেবী ফিরে আসেন এবং বেহমাই গ্রামের বাইশজন যুবককে ধরে এনে তাঁদের হত্যার নির্দেশ দেন৷ এই হত্যাকান্ডের প্রতিশোধ নিতেই শের সিং রানা দলবল নিয়ে ফুলন দেবীকে গুলি করে হত্যা করেছিল বলেই জানিয়েছে পুলিশের কাছে।

এই ঘটনাই phoolan devi story  ফুলন দেবী হত্যাকান্ড নামে পরিচিত। শেষপর্যন্ত শের সিংয়ের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছিল। ‘দস্যুরানী’ হিসেবে খ্যাত ফুলন দেবীর জন্ম হয় উত্তরপ্রদেশের জালাউন জেলায়, ১৯৬৩ সালের ১০ আগস্ট। মাত্র ১১ বছর বয়সে বিবাহ হয়েছিল তাঁর, ৩০ বছর বয়সী পুট্টিলালের সঙ্গে। বিয়ের পর স্বামী সম্মতির পরোয়া না করে প্রায় নিয়মিত যৌন নির্যাতন চালাতে থাকে তাঁর ওপর। মানসিকভাবে বিপর্যস্ত কিশোরী ফুলনের সহ্যের সীমা অতিক্রম করে গেলে তিনি চলে আসেন বাপের বাড়িতে।

সেসময় বড়ো দাদা মায়াদীনের চক্রান্তে কারাবাস হয় তাঁর। তিনদিন কারাগারে থাকার সময়ে পুলিশের দ্বারাই ধর্ষিতা হন ফুলন। জেল থেকে বেরিয়ে সমাজের ছিছিক্কারের ভয়ে বাধ্য হয়ে শ্বশুরবাড়ি ফিরে আসেন, কিন্তু নিয়তির ফেরে সেখানকার দরজাও তাঁর জন্য বন্ধ হয়ে যায় একসময়। অতঃপর এক আত্মীয়ের সাহায্যে ডাকাতদলে যোগ দেন তিনি। কিন্তু ডাকাতদলের সর্দার বাবু গুজ্জর এবং তাঁর অনুচরেরা লাগাতার তিনদিন ধরে ধর্ষণ করে তাঁকে। শেষপর্যন্ত সেই দলেরই বিক্রম মাল্লার সহায়তায় রক্ষা পায় ফুলন এবং বিক্রম হত্যা করে দলের সর্দারকে।

ডাকাতদলে যোগ দিয়ে নিজের স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করেন ফুলন দেবী, যদিও পুট্টিলাল ছুরিকাঘাতের পরেও প্রাণে বেঁচে গিয়েছিল৷বিক্রম মাল্লার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয় ফুলনের। বিক্রমের কাছ থেকেই তিনি রাইফেলের ব্যবহার শেখেন এবং বুন্দেলখন্ডের বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে একটি গ্যাং-এর কার্যকলাপে অংশ নেন। এরপর ভাগ্যদোষে ফুলনকে বন্দী করে রাখা হয় বেহমাই গ্রামে এবং সেখানে উচ্চবর্ণের হিন্দু ঠাকুরেরা তিনদিন ধরে ধর্ষণ করে তাঁকে। এমনকি চুড়ান্ত অবজ্ঞায় তাঁকে নগ্ন করে গ্রামের চারপাশে ঘোারাতেও কুন্ঠিত হয় না।

এরপর মান সিংয়ের সঙ্গে মাল্লাদের নিয়ে এক দল গঠন করেন তিনি। উচ্চবর্গের লোকেদের সম্পত্তি লুঠ করে বিলিয়ে দিতে থাকেন নিম্নবর্গীয়দের মধ্যে। বেহমাই গ্রামে তাঁর সঙ্গে ঘটে যাওয়া অন্যায়ের কথা ফুলন ভুলতে পারেননি। ১৯৮১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি নিজের দলবল সহকারে ফুলন বেহমাই গ্রামে প্রবেশ করেন। মোট কুড়ি জনকে তিনি হত্যা করেছিলেন সেদিন। সেই কুড়ি জনের মধ্যে সতেরো জন ছিলেন ঠাকুর। এই প্রতিশোধ সারা দেশে আলোড়ন ফেলে দিয়েছিল। উত্তরপ্রদেশের তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী ভিপি সিং পদত্যাগও করেছিলেন।

পরে যদিও আত্মসমর্পণ করেন তিনি। মুক্তি পেয়ে বিবাহ করেন এমনকি মুলায়েম সিং যাদবের সমাজবাদী পার্টির তরফে উত্তরপ্রদেশের মির্জাপুর লোকসভা কেন্দ্র থেকে ১৯৯৬ সালে নির্বাচনেও দাঁড়িয়েছিলেন ফুলন। নির্বাচনে জয়ী সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিতও হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু বেহমাই গ্রামের হত্যাকান্ড তাঁর জীবনে অন্ধকার নামিয়ে এনেছিল। ২০০১ সালের ২৫ জুলাই। ফুলন দেবীর বয়স তখন ৩৭ বছর। লোকসভার কাজ সমাধা করে দুপুরবেলা মধ্যাহ্নভোজনের সময় তিনি ফিরেছিলেন দিল্লির অশোকা রোডে নিজের বাড়িতে।

সেই বাংলোর বাইরেই ১.৩০টার সময়ে তিনজন বন্দুকধারী তাঁর মাথায়, বুকে কাঁধে এবং ডানহাতে মোট নয়বার গুলিবিদ্ধ করে তাঁকে। ফুলনের ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী বালিন্দর সিংকেও ডান বুকে এবং ডান হাতে গুলি করে আততায়ীরা। হত্যাকান্ড সমাধা করবার পর তাঁরা তিনজন একটি মারুতি ৮০০ গাড়িতে করে পালিয়ে গিয়েছিলেন। কোনো কোনো প্রত্যক্ষদর্শী বলে থাকেন যে তিনজনের একজন গাড়ি চালাচ্ছিলেন এবং বাকি দুজনের হাতে ছিল পিস্তল।

মাঝপথে আততায়ীরা নাকি মারুতিটি ছেড়ে দিয়ে অটোরিকশাতে করে পালিয়েছিলেন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ওয়েবলি অ্যান্ড স্কট পিস্তল, ইম্প্রোভাইজড আগ্নেয়াস্ত্র এবং আইওএফ.৩২ রিভলবার পেয়েছিল। আহত ফুলন দেবীকে তৎক্ষনাৎ রাম মনোহর লোহিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। এই নির্মম হত্যাকান্ডের মূল পান্ডা ছিলেন ৩৮ বছর বয়সী শের সিং রানা। তিনি নিজেই পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছিলেন। নিজে পুলিশকে বলেছিলেন যে ১৯৮১ সালে বেহমাইতে উচ্চবর্ণের মানুষদের হত্যার প্রতিশোধ নিতেই ফুলন দেবীকে হত্যা করেছেন তিনি।

এরপর এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে আদালতে বসে বিচারসভা। দীর্ঘ প্রায় ১৩ বছর বিচার চলবার পর আদালত অবশেষে ২০১৪ সালের ১৪ অগাস্ট শের সিং রানাকে ভারতীয় দন্ডবিধির ৩০২, ৩০৭ এবং ৩৪ নম্বর ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দন্ডিত করেছিল। এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করা হয়েছিল তার। তবে অতিরিক্ত দায়রা জজ ভারত পরাশর অন্য দশজন অভিযুক্তকে খালাস দিয়েছিলেন। পরবর্তীকালে রাণা প্রশ্ন তুলেছিল কেন শুধু একা তাকেই দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে!

বিচারক অবশ্য বলেছিলেন শের সিং চাইলে উচ্চ আদালতেও আপিল করতে পারেন। যে দশজনকে আদালত মুক্তি দিয়েছিল তাঁরা হলেন ধনপ্রকাশ, শেখর সিং, রাজবীর সিং, বিজয় সিং, রাজেন্দ্র সিং ওরফে রবিন্দর সিং, কেশব চৌহান, প্রবীণ মিত্তাল, অমিত রাঠি, সুরেন্দর সিং নেগি এবং শরাবন কুমার। ২৪ অক্টোবর ২০১৬ সালে যদিও জামিনে খালাস পেয়ে যান শের সিং রানা।   

ডাকাতের দল ফুলন দেবীকে অপহরণ করে; অন্য মতে তিনি স্বেচ্ছায় ডাকাতের দলে যোগদান করে। সেই ডাকাতের দলনেতা গুজ্জর সম্প্রদায়ের লোক, নাম- বাবু গুজ্জর। বাবু গুজ্জর ছিল নিষ্ঠুর ও কামুক স্বভাবের লোক। বাবু গুজ্জরের কামুক দৃষ্টি ফুলনের দেহের প্রতি আকৃষ্ট হয় কিন্তু দ্বিতীয় দলনেতা বিক্রমের জন্য ফুলন, বাবু গুজ্জরের কামনার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পান।

একদিন রাত্রে দলনেতা বাবু গুজ্জর ফুলনকে ধর্ষণ করার চেষ্টা করে। প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্রম মাল্লা, বাবু গুজ্জরকে হত্যা করে ও নিজেই দলের নেতা হয়। ফুলন তার সম্মান রক্ষা কারী বিক্রম মাল্লার প্রতি প্রেম অনুভব করেন। অবশেষে বিক্রম তাকে বিবাহ করে পত্নীর মর্যদা দেন। ডাকাত দলটি ফুলনের প্রথম স্বামী পুত্তিলালের বসবাসকৃত গ্রামে লুন্ঠন করে। ফুলন পুত্তিলালকে টেনে নিয়ে এসে জনসমক্ষে শাস্তি দেন ও খচ্চরের পিঠে উল্টো করে বসিয়ে নির্জন স্থানে নিয়ে গিয়ে বন্দুক দিয়ে প্রহার করেন।

তিনি প্রায় মৃত অবস্থায় পুত্তিলালকে ফেলে চলে যান। যাওয়ার সময় কম বয়সের বালিকা মেয়ে বিবাহ করা পুরুষদের জন্য সাবধানবাণী স্বরূপ একটি পত্র রেখে যান। ফুলন দেবী বিক্রম মাল্লা থেকে বন্দুক চলানোর প্রশিক্ষন নিয়েছিলেন ও উত্তর প্রদেশ ও মধ্য প্রদেশ বসবাসকারী উচ্চ বর্ণের লোকদের গ্রামে লুন্ঠন, ভূস্বামীদের অপহরণ, রেল ডাকাতি ইত্যাদি বিভিন্ন অভিযান চালিয়েছিলেন। প্রত্যেকবার অপরাধ করার পর ফুলন দুর্গাদেবীর মন্দির দর্শন করিতেন ও তার প্রাণ রক্ষার জন্য দেবীকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করিতেন। চম্বল উপত্যকা এই ডাকাত দলের আত্মগোপনের স্থল ছিল। 

বেহমাই হত্যাকাণ্ড সমগ্র ভারতবর্ষকে কম্পিত করে দিয়েছিল। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করতে না পেরে তার উপর মানসিক চাপ দেওয়া আরম্ভ করে। পুলিশ তার মাতা-পিতাকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশ হামলায় তার দলের বহুসংখ্যক সদস্যের মৃত্যু হয়। ফুলন দেবী আত্মসমর্পণ করার সিদ্ধান্ত নেন। আত্মসমর্পণ করার সময় তিনি ভারত সরকারের নিকট কয়েকটি শর্ত রেখেছিলেন।

শর্তসমূহ হচ্ছে: ফুলন ও তার অন্যান্য সঙ্গীরা কেবল মধ্যপ্রদেশে আত্মসমর্পণ করিবেন, বিচারের জন্য তাদের উত্তরপ্রদেশে নেওয়া হবেনা ফাঁসী দিতে পারিবেন না ও ৮ বৎসরের অধিক সময় কারাবাস হবেনা সম্পর্কীয় ভাতৃ মায়াদিন অবৈধভাবে দখল করা জমি ফুলনের পিতাকে ফেরত দিতে হবে ফুলনের পিতৃ-মাতৃকে মধ্যপ্রদেশে সংস্থাপিত করতে হবে সরকার ফুলনের ভাতৃকে চাকুরি দেওয়ার নিশ্চয়তা প্রদান করতে হবে সরকার তার সবকয়েকটি শর্তে সম্মত হয়।

বেহমাই হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই বৎসর পর ১৯৮৩ সনের ফেব্রুয়ারি মাসে প্রায় ৮০০০ জন দর্শকের উপস্থিতিতে ফুলন আত্মসমর্পণ করেন। সেসময় ফুলন পরিধান করেছিলেন একটি খাকী পোশাক। শরীরে ছিল একটি লাল চাদর। মাথায় ছিল একটি লাল কাপড় যা বেহমাই গ্রামে চলানো যৌন অত্যাচার ও নির্যাতনের পর প্রতিশোধের প্রতীক রূপে তিনি মাথায় বেধেছিলেন। কাঁধে ছিল একটি বন্দুক। হাতজোড় করে তিনি জনসাধারণকে নমস্কার জানান। দেবী দুর্গা ও মহাত্মা গান্ধীর ছবির সম্মুখে তিনি বন্দুকটি রেখে আত্মসমর্পণ করেন। সরকারে ফুলনের সঙ্গে করা শর্ত মেনে নিলেও একটি শর্ত ভঙ্গ করেছিল। বিনা বিচারে তাকে ১১বৎসর কারাবাসে থাকতে হয়েছিল। অবশেষে ১৯৯৪ সনে তিনি কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন।

১৯৯৪ সনে ফুলন দেবীর জীবনের উপর নির্মীত ব্যাণ্ডিট কুইন নামক চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। ছায়াছবিটির পরিচালক হচ্ছেন শেখর কাপুর ও প্রযোজক চেনেল-৪। মালা সেনের ইণ্ডিয়া'জ ব্যাণ্ডিট কুইন নামক গ্রন্থের আধারে চিত্রনাট্যটি রচনা করা হয়।  কিন্তু তাকে ভুলভাবে উপস্থাপন করার অভিযোগে ফুলন দেবী চলচ্চিত্রটি ভারতে নিষিদ্ধ করার দাবী করেন। অবশেষে প্রযোজক তাকে ৪০,০০০ পাউণ্ড প্রদান করায় তিনি অভিযোগ তুলে নেন।  ছবিটি ফুলনকে আন্তর্জাতিক ভাবে পরিচিত করে তুলেছিল।

লেখিকা অরুন্ধতী রায় তার দা গ্রেট ইণ্ডিয়ান রেপ ট্রিক নামক এক লেখায় প্রশ্ন করেন যে, কি অধিকারে এক জীবিত নারীর ধর্ষণের দৃশ্য তার কোন অনুমতি ছাড়া পুনমঞ্চায়ন করা হয়? তিনি পরিচালক শেখর কাপুরকে ফুলন দেবী ও তার জীবনকে ভুলভাবে উপস্থাপনের জন্য দায়ী করেন। এর আগে ১৯৮৫ সালে অশোক রায়ের পরিচালনায় বাংলা চলচ্চিত্র ফুলন দেবী প্রকাশিত হয়। এই ছবিতে অভিনয় করেছিলেন সুরেশ ওবেরয়, রীতা ভাদুড়ি, জয় মুখার্জী প্রমুখ।

অসমের ভ্রাম্যমাণ থিয়েটার অপ্সরা থিয়েটার ফুলন দেবীর আত্মসমর্পণের পর দস্যুরাণী ফুলন দেবী নামক একটি নাটক মঞ্চস্থ করে। কোন তারকা অভিনেতা-অভিনেত্রী ছাড়াই নাটকটি জনপ্রিয় হয়ে উঠে। সাম্প্রতিক বিষয়-বস্তুর উপর রচিত এইটিই ছিল ভ্রাম্যমাণ থিয়েটারের একমাত্র জনপ্রিয় নাটক। ফুলন দেবী অতি সামান্য লেখা-পড়া জানতেন  কিন্তু আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তিনি লেখক মেরী থেরেশ কানী ও পল রামবালীর সহযোগিতায় আই ফুলন দেবী: দা অটোবায়োগ্রাফী অফ ইণ্ডিয়াস ব্যাণ্ডিট কুইন নামক আত্মজীবনী প্রণয়ন করেন।

এই গ্রন্থটি ইংল্যান্ডের লিটল ব্রাউন এণ্ড কম্পানী ১৯৯৬ সনে প্রথম প্রকাশ করে। এই দুইজন লেখকের সহযোগীতায় ফুলন দেবীর প্রণয়ন করা অন্য আরেকটি আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থের নাম দা ব্যাণ্ডিট কুইন অফ ইণ্ডিয়া: এন ওমেনস্‌ এমাজিং জার্নি ফ্রম প্রিজেন্ট টু ইন্টারনেশনেল লিজেন্ড। মালা সেন লিখেছিলেন যে ইণ্ডিয়াস ব্যাণ্ডিট কুইন একটি জীবনীমূলক গ্রন্থ। এভাবেই পরিসমাপ্তি ঘটে বিদ্রোহী এক নারীর ঘটনাবহুল জীবনের।

আরো পড়ুন      জীবনী  মন্দির দর্শন  ইতিহাস  ধর্ম  জেলা শহর   শেয়ার বাজার  কালীপূজা  যোগ ব্যায়াম  আজকের রাশিফল  পুজা পাঠ  দুর্গাপুজো ব্রত কথা   মিউচুয়াল ফান্ড  বিনিয়োগ  জ্যোতিষশাস্ত্র  টোটকা  লক্ষ্মী পূজা  ভ্রমণ  বার্ষিক রাশিফল  মাসিক রাশিফল  সাপ্তাহিক রাশিফল  আজ বিশেষ  রান্নাঘর  প্রাপ্তবয়স্ক  বাংলা পঞ্জিকা