রানীগঞ্জের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার দোষ কার? রাজ্যে মৃত তিন ।

responsible for the communal riots in Raniganj?
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম
responsible for the communal riots in Raniganj?
সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম

আজবাংলা রানীগঞ্জ     জ্ঞানত রানীগঞ্জের বুকে এইরূপ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা দেখিনি কেউ ।  অগ্নিগর্ভ রাণীগঞ্জ, সোমবার রানিগঞ্জে রামনবমীর মিছিলকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা . সংঘর্ষে প্রাণ হারান এক যুবক। ওই সংঘর্ষ থামাতে গিয়ে বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়েছেন আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনারেটের ডিসি (সদর) অরিন্দম দত্তচৌধুরী। ইটের ঘায়ে পায়ে চোট পান এসিপি (‌সেন্ট্রাল) অজয় চট্টোপাধ্যায়। মাথা ফেটেছে রানিগঞ্জ থানার ওসি প্রমিত গঙ্গোপাধ্যায়েরও। রবিবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার কাঁকিনাড়ায় রামনবমীর মিছিলে গোলমাল হয়েছিল। দু’পক্ষের সংঘর্ষে আহত এক ব্যক্তি  সেদিনই মারা গিয়েছেন। রবিবার পুরুলিয়ায় মারা গিয়েছিলেন আরও এক জন। পুলিশের দাবি, রামনবমীকে কেন্দ্র করে গোলমালের জেরে এখনও পর্যন্ত তিন জনের মৃত্যু হয়েছে। জখম হয়েছেন আরও অনেকে।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এ দিন সকাল সাড়ে ন’টা নাগাদ রানিগঞ্জের হিলবস্তি থেকে একটি শোভাযাত্রা বের হয়। রাজারবাধ মোড়ে কয়েকজন ঘটনার সূত্রপাত এ দিন সকাল সাড়ে নটা নাগাদ হিলবস্তি থেকে একটি ডিজে সহ শোভাযাত্রা বের হয়। একটি বিশেষ গান বাজানোকে কেন্দ্র করে রাজার বাঁধ মোড়ে বেশকিছু মুসলমান যুবকের সঙ্গে শোভাযাত্রায় সামিল যুবকদের প্রথমে বচসা ও পড়ে সংঘর্ষের রূপ নেয়। জানা গেছে গানটিতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে কিছু মন্তব্য করা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উভয়পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়।  কিছুক্ষণের মধ্যেই একটি বাড়িতে আগুন দেওয়াকে কেন্দ্র করে রানিগঞ্জে উত্তেজনা ছড়িয়ে যায়। দুপুরে আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি হিলবস্তি এলাকায় গেলে ঘেরাও-এর মধ্যে পড়েন। বিকেল তিনটে নাগাদ আসানসোলের বিজেপি সাংসদ তথা মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয় হিলবস্তি এলাকায় যেতে গেলে, তাঁর পথ আটকায় পুলিশ। বাবুল বলেন, “১৪৪ ধারা জারি থাকায় ঘটনার কেন্দ্রস্থলে যেতে পারিনি।’’ তবে তিনি বিকেলে হাসপাতালে যান। তিনি বলেন, ‘‘পুলিশ অফিসারের হাত যে ভাবে জখম হয়েছে, আমি আর কী বলব! পুলিশকর্মীরা নিজেদের চাকরি বাঁচাতে গিয়ে যে ভাবে বিপদের মুখে পড়ছেন, কিছু বলার নেই।’’ মেয়রের পাল্টা দাবি, ‘‘পুরো ঘটনাই পূর্ব পরিকল্পিত।” রানিগঞ্জের সিপিএম বিধায়ক রুনু দত্ত বলেন, “রানিগঞ্জের শান্ত পরিবেশ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারল না পুলিশ। ওই একই জায়গায় এ বছর দীপাবলির সময় গোলমাল বেধেছিল। তারপরেও উত্তেজনা প্রবণ ওই এলাকায় যথেষ্ট নিরাপত্তা বলয় তৈরি না করাতেই এই বিপত্তি।” তারই মাঝে চলছে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ। ধ্বংসস্তূপ সরলেও আতঙ্ক তো মাথা থেকে সরছে না। বিশেষ করে সেই মানুষগুলির, যাঁরা গোষ্ঠীসংঘর্ষের শিকার। মঙ্গলবার সকাল থেকে পুলিশ রানিগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় রুটমার্চ করে পুলিশ ও র‍্যাফ। নেতৃত্বে ছিলেন আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার লক্ষ্মীনারায়ণ মিনাও। এদিনও রানিগঞ্জের কলেজপাড়া সহ কয়েকটি জায়গা থেকে অশান্তির খবর আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিভিন্ন জায়গায় পুলিশ পিকেট বসানো হয়েছে।