জনমত : করোনা ও লকডাউন

অরিত্র ঘোষ, আজবাংলা, বীরভূম    দেশজুড়ে ভয়ঙ্কর ভাবে চলছে কোভিড-১৯, করোনার ভাইরাসের আতঙ্ক। চলছে লকডাউন। বিপর্যস্ত হয়েছে সাধারণ জীবনযাপন। এরকমই এক পরিস্থিতিতে করোনা ভাইরাস এবংলকডাউন সমন্ধে জানালেন জেলা কিছু বিশিষ্ট ব্যক্তিরা। জানালেন সচেতনতার কথা। পেশাগত ভাবে কেউ শিক্ষিকা কেউবা সাধারণ ছাত্রী এবং সমাজকর্মী। আসুন দেখে নেওয়া যাক কি বললেন তারা..... ১)দেবস্মিতা চ্যাটার্জ্জী বিশ্বভারতীর পড়ুয়া, সমাজকর্মী আমরা শুনেছি 'ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ' দেখলে ভয় পায়। ওই মেঘ তার কাছে কোনো এক অনাগত বিপদের হাতছানি দেয়। যা সে অভিজ্ঞতায় বুঝতে পেরে নিরাপদ স্থানে ফিরতে চায়। আমাদের ঘরের আঙিনাতেও তো করোনার করাল ছায়া। সিঁদুরে মেঘ অদূরে। আমরা সতর্ক হব না? যে করোনা ভাইরাস গোটা বিশ্বে প্রতিদিন হাজার হাজার প্রাণ কাড়ছে, তাকে ভয় পাব না? আজ্ঞে হ্যাঁ, ইউরোপ, আমারিকার মতো প্রথম বিশ্বও যে ভাইরাস মোকাবিলায় হিমসিম খাচ্ছে, সেখানে আমার আপনার হলে কী হতে পারে ভেবেছেন? হাসপাতালে আইসিইউ বেড তো দূর, একটা জেনারেল বেডও পাবেন? নাহ, বারান্দাও জুটবে না। আর এটাও মনে রাখতে হবে, আমাদের জেলা, রাজ্য হোক বা দেশে ঠিক আজকের দিনে করোনা আক্রান্ত কত তা জানা যাবে আরো ১৪ দিন পরে। ভাবুন একবার! এখন বাঁচাতে পারে একমাত্র লক-ডাউন। সেটা কত দিন চলবে, আরো বাড়লে কী ভাবে বাড়ানো হবে সেটা প্রশাসন, সরকার ঠিক করুক। স্বাভাবিক দামে যোগান রাখতে হবে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনেসেরও। কেউ যেন খালিপেটে না থাকেন৷ দেখতে হবে সেটাও। এ সব বিচার করেও লকডাউন জরুরি। সেটাই একমাত্র পথ্য। তা ছাড়া জরুরি প্রয়োজনে বেরোতে তো কোনো বাধা নেই। আর মনে করিয়ে দিই, লক-ডাউন না মানলে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা আইন ২০০৫-এর ৫১ থেকে ৫০ ধারা এবং ভারতীয় দণ্ডবিধি (আইপিসি)-র ১৮৮ ধারা মেনে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ জারি আছে। এই সমস্ত ধারা অনুযায়ী লক ডাউন ভাঙার কারণ হিসেবে মিথ্যে দাবি করলে দু’বছর পর্যন্ত জেল এবং জরিমানা হতে পারে। লকডাউন বলবতে বাধা দিলে শাস্তি দু’বছর পর্যন্ত জেল। অতএব সাধু সাবধান... ২)নম্রতা ভট্টাচার্য্য শিক্ষিকা(পাঠভবন, বিশ্বভারতী) সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব 'গৃহবন্দী' এই শব্দখানির একটি ছায়া-ছবি মাত্র এতদিন মানুষের মনের ভিতর কোথাও একটা আলগা হয়ে ঝুলে ছিলো,আজ করোনা ভাইরাসের দাপুটে সাম্রাজ্যে তাকে গলাধঃকরণ করলো বিশ্ববাসী।এর আগ্রাসী মারণ দাপট এড়াতে এ ছাড়া আর অন্য কোনও গতি দেখেন নি World Health Organization (WHO). একে অপরের থেকে দূরে থেকে,মানুষের সংসর্গ এড়িয়ে বাঁচতে হবে মানুষকে সেও মানুষের জন্যই।ছোট থেকে মা ঠাকুমার থেকে পাওয়া শিক্ষা হঠাৎ কেমন বিবর্ণ লাগতে থাকে।আজ বিশ্ববাসীর সামনে খুলে গিয়েছে শিক্ষার এক নতুন দ্বার,একসাথে বাঁচার সূক্ষ অর্থ হয়তো ভিন্ন,দূরত্ব তো আসলেই শারীরিক,মনের নয়!মানবতা আজ যখন ধ্বংসের মুখে,বিলাসের বহুলতা নিয়ে প্রশ্নের মুখে তখন এই মানুষই দেখিয়ে দিচ্ছে তারা গৃহবন্দী হলেও তাদের মন বাঁধা নয় কোথাও।নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখেও আজ একে অপরের পাশে এসে দাঁড়াচ্ছে সেই মানুষই,মোকাবিলা করছে এই মারণ রোগের।প্রকৃতি আজ আবার একবার শিখিয়ে দিলো যে একের সাবধানতা দশের কল্যান,প্রত্যেককে বাঁচতে হবে প্রত্যেকের জন্য।এছাড়া মানবজাতির আর কোনও গতি নাই।