করোনা ভাইরাস এবং লকডাউন , জানালেন জেলার বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বরা

 অরিত্র ঘোষ, আজবাংলা। , বীরভূম    দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর ভাবে চলছে কোভিড-১৯, করোনার ভাইরাসের আতঙ্ক। চলছে লকডাউন। বিপর্যস্ত হয়েছে সাধারণ জীবনযাপন। এরকমই এক পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস এবংলকডাউন সমন্ধে জানালেন জেলা কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। জানালেন সচেতনতার কথা। পেশাগত ভাবে কেউ অধ্যাপক, কেউবা সমাজকর্মী আবার কেউবা নাট্যবিদ তথা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। আসুন দেখে নেওয়া যাক কি বললেন তারা..... ১)মলয় ঘোষ, শিক্ষক ও বিশিষ্ট নাট্যব্যক্তিত্ব করোনা ভাইরাসের প্রকোপ থেকে বাঁচতে আজ আমাদের গৃহবন্দী থাকতে হবে , যার নাম লক ডাউন। যথাসম্ভব এই নির্দেশকে মেনে চলতে হবে আমাদের, অথচ আমাদের সমাজের অনেকেই এই সিদ্ধান্তকে মানছেন না। আশ্চর্য বিষয় অনেকে ধর্মের দোহাই দিয়ে, অনেকে অহেতুক প্রয়োজনের দোহাই দিয়ে, অনেকে শুধুমাত্র ঘরে না বসে থাকার সংযমহীনতায় লকডাউন কে ভাঙছেন এবং সর্বনাশ করছেন আমার আপনার এবং তাদের নিজেদেরও। সবচেয়ে বড় কথা এত দিনেও আমরা বুঝলাম না যে প্রথাগত ভাবে যে ধর্মীয় আচরণ আমরা করি, তা শুধু সময় কাটানো ছাড়া আর কিছু নয়। রবীন্দ্রনাথ তাঁর 'ধর্মের অধিকার ' প্রবন্ধে বলেছেন - "ধর্মের বিকারে গ্রিস মরিয়াছে, ধর্মের বিকারেই রোম বিলুপ্ত হইয়াছে এবং আমাদের দুর্গতির কারণ আমাদের ধর্মের মধ্যে ছাড়া আর কোথাও নাই।" এই ধর্ম অবশ্যই আচার সর্বস্ব 'আন আপডেটেড সেকেলে ধর্ম'। রবীন্দ্রনাথের ঐ কথাগুলি আজ এই লক ডাউনের মূহুর্তে যেন খুব বেশি মনে হচ্ছে প্রাসঙ্গিক। আসুন সবাই গৃহবন্দী হয়ে বসে থেকে ভেঙে দিই চেন। আর কল্পিত ঈশ্বর কে গুড বাই জানিয়ে এবার বিজ্ঞানমনস্ক হয়ে মানুষকে ভালবাসতে শিখি। তাহলেই আমাদের জয় অবশ্যাম্ভাবী হবে। ২) প্রতিভা গাঙ্গুলী, শিক্ষিকা ও সমাজসেবিকা দাপুটে ভাইরাস করোনা, বেঁধেছে আষ্টেপৃষ্ঠে " করোনা" বর্তমান পরিস্থিতিতে আমাদের কাছে সবথেকে পরিচিতি একটি নাম । যদিও এই নামটি কোন ব্যক্তি বা বস্তুর নয়, এ হলো এক শক্তিশালী ভাইরাস। যার অর্থ মুকুট। তবে মুকুটের সৌন্দর্য নিয়ে নয় বরং তীক্ষ্ণ নোখের মতোই আঁচড় বসিয়েছে আমাদের দেশ তথা রাজ্যে। জাতীয় জীবনে ডেকে এনেছে চরম বিপর্যয়। চীনের উহান প্রদেশে প্রথম এই ভাইরাসের আবির্ভাব ঘটেছিল। পরবর্তীকালে পৃথিবীর অন্যান্য দেশের মতো আমাদের ভারতবর্ষেও বসিয়েছে থাবা। করোনা ভাইরাসের দাপটে দেশবাসী আজ শোচনীয় পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে দিন কাটাচ্ছে। ভাইরাসের সংক্রমণে মানুষের শরীরে যেমন ঘটছে রোগের প্রাদুর্ভাব, তেমনি আবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষ । এমনই এক সংকটময় মুহূর্তে এই ভাইরাসের হাত থেকে সমগ্র দেশবাসীকে বাঁচানোর উদ্দেশ্যে শুরু হয়েছে লকডাউন। চরম সংকটের মধ্যে অতিবাহিত হচ্ছে মানব সভ্যতা। আমরা যেন টালমাটাল পায়ে অনিশ্চয়তার দিকে হেটে চলেছি সময়ের হাত ধরে। "দিন আনি দিন খায়" মানুষগুলো হতাশা আর যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে সামিল হয়েছে এই চরম যুদ্ধে। সমগ্র মানব সভ্যতা আজ গৃহবন্দী। থমকে গেছে অগ্রগতির চাকা। প্রতিটি মানুষের জীবনে যেন এই মারণ ভাইরাস ডেকে এনেছে অভিশাপ। অন্ধকার কালো ছায়া ঘনিয়ে এসেছে জাতীয় জীবনে। তবুও এরই মাঝে আশাবাদী হতে হবে আমাদের। সতর্কতা আর সচেতনতা কে সাথে নিয়ে অপেক্ষা করতে হবে নতুন ভোরের। নিজেদের দায় ও দায়বদ্ধতা কে মাথায় নিয়ে পার হতে হবে এই সংকট ময় পরিস্থিতি । ৩)অংশুমান চট্টোপাধ্যায়, অধ্যাপক (প্রাণীবিদ্যা বিভাগ ), বিশ্বভারতী করোনা ভাইরাস সংক্রমণের প্রধান সমস্যা হলো যে কোনো আক্রান্ত মানুষ দু থেকে পাঁচ দিনের মধ্যে ওই ভাইরাস অন্য মানুষ কে সংক্রামিত করতে পারে অথচ সে সময় তার নিজের শরীরে ওই ভাইরাস সংক্রমনের এর কোনো লক্ষণ প্রকাশ পায় না । আর সংক্রমণ হওয়ার জন্য কাছাকাছি থাকাটা সবচেয়ে সহজ উপায় । এই সংক্রমণ এড়ানোর জন্য যেভাবেই হোক মানুষের ভিড় এড়াতে হবে । তাই সরকার বাধ্য হয়ে লকডাউন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।সারা বিশ্বেই এই পথ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সকলকেই বুঝতে হবে নিজের ও সকলের বেঁচে থাকার জন্য এই কদিন ঘরের মধ্যে থাকার কষ্ট আমাদের সকলকেই মেনে চলতে হবে।