পাকিস্তানের জয় উদ্‌যাপন করে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে হাজতে স্কুলশিক্ষিকা নাফিসা

পাকিস্তানের জয় উদ্‌যাপন করে কংগ্রেস শাসিত রাজ্যে হাজতে স্কুলশিক্ষিকা নাফিসা

এটা ইসলামের জয়। 'ভারত-সহ দুনিয়ার মুসলিমদের সমর্থন পাকিস্তানের প্রতি ছিল।' টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জয়ের পর এমনই মন্তব্য করলেন ইমরান খানের মন্ত্রী শেখ রশিদ আহমেদ। লক্ষ লক্ষ ভারতবাসীর মতো রাজস্থানের উদয়পুরের নিরজা মোদী স্কুলের শিক্ষিকা নাফিসা আটারিও সেই রবিবার টেলিভিশনের সামনে থেকে উঠতে পারেননি।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ দেখে পাকিস্তানের জয়ের পর হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসে উল্লাসে লিখেছিলেন, ‘জিত গ্যায়ে…. উই ওয়ান’ (আমরা জিতে গিয়েছি)। সঙ্গে পাকিস্তানের ক্রিকেটারদের ছবি দেন। এই হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাস তাঁর কোনও এক ছাত্রের বাবার নজরে আসে। তিনি বাকিদের তা পাঠিয়ে দেন। এরপর এটি ভাইরাল হতে সময় লাগেনি। ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পর দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাকিস্তানের জয়ের পর বহু মুসলিম উল্লাস করেন, কিন্তু তাবলে গ্রেফতার করা হবে ?

তা আবার কংগ্রেস শাসিত রাজস্থানের অশোক গহলৌতের পুলিশ। এটা আমাদের দেশের সংবিধান বিরোধী। ‘‘পুলিশ সম্পূর্ণ ভুল কাজ করেছে। কেউ ভুল করলে, বা কেউ কারও সঙ্গে একমত না হলে সেটাকে কখনোই দেশদ্রোহিতা বলা যায় না। এটা আমাদের সংবিধান বিরোধী।’’  দুবাইয়ে ভারতকে ১০ উইকেটে হারিয়ে দেন বাবর আজমরা। তার ফলে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবার ভারতকে হারানোর স্বাদ পায় পাকিস্তান।

বাবরদের সেই ঐতিহাসিক জয়ের পর টুইটারে একটি ভিডিয়োবার্তায় ইমরান খানের  মন্ত্রী শেখ রশিদ বলেন, ‘আজ আমাদের কাছে ফাইনাল ছিল। ভারত-সহ দুনিয়ার মুসলিমদের সমর্থন পাকিস্তানের প্রতি ছিল।’ সেইসঙ্গে দাবি করেন, পাকিস্তান যে জিতেছে, তা আদতে ‘ইসলামের জয়’। সেই ইসলামের জয়ে উল্লাসের অধিকার নাফিসার আছে, দাবি বুদ্ধি জীবী দের । 

হিন্দু সংগঠন বজরং দলের সদস্য রাজেন্দ্র পারমার বলেছেন, ‘‘এই সব লোকেদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেওয়া উচিত। ভারতে থাকছ, রোজগার করছ, আর পাকিস্তানের জয় উদ্‌যাপন করছ! ওঁর শিক্ষা নেওয়া উচিত। উনি স্কুলে পড়ান। ছাত্রছাত্রীদের উনি কি শিক্ষা দেবেন?’’ বিজেপি বা তার সহযোগী দলগুলি যে নাফিসার হোয়াটসঅ্যাপ স্টেটাসকে সমর্থন করবে না, তা স্পষ্ট। যোগী আদিত্যনাথ এক সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, পাকিস্তানের জয় উদ্‌যাপন করলে রাষ্ট্রদ্রোহ আইনে অভিযোগ দায়ের করা হবে।

পরে এ নিয়ে টুইটও করেন। সেই পথে হেঁটেই ভারত-পাকিস্তান ম্যাচের পরে আগরায় তিন কাশ্মীরি পড়ুয়াকে গ্রেফতার করে যোগীর পুলিশ। আর্শাদ ইউসুফ, ইনায়াত আলতাফ শেখ এবং শওকত আহমেদ গনাই তিন জনেই রাজা বলবন্ত সিংহ কলেজে ইঞ্জিনিয়ারিং‌য়ের ছাত্র। ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বিজেপি সাংসদ গৌতম গম্ভীর টুইট করেছিলেন, ‘পাকিস্তান জেতায় যাঁরা বাজি ফাটাচ্ছেন, তাঁরা ভারতীয় হতে পারেন না।

আমরা ভারতীয় দলের পাশে আছি।’ নাফিসা, বা ইনায়াতদের গ্রেফতারের ঘটনাকে সমর্থন করে কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রকের উপদেষ্টা কাঞ্চন গুপ্ত বলেন, ‘‘ওঁরা ভারতের হার উদযাপন করছিলেন। এই ধরনের যেকোনও ঘটনা যেকোনও সময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত করতে পারে, বড় ঘটনা ঘটতে পারে। তাই যে ভাবেই হোক, এগুলো বন্ধ করতে হবে।’’