ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদে করোনার হানায় আক্রান্ত প্রিন্স চার্লস

আজবাংলা    নোভেল করোনা এ বার ঢুকে পড়ল ব্রিটেনের রাজপ্রাসাদেও। মারণ ভাইরাসে আক্রান্ত স্বয়ং প্রিন্স চার্লসই। এই মুহূর্তে স্কটল্যান্ডের বালমোরাল প্রাসাদে আইসোলেশনে রয়েছেন তিনি। তাঁর স্ত্রী ক্যামিলা, ডাচেস অব কর্নওয়ালেরও ডাক্তারি পরীক্ষা হয়েছে। তবে তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে। তিনিও গৃহ পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।বুধবার ক্ল্যারেন্স হাউসের এক মুখপাত্র বলেন,  ৭১ বছরের প্রিন্স চার্লসের দেহে করোনার মৃদু সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তবে তাঁর স্ত্রী ৭২ বছরের ডাচেস অফ কর্নওয়েলের কোনও সংক্রমণ ধরা পড়েনি। তাঁরা দুজনেই এখন স্কটল্যান্ডের বালমোরালে স্বেচ্ছা গৃহবন্দি রয়েছেন। রাজপ্রাসাদ বাকিংহান প্যালেস জানিয়েছে, গত ১২ মার্চ রানি এলিজাবেথ চার্লসের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। তবে রানিরও সংক্রমণের কোনও লক্ষণ নেই। তিনি সুস্থ আছেন। কার থেকে যুবরাজের সংক্রমণ হয়েছে তা জানা যায়নি। গত কয়েক সপ্তাহে তিনি বহু লোকের সঙ্গে দেখা করেছেন। তাদের মধ্যে কে আক্রান্ত তা জানা যায়নি। অন্যদের সঙ্গে তাঁর শেষ দেখাসাক্ষাৎ ১২ মার্চ লন্ডনের মেয়রের ভোজসভায়। তবে চার্লস এই সময়ে বাড়িতেই কাজ করেছেন ও অনেকের সঙ্গে আলাদা দেখা করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রিন্স অ্যালবার্টের সঙ্গে সাক্ষাতের পরও চার্লসের মধ্যে করোনার উপসর্গ দেখা দেয়নি। যে কারণে ১২ মার্চ বাকিংহ্যাম প্রাসাদেও যান চার্লস। এমনকি বেশ কিছু অনুষ্ঠানেও যোগ দিতে দেখা যায় তাঁকে। করোনার প্রকোপ এড়াতে সেখানে করমর্দনের বদলে সৌজন্য বিনিময়ের সময় হাতজোড় করে নমস্কার করেন চার্লস।তবে শারীরিক ভাবে কারও সংস্পর্শে না আসা সত্ত্বেও করোনায় আক্রান্ত হওয়ার নজির রয়েছে। বাকিংহ্যাম প্রাসাদের অন্দরে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। তবে রানি এলিজাবেথ এই মুহূর্তে বাকিংহ্যাম প্রাসাদের বাইরেই রয়েছেন। ব্রিটেনে করোনা হানা দেওয়ার কিছু দিন পরই স্বামী প্রিন্স ফিলিপের সঙ্গে উইন্ডসর প্রাসাদে সরে যান তিনি। ছেলেমেয়েদের নিয়ে অ্যামনার হলে রয়েছেন প্রিন্স উইলিয়াম এবং ডাচেস অব কেমব্রিজ কেট। গোটা বিশ্বে হু হু করে বাড়ছে করোনায় আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা। ব্যতিক্রমী নয় ব্রিটেনও। এখনও পর্যন্ত সে দেশে আট হাজারেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪২২ জন। এমন পরিস্থিতিতে রাজপরিবারে করোনা থাবা বসানোয় সুরক্ষা আরও জোরদার করা হয়েছে।