রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিষ্টে শিশু অদলবদল খবর শুনেই মারা গেলেন মা অভিয়োগ পরিবারের

Rāẏagañja supāra spēśāliṣṭē śiśu adalabadala
রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিষ্টে শিশু অদলবদল

তন্ময় দাস,আজ বাংলা,উত্তর দিনাজপুর :সদ্যজাত ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে নিজের জীবন হারালেন য়ে মা পেটে ডাক্তারি মতে নয় মাস দশ দিন গর্ভে সন্তান নিয়ে এসেছিলেন। আশা করেছিলেন নিজের হাতে আর ৫ জনের মতো নজের সন্তান কে মানুষ করবেন কিন্তু তা আর হয়ে উঠল না ছেলের খবর কানে আস্তেই জীবন য়েন থমকে গিয়েছি । গর্ভের সন্তান কে নিয়ে এসেছিলেন নব দ্বিগন্তের আলো দেখাবেন কিন্তু আভিশপ্ত রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিষ্ট নামক হাসপাতালে সব স্বপ্ন শেষ করে দিল। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সেই স্বপ্নের হাসপাতালে ৩ নার্স এর কারনে অকালে প্রান গেল মায়ের জানা য়ায় উত্তর দিনাজপুর জেলার পার্শ্ববর্তী রাজ্য বিহার এর বারসই থানার বেতনা গ্রামের ঘোড়াঠিয়া এলাকার বাসিন্দা সাবানা খাতুন সদ্যজাত পুত্র জন্ম দেন সন্তানের মৃত্যুর খবর পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে সিসিইউতে ভর্তি রাখা হয় তাকে। বুধবার সকালে মৃত্যু হয় মা সাবানার।
য়দিও হাসপাতাল সুপার গৌতম মণ্ডলের দাবি, বিহারের সাবানা খাতুন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন সাবানা খাতুন। সন্তান প্রসবের পর তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে তার পর মৃত সন্তান প্রসব হওয়ার খবর পেয়ে মানসিকভাবেও ভেঙে পড়েছিলেন তিনি। উল্লেখ্য সাবানা খাতুন প্রসব যন্ত্রণা নিয়ে ভর্তি হয় শুক্রবার রাতে রায়গঞ্জ সুপার স্পেশালিষ্ট হাসপাতালে সেইদিন করণদিঘি থানার রারিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা খাতুনও প্রসব যন্ত্রনা নিয়ে ভর্তি হয় হাসপাতালে। এক রাতে দু-জনরই পুত্র সন্তানের জন্ম দেন, সদ্যজাত শিশুদের শ্বাসকষ্ট হওয়ায় দু-জনকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে এসএনসিইউ বিভাগে। শনিবার সন্ধ্যায় বিহারের বাসিন্দা মৃত সাবানা খাতুনের সদ্যজাত শিশুর মৃত্যু হয়। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ভুল বসত মৃত সদ্যজাত শিশু তুলে দেয় করণদিঘি থানার রারিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাবিনা খাতুনের স্বামী কুতুব আল ইসলামি মতে তারা নিজ সন্তান ভেবে ভুল বসত গ্রামে নিয়ে গিয়ে কবর দেয়। । সাবানার স্বামী ও দেওয়র আনসার আলি এই ঘটনার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে দায়ী করেছিলেন।
জীবিত শিশু জন্ম দেওয়ার পরেও তুলে দেওয়া হয়েছিল মৃত সন্তান। রেজিস্টার খাতায় নাম নতিভুক্ত করার পড়েরও ঘটে গেল বিশাল ভুল য়ে মা জীবিত শিশুটিকে জন্ম দিলেন সেই মা এর কলে তুলে দিলেন মৃত শিশু ।রেজিট্রারের খাতায় নাম নতিভুক্ত থাকার পরেও কি করে জীবন নয়ে খেলা সন্তনের মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রান হারালেন মা নামনতিভুক্ত থাকার পরেও কি করে এই ভুল করলেন নার্স?
রেজিট্রারের খাতায় নামের বিভ্রান্তির জেরে সদ্যজাত শিশু বদলের অভিযোগ উত্তাল হয়েছিল উত্তর দিনাজপুর জেলার রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতাল। কাটিহার জেলার ঘরাটিয়া এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার আলমের স্ত্রী সাবানা খাতুন গর্ভাবতী অবস্থায় রায়গঞ্জ জেলা হাসপাতালে ৬ই জুন ভর্ত্তি হয়। পরিবার সুত্রে জানা য়ায় সাবানা খাতুন রাত আটটার নাগাদ একটি পুত্র সন্তান জন্ম দেয় । সন্তান জন্ম দেওয়ার পর সাবানা খাতুন ও তার পুত্র সন্তানে শারিরীক অবস্থা আবনতি হয়। ডাক্তারবাবুরা সাবানাকে আই সি ইউ ও তার সদ্যজাত শিশুকে এস এন সি ইউতে ১০ নম্বর বেডে রাখা হয়। অন্যদিকে এস এন সি ইউতেই ১৫ নম্বর বেডে সাবিনা খাতুন নামে এক রোগীর সদ্যজাত শিশুর ভর্তি ছিল।  সাবানা খাতুনের পরিবার বারংবার তাদের সদ্যজাত পুত্র শিশুর অবস্থা কেমন আছে জানতে গেলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের সাথে খারাপ ব্যাবহার করে ও শিশু কেমন আছে সে ব্যাপারেও কোন কিছু বলতো না।
তিনদিন পেরিয়ে যাবার পর রবিবার পরিবারের পক্ষ্য থেকে পুনরায় শিশুর অবস্থা জানতে চাইলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় গত ৮ই জুন শিশু মারা গিয়েছে। এরপর পরিবার মৃত শিশুর দেহ তাদের হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দাবী জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কোন কথা না বলায় দারস্থ হয়েছিলেন রায়গঞ্জ থানায় ঘটনার তদন্তে নেমে পুলিশ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের জানায়, শিশুর মৃতদেহ টি সাবানার পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। য়দিও এই ঘটনার পর সাবানার পরিবার জানায় তারা কোন শিশুর মৃতদেহ পাননি। পরে হাসপাতালের রেজিট্রার খাতা দেখে জানতে পারে সাবানা খাতুনের পরিবারের জায়গায় সাবিনা খাতুনের পরিবারের হাতে তুলে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মৃত শিশুকে নিয়ে নিজসন্তান ভেবে মা সাবিনা নিয়ে চলে যান নিজের বাড়িতে।
পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নামের বিভ্রান্তির জেরেই এই শিশু বদলের ঘটনা । অন্যদিকে সাবিনা খাতুন যে মৃতশিশু নিয়ে বাড়ি গিয়েছে সেই সদ্যজাত শিশু টি সবানা খাতুনের। সাবিনার শিশু হাসপাতালেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৫ নম্বর বেডে রয়েছিলেন কিন্তু সন্তান মারা য়াওয়ার ঘটনা শুনে তার সব শারীরিক অবস্থা বিকল হয়ে পড়ে তার পরেই তিনি মারা য়ান । এই ঘটনার জেরে যদিও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ঘটনায় ৩ জন নার্সকে শোকজ করে এবং শিশু বদল কাণ্ডে তদন্তের নির্দেশ দেন জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ প্রকাশ কুমার মৃধা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের দাবি মতো প্রসব হওয়া মৃত সন্তানকে হাতে না পেয়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন সাবানা খাতুন। তার শরীরের একাধিক অঙ্গ বিকল হয়ে পড়ে। মঙ্গলবার রাতেই তার মৃত্যু হয় বলে দাবি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের।।