এলআইসি-র ক্লার্ক থেকে ধর্মগুরু কল্কি ভগবান।আশ্রম থেকে উদ্ধার ৫০০কোটির বেআইনি সম্পদ।

কল্কি ভগবান ও স্ত্রী পদ্মাবতী
কল্কি ভগবান ও স্ত্রী পদ্মাবতী

আজবাংলা ১৯৮০ সালে নিজেকে ধর্মগুরু বলে দাবি করে জিবাশ্রম প্রতিষ্ঠান তৈরি করেছিলেন কল্কি। নয়ের দশকে নিজেকে ভগবান বিষ্ণুর দশম অবতার কল্কি বলে দাবি করেন। অতীতে তিনি জীবনবিমার এক কেরানি ছিলেন। এক ও অখণ্ড দর্শনের মতবাদ প্রচার করাই ছিল তাঁর গোষ্ঠীর লক্ষ‌্য। বিশ্বজুড়ে কল্কি ভগবানের ভক্তের সংখ‌্যা প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ। তাঁর দর্শন প্রচারের জন‌্য বিদেশ থেকে প্রচুর অর্থ আসতে থাকে তাঁর কাছে। এই সব টাকার কোনও রসিদও দেওয়া হত না। এই সমস্ত অর্থের কোনও কর দিতেন না কলকি। শুক্রবার আয়কর দপ্তরে জানানো হয়, চেন্নাই, হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরু, চিত্তুরে কল্কি ভগবান নামে ওই ধর্মীয় গুরুর প্রায় ৪০টি আশ্রমে অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকেই এই বিপুল পরিমাণ আয়বহির্ভূত অর্থ উদ্ধার করা হয়েছে।উদ্ধার হয়েছে হিসাববহির্ভূত ৮৮ কেজির সোনা ও ১২৭১ ক‌্যারেটের হিরের গয়না ও রত্ন। সোনার মূল‌্য আনুমানিক ২৬ কোটি ও হিরের মূল‌্য পাঁচ কোটি।আশ্রম থেকে উদ্ধার হল প্রায় ৫০০ কোটি মূল্যের বেআইনি সম্পদ। এর মধ্যে নগদ ৯৩ কোটি টাকা। আমেরিকান মুদ্রায় ১৮ কোটি টাকা। যিনি নিজেকে কলি যুগের কৃষ্ণ বলে থাকেন, সেই ‘কল্কি ভগবান’-এর আসল নাম বিজয় কুমার। বরাবরই তাঁর আত্ম্যাধিক বিষয়ে ঝোঁক ছিল। আশির দশকের মাঝামাঝি তিনি চাকরি ছেড়ে চিত্তুরে একটি স্কুল খোলেন। নাম দেন ‘জিবাশ্রম’। তাঁর শিষ্যদের আধ্যাত্মিক পাঠ দিতেন তিনি। ক্রমে তাঁর শিষ্যের সংখ্যা বাড়তে থাকে। চিত্তুরে তিনি ‘ওয়াননেস’ নামে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ও খুলে ফেলেন। প্রচুর সেলিব্রিটি এবং বড় ব্যবসায়ীও তাঁর শিষ্য হয়ে যান।যদিও পরে প্রবাসী ভারতীয় ও বিদেশিদের মধ্যে দর্শন ও আধ‌্যাত্মবাদের প্রচার করে জনপ্রিয়তা লাভ করেন। তামিলনাড়ুতে ভক্তদের জন‌্য ‘ওয়াননেস ইউনিভার্সিটি’ নামে একটি ধর্ম শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও তৈরি করেন। ভক্তদের কাছে তিনি শ্রী ভগবান নামেই পরিচিত। তাঁর এই ইউনিভার্সিটির ক্লাসে এক সময় নিয়মিত যেতেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন, শিল্পা শেট্টি, মণীষা কৈরালা।দেশ-বিদেশে তাঁর যাবতীয় আশ্রমের অ্যাকাউন্ট দেখভালের দায়িত্বে ছিলেন স্ত্রী পদ্মাবতী এবং ছেলে এনকেভি কৃষ্ণ।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!