ভারতীয় সংস্থাগুলিকে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে 'সহানুভূতিশীল হতে বললেন রতন টাটা

ভারতীয় সংস্থাগুলিকে কর্মী ছাঁটাই নিয়ে 'সহানুভূতিশীল হতে বললেন রতন টাটা
আজবাংলা     লকডাউনের মধ্যে ভারতীয় সংস্থাগুলি যেভাবে বিপুল সংখ্যায় কর্মী ছাঁটাইয়ের পথে হেঁটেছে, তার নিন্দা করলেন শিল্পপতি রতন টাটা৷ ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেছেন, এর থেকেই বোঝা যায় যে ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্য সহানুভূতির অভাব রয়েছে৷ কোভিড অতিমারীর মাঝে কর্মী ছাঁটাই ভারতীয় সংস্থাগুলির নেতৃত্বে সমবেদনার অভাব সুস্পষ্ট করেছে, অভিযোগ বর্ষীয়ান শিল্পপতি রতন টাটার। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই অভিমত প্রকাশ করেছেন। সংবাদ ওয়েবসাইট ‘ইওর স্টোরি’-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রতন টাটা বলেন, ‘এই মানুষগুলি তোমার জন্য কাজ করেছেন। নিজেদের গোটা কর্মজীবন তোমার জন্য তাঁরা ব্যয় করেছেন। আর আজ তাঁদেরই তুমি বৃষ্টির মধ্যে ঘরের বাইরে বের করে দিলে। নিজের কর্মীদের প্রতি এই আচরণই কি তোমার নৈতিক সংজ্ঞা?’ রতন টাটাক টাটা গ্রুপ ব্যতিক্রম হলেও দেশের বহু সংস্থা কোভিড অতিমারীর কারণে আয় কমে যাওয়ার যুক্তি দেখিয়ে হাজার হাজার কর্মীকে ছাঁটাই করেছে। তুলনায় উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের ২০% বেতন ছাঁটলেও বিরাট লোকসান হজম করেও কর্মী সংখ্যা কমানোর পথে হাঁটেনি টাটা গ্রুপ-এর অধীনস্থ কোনও সংস্থা। সাক্ষাৎকারে রতন টাটা বলেছেন, ‘যেখানেই থাকো, Covid-19 তোমাকে আঘাত হানবেই। সেই সঙ্গে গ্রাহক ও অংশীদারদের ক্ষেত্রে সব সময় সঠিক ও নৈতিক পদক্ষেপ করতে হবে। যে কারণেই হোক, টিকে থাকার জন্য নিজের ভালো-মন্দ বিচারের মাণদণ্ড সময় সময় বদলাতে হবে। কিন্তু নিজের লোকেদের প্রতি অসংবেদনশীল হলে কোনও সংস্থার টিকে থাকা মুশকিল।’তিনি বলেছেন, ‘সকলেই লাভের পিছনে দৌড়োয়, কিন্তু প্রশ্ন হল কতটা নীতিগত ভাবে নিখুঁত হয়েছে তোমার গোটা সফর। 11 শুধুমাত্র অর্থ রোজগারের জন্য নয়। সব দিক বিচার করে ঠান্ডা মাথায় সিদ্ধান্ত নেওয়াই সেখানে গুরুত্বপূর্ণ।’টাটার মতে, 11য় ভুল হতেই পারে। কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, সংকটে পড়লে পালিয়ে না গিয়ে সঠিক সময় সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ। প্রবীণ শিল্পপতি বেলছেন, অতিমারীর জেরে দেশব্যাপী লকডাউন ঘোষণা হওয়ায় বাড়ির বাইরে বেরোতে না পারাই তাঁর সবচেয়ে বিরক্তিকর লেগেছে। তবে তাঁর দাবি, ‘এখানে প্রমোদতরী, প্রাসাদ বা বিশাল সম্পত্তি বিবেচ্য নয়। তার চেয়ে অনেক দামি নিজের সমভাবাপন্ন মানুষদের সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত থাকা। এই বিষয়টিই আমাকে সবচেয়ে কষ্ট দিয়েছে।’ প্রবীণ এই শিল্পপতিকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, গোটা লকডাউন পর্বে সবথেকে বেশি তিনি কোন জিনিসটির অভাব বোধ করেছেন? জবাব দিতে গিয়ে রতন টাটা বলেন, মার্চ মাস থেকে গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন৷ বাইরে বেরিয়ে সমমনোভাবাপন্ন মানুষের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না, আর এই জিনিসটিই তিনি ভীষণ ভাবে মিস করছেন৷