শেষ মুহূর্তে বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই উদ্বিগ্নে বিজ্ঞানী ও ইসরোর কর্মীরা

চাঁদে অবতরণ শেষ মুহূর্তে
চাঁদে অবতরণ শেষ মুহূর্তে

আজবাংলা পূর্ব পরিকল্পনা শনিবার রাত ১.৩৮ মিনিটে শুরু হয় বিক্রমের অবতরণ প্রক্রিয়া। সেকেন্ডে ১.৮ কিলোমিটার থেকে যানের গতিবেগ কমিয়ে আনা শুরু হয় শূন্যে। সেই লক্ষ্যে শুরু হয় হার্ড ব্রেকিং। নিখুঁত হার্ড ব্রেকিং পর্বের পর ফাইন ব্রেকিং পর্ব শুরু হতেই দেখা দেয় বিপর্যয়। সেই পর্যায়ে কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই ইসরোর কন্ট্রোল সেন্টারের সঙ্গে যাবতীয় সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় যানটির। বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হতেই উদ্বেগ ছড়ায় হাজির বিজ্ঞানী ও ইসরোর কর্মীদের মধ্যে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে পরিস্থিতির গুরুত্ব বোঝাতে ছুটে যান ইসরোর চেয়ারম্যান কে শিবন।ঠিক ৪৭ দিনের যাত্রা। একেবারে দিনক্ষণ মেপে চাঁদে নামছিল বিক্রম। দক্ষিণ মেরুর কাছে। যেখানে আজ পর্যন্ত আর কোনও দেশের যান পা রাখেনি।  ভারতের দ্বিতীয় চন্দ্রযানের এই ল্যান্ডারের পেটে রয়েছে ছোট্ট  চাঁদের গাড়ি বা রোভার প্রজ্ঞান। কয়েক ঘণ্টা পরে দক্ষিণ মেরুর কাছে ভোর হওয়ার কথা। ঠিক ছিল তার আগেই খুলে যাবে বিক্রমের ডালা বা র‌্যাম্প। তার উপর দিয়ে গড়িয়ে নামবে প্রজ্ঞান। ভোর ৫টা ১৯ মিনিটে। ভোরের আলো ফুটলে সেই আলো সোলার প্যানেলে মেখে জেগে উঠবে চাঁদের গাড়ি। ভোর ৫টা ২৯ থেকে প্রতি মিনিটে ৬০ সেন্টিমিটার করে এগোবে। তার পরে বিক্রম প্রজ্ঞান শুরু করবে খোঁজ, কী কী আছে চাঁদের মাটিতে ও চাঁদের উপরে! অরবিটার তো আগে থেকেই ছবি তুলে চলেছে চাঁদের। যা দিয়ে তৈরি হবে পথিবীর একমাত্র উপগ্রহের ত্রিমাত্রিক মানচিত্র।গভীর রাতে এমন একটা ঘটনা প্রত্যক্ষ করার জন্য গোটা দেশেই আগ্রহ ছিল তুঙ্গে। দেশের শহরে-গঞ্জে ও গ্রামে শুক্রবারের রাতটা গোটা দেশ কার্যত জেগেই ছিল। কোথাও দল বেঁধে, কোথাও বাড়িতে পরিবারের সঙ্গে—  নজর ছিল ইসরোর বা খবর ও সোশ্যাল মিডিয়ার সাইটে। ২টো ১৯ মিনিটে মোদী এগিয়ে গিয়ে সিবনের পিঠ চাপড়ে বললেন, ‘‘আপনারা যা করেছেন দেশ আপনাদের জন্য গর্বিত। হোপ ফর দ্য বেস্ট আশা করি আবার আপনারা দেশকে খুশির খবর দিতে পারবেন।’’ উপস্থিত ৬০ পড়ুয়াদের সঙ্গে কিছু ক্ষণ কথা বলেন মোদী। তাদের কয়েকটি প্রশ্নের উত্তরও দেন।খবর পাওয়া পর্যন্ত বিক্রমের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছেন ইসরোর বিজ্ঞানীরা। 

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!