হুগলী শ্রীরামপুরের জাগ্রত শ্রীরাধাবল্লব জিউয়ের মন্দির কাহিনী

হুগলী শ্রীরামপুরের জাগ্রত শ্রীরাধাবল্লব জিউয়ের মন্দির কাহিনী

আজবাংলা হুগলী         এই প্রাচীন মন্দিরটি অবস্থিত হুগলী জেলার শ্রীরামপুরে | শ্রীরামপুর স্টেশনে থেকে ২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত বল্লবপুর | সেখানেই এই মন্দিরটি গোড়া হয়েছে | ওই অঞ্চলটি রাধাবল্লবের নামেই বল্লবপুর বলে পরিচিত | কথিত আছে শ্রীরামপুরের পার্শবর্তী চাতরা নিবাসী বৈষ্ণবচূড়ামণি, শ্রীচৈতন্য পরিকর, পন্ডিত কাশীশ্বরের বড় ভাগ্নে এই রাধাবল্লভজিউয়ের বিগ্রহটি প্রতিষ্টা করেছিলেন |

  জানা যায়, ভক্তদের সহযোগিতায় ১৬৭৭ সালে রাধাবল্লভজিউয়ের একটি আটচালা মন্দির গড়ে তোলেন রুদ্রনাম | পরবর্তী কালে গঙ্গার ভাঙ্গনের কারণে মন্দির দেখা যায় ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভবনা আছে | সেই কারণে রাধাবল্লভজিউয়ের বিগ্রহটির স্থান পরিবর্তন করা হয় এবং মন্দিরটি পরিত্যক্ত হয় | পরিত্যক্ত মন্দিরটি কিছু সময়ের জন্য গির্জা হিসেবে চলেছিল |

পাদ্রি হেনরি মার্টিন বেশ অনেকদিন এই স্থানে বসবাস করেছিলেন | তারপরেই শ্রীরামপুরে একাধিক গির্জা নির্মিত হয় তারফলে এটির প্রয়োজন আসতে আসতে শেষ হতে থাকে | জানা যায় এক-সময় এখানে মদ তৈরিও হতো | বেশ কিছুদিন পর পশ্চিমবঙ্গ সরকার এই জায়গাটিকে নিজের দখলে নিয়ে নেন তারপরেই নতুন করে আবার সংস্কার করেন | কিন্তু গঙ্গার ভাঙ্গনের কারণে মন্দিরটি আবার পরিত্যক্ত হয়ে যায় | বর্তমানে দূর থেকে এটিকে চেনা যায় না | কাছে গেলে তবেই বোঝা যায় এখানে মন্দিরটি ছিল |

বর্তমানে সকলে যেই নতুন রাধাবল্লভজিউয়ের মন্দিরটি দেখতে পান সেটি নির্মাণ করেছিলেন কলকাতা নিবাসী নয়ন চাঁদ মল্লিক | ১৭৬৪ সালে নতুন করে মন্দিরটি নির্মাণ করেন তিনি | তার পুত্র নিমাই চরণ মল্লিক বিগ্রহটি নিত্যসেবার জন্য সব রকম ব্যবস্থা করেন | তারপর থেকেই এখনও অবধি নিত্যসেবা চলছে | মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে দক্ষিনমুখো | মন্দির চারদিকে ঘেরা রয়েছে বারান্দা | মন্দিরের সামনেই রয়েছে নাটমন্দির | গর্বগৃহে রয়েছে শ্রীরাধাবল্লব ও শ্রীরাধার বিগ্রহ | শ্রীরাধাবল্লবের মূর্তিটি কালো কষ্টিপাথরের | তার পাশেই আরেকটি ঘরে বিরাজ করছেন শ্রীশ্রী জগন্নাথ দেব, শ্রীশ্রী বলরাম দেব এবং সুভদ্রা দেবী |

  এখন নিয়মিত ভাবে মানুষ যাতায়াত করেন এই মন্দিরটিতে | সকল দেব-দেবীর পূজা হয় সকাল-বিকেল | অনেক সময় এই মন্দিরে বিয়ে থেকে শুরু করে বাচ্চাদের অন্নপ্রাশনের ব্যাবস্থাও করা হয় | মন্দিরের উল্টোদিকে নাটমন্দিরে ব্যবস্থা করা হয় ভোগের | সেই খানেই মানুষ বসে ভোগ খান | এই মন্দিরটিতে আসতে হলে আপনাকে হাওড়া থেকে ট্রেনে উঠে নামতে হবে শ্রীরামপুর স্টেশনে | সেখান থেকে অটো বা টোটো নিয়ে পৌঁছতে হবে বল্লবপুরে | শ্রীরামপুরের ঠাকুরবাড়ি স্ট্র্রীট ধরে একটু হাঁটলেই পেয়ে যাবেন এই মন্দিরটি |