ভিয়েতনাম এর দর্শণীয় স্থান

ভিয়েতনাম এর দর্শণীয় স্থান

ভিয়েতনাম Vietnam প্রবেশ করতে গেলে ই-ভিসা সংগ্রহ করা যায়। কম করে ৩০ দিনের পর্যটন ভিসা মেলে। ভারত সহ ৮০টি দেশ ই-ভিসার আবেদন করতে পারে। কলকাতা থেকে বিমান চেপে সরাসরি ভিয়েতনাম পৌঁছোনো যায়। হো চি মিন সিটি, হ্যানয়, হুই ইত্যাদি স্থানে কলকাতা থেকে সরাসরি পৌঁছোনো যায়। ভিয়েতনামের নয়নাভিরাম সুন্দর এক জায়গা হা লং উপসাগর বা হা লং বে।

ভিয়েতনামের কুয়াংনি প্রদেশে উপসাগরটি অবস্থিত। এই উপসাগরের বিশেষত্ব হলো স্বচ্ছ ফিরোজা রঙের পানি এবং অসংখ্য ছোট ছোট দ্বীপ। ১৯৯৪ সালে হা লং উপসাগরকে ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃতি দেয়া হয়েছে এবং ২০০৭ সালে হা লং বে পৃথিবীর নতুন প্রাকৃতিক সপ্তাশ্চর্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ভিয়েতনামের হা লং শহরের নামে এই উপসাগরের নাম রাখা হয়েছে হা লং বে।

ভিয়েতনামী শব্দ 'হা লং' অর্থ 'ভূমিতে নেমে আসা ড্রাগন'। হা লং উপসাগরের আয়তন এক হাজার ৫৫৩ বর্গ কিলোমিটার। এই সম্পূর্ণ এলাকা জুড়ে প্রায় দুই হাজার পাথরের দ্বীপ রয়েছে। এগুলোর মধ্যে মাত্র দুটি বড় দ্বীপ আছে। 'তুয়ান চাউ' এবং 'কাট বা' হা লং উপসাগরের সবচেয়ে বড় দ্বীপ। এসব দ্বীপের মূল উপাদান হলো চুনাপাথর। ধারণা করা হয়, প্রায় ৫০ কোটি বছর আগে চুনাপাথরগুলোর সৃষ্টি হয়েছিল। উপসাগরে কিছু দূর পরপর গোলকধাঁধার মতো চুনাপাথরের পাহাড়ি দ্বীপগুলো ছড়িয়ে রয়েছে।

 হো চি মিন সিটি   ভিয়েতনামে বেড়াতে গেলে হো চি মিন সিটি দিয়েই ভ্রমণ শুরু করা উচিত। অত্যন্ত এই ব্যস্ত আধুনিক শহর ভিয়েতনামের বাণিজ্যিক কেন্দ্র। এখানকার রাস্তাঘাট, রেস্তোরাঁ, ক্যাফে, শপিং মল সবসময় বিদেশি পর্যটকে ভর্তি থাকে। হো চি মিন সিটির দর্শণীয় স্থানগুলি রয়েছে প্রধানত দং খাই শহরে। এখানকার অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান হল মিউজিয়াম। দেশের অতীতের ইতিহাস জানতে গেলে এখানে যেতেই হবে।

এছাড়াও উনিশ শতকের শেষে নির্মিত হওয়া গ্র্যান্ড নটর ডেম ক্যাথিড্রাল, ফরাসি উপনিবেশকালের বেশকিছু স্থাপত্যশিল্প, বৌদ্ধ এবং তাওবাদীদের বিখ্যাত জেড এম্পেরর প্যাগোডা দেখতে পাবেন এখানে। যদি শহরের মূল দুটি আকর্ষণই রয়েছে শহর কেন্দ্রের কিছুটা বাইরে। রিইউনিফিকেশন প্যালেস বা ইন্ডিপেন্ডেন্স প্যালেস। দক্ষিণ ভিয়েতনামের প্রেসিডেন্টের আবাসস্থল ছিল এটি।

১৯৭৫ সালের ৩০ এপ্রিল এখানেই দক্ষিণ ভিয়েতনামের যুদ্ধ থেমে যায়। ফলে ভিয়েতনামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন এটি। এবং দ্বিতীয় আকর্ষণটি হল ওয়ার রেমেনেন্টস মিউজিয়াম। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যদের নৃশংস এবং বর্বর অত্যাচারের চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এই জাদুঘরে।

 হুই   ঐতিহাসিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিয়েতনামের পুরোনো শহর হুই। প্রায় গোটা শহরজুড়েই ছড়িয়ে রয়েছে এনগুয়েন সাম্রাজ্যের প্রাচীন নিদর্শন। পারফিউম নদীর তীরে গড়ে ওঠা প্রাচীন ঘেরা ইম্পেরিয়াল এনক্লোজারের দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই কিলোমিটার। এনগো মন গেট, থাই হোয়া প্যালেস, ডিয়েন থো রেসিডেন্স, হল অফ মান্দারিনটার সিলিংয়ের চিত্রশিল্প আকর্ষণীয়। ইম্পেরিয়াল এনক্লোজারের প্রাচীরের বাইরের দৃশ্যও অসাধারণ। অপূর্ব সুন্দর পারফিউম নদীতে নৌকা চড়েই সাধারণত শহর দেখার ব্যবস্থা করা হয়। টু ডক সমাধিমন্দির, থিয়েন মু প্যাগোডা সহ দেখে নিতে পারেন অন্যান্য দর্শনীয় স্থান। উপরি পাওনা পারফিউম নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য।

 হ্যানয় হো চি মিন বাণিজ্যিক কেন্দ্র হলেও ভিয়েতনামের রাজধানী হল হ্যানয়। গোটা দেশের পরিচয় পেতে চাইলে এই শহরই হতে পারে সেরা স্থান। আর পাঁচটা শহরের মতো এই শহরও ব্যস্ত। শহরে গাড়ির সংখ্যা প্রচুর। তবে তাও সাবেকি এই শহর পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। ভিয়েতনামের প্রকৃত জীবনযাত্রা এখানেই দেখতে পাবেন। এখানকার প্রাচীন ওল্ড টাউন কোয়ার্টার দেখে মুগ্ধ হন পর্যটকরা। শহরের জাদুঘরগুলি ইতিহাসের প্রাচীন কথা বলে। দেশের শিল্পকলা প্রদর্শনশালা তথা মিউজিয়াম অফ এথনোলজি এবং ভিয়েতনাম ফাইন আর্টস মিউজিয়াম নামের দুটো বিশ্বমানের জাদুঘর রয়েছে এখানে। এছাড়াও হো চি মিনের সমাধিমন্দির একটি অবশ্য দর্শণীয় স্থান।

 মি সান ভিয়েতনামে মি সান শহরে প্রবেশ করলে মনে হবে যেন রূপকথার ঘুমন্ত অরণ্য নগরীতে ঢুকে পড়েছেন। পর্বত এবং জঙ্গলে ঘেরা ধ্বংসপ্রাপ্ত শহর মি সানের আরেক নাম মন্দির নগরী। শহরের নির্মাণ হয়েছিল চতুর্থ শতকে চাম যুগে। এটি হিন্দু প্রধান শহর। সপ্তম থেকে দশম শতক পর্যন্ত প্রাচীন হিন্দুধর্মীয় এই শহরটি বেশ ব্যস্ত নগরীই ছিল। এরপর থেকেই ক্রমশ লোকজন এই শহর পরিত্যাগ করতে থাকে। ত্রয়োদশ শতক থেকে এটি পুরোপুরিই পরিত্যক্ত নগরীতে পরিণত হয়ে যায়। শহরটিতে এখনও প্রায় কুড়িটির মতো মন্দিরের কাঠামো দাঁড়িয়ে আছে। সবগুলোই স্থাপত্যই তৈরি করা হয়েছিল ইট এবং বালির ব্লক দিয়ে। মন্দিরের স্থাপত্যশিল্পে এশিয়ার সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্ট। বিশেষ করে ভারত এবং মালয় সাম্রাজ্যের ছাপই স্পষ্ট। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় আমেরিকানরা এরকম বহু প্রাচীন নিদর্শন ধ্বংস করে দেয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত শহরটিই যেন এক আস্ত জ্বলজ্যান্ত ইতিহাস।

 হোই অ্যান   ভিয়েতনামের হোই অ্যান শহরটি পর্যটকদের জন্য একেবারে আদর্শ। প্রায় গোটা শহর জুড়েই ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে ঐতিহাসিক স্থাপত্য। এগুলির মধ্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় পুরাতন নগরীর ইমারতগুলি। পঞ্চদশ শতকের দিকে এই জায়গাটিকেই বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে জাপানি এবং চিনা ব্যবসায়ীরা ব্যবহার করতেন। এখানে ব্যবসা সংক্রান্ত বৈঠক সারতেন। শহরজুড়ে সেই ব্যবসায়ীদের আবাস স্থলগুলি এখনও বর্তমান। কোনও কোনওটি আবার মিউজিয়াম হিসেবেও ব্যবহার করা হয়। এই বাড়িগুলি ঘুরে ঘুরে দেখলে প্রাচীন দিনগুলিতে পৌঁছে যাবেন। অনেকটা আমাদের মুর্শিদাবাদের নানা ঐতিহাসিক স্থানগুলির মতো। হোই অ্যান শহরের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হল ট্র্যান ফু স্ট্রিটের পশ্চিমপ্রান্তের জাপানিজ ব্রিজটি। এর কাছেই রয়েছে ফুজিয়ান চাইনিজ কংগ্রেগেশনের অ্যাসেম্বলি হলটি। এছাড়াও শহরজুড়েই ছড়িয়ে-ছিটিয়ে আছে অসংখ্য ছোটোখাটো প্যাগোডা এবং মিউজিয়াম।

মেকং ডেল্টা   ভিয়েতনামের আরেকটি জায়গা যা সমস্ত পর্যটকদের পছন্দ তা হল মেকং ডেল্টা। এখানে আপনি স্থানীয় জীবনের সারমর্ম এবং বহিরাগততা তার সমস্ত মহিমায় অনুভব করতে পারেন। মেকং নদীর চ্যানেল, যখন এটি সমুদ্রে প্রবাহিত হয়, তখন শত শত সরু শাখা তৈরি করে। ভিয়েতনামীদের জন্য, এই স্থানটি ইউক্রেনীয়দের জন্য ডিনিপার বা মিশরীয়দের জন্য নীল নদের মতো পবিত্র। কিছু পর্যটক এখানে এক বা দুই দিনের জন্য আসে, অন্যরা এখানে এক সপ্তাহের জন্য শান্তভাবে খালের মধ্য দিয়ে সাঁতার কাটতে এবং স্থানীয় প্রাকৃতিক দৃশ্যের বন্য কোণগুলি অন্বেষণ করতে এখানে থাকে। মেকং ডেল্টায়, স্থানীয় বাসিন্দাদের বাড়ি, ভাসমান বাজার, বিদেশী ফলের বাগান এবং সেইসাথে একটি দ্বীপ যেখানে প্রকৃত নারকেল ক্যান্ডি উৎপন্ন হয় ভ্রমণকারীদের দ্বারা আকৃষ্ট হয়।

 ডালাট এবং মাউন্ট লংবিয়ান    দালাত ভিয়েতনামের অন্যতম সেরা এবং জনপ্রিয় রিসর্ট। তবে শহরেই, আপনার অবশ্যই মাউন্ট লংবিয়ান পরিদর্শন করা উচিত। এর উপর থেকে, ডালাট, উজ্জ্বল সবুজ পাহাড় এবং চারণভূমির একটি দুর্দান্ত দৃশ্য দেখা যায়। পর্বতটি রিসর্ট থেকে ত্রিশ মিনিটের ড্রাইভ এবং আগ্নেয়গিরির উত্সের পাঁচটি শিখরের শৃঙ্খলের মতো দেখায়। তাদের মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতা 2400 মিটার। আপনি লংবিয়ানের পর্যবেক্ষণ ডেকে যেতে পারেন, তবে আপনি কেবল পায়ে হেঁটে সর্বোচ্চ শিখরে যেতে পারবেন।