বাহাত্তরের সঙ্গে গাঁটছড়া ছত্রিশের! দেখে শুনে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন দু’জনে

বাহাত্তরের সঙ্গে গাঁটছড়া ছত্রিশের! দেখে শুনে বিয়ের পিঁড়িতে বসলেন দু’জনে

আজবাংলা         বয়স যে কোন কিছুকেই বাঁধা দেয়না তা প্রমান করেন দিলেন বাহাত্তর বছরের এই বৃদ্ধ | হুগলির  শ্রীরামপুরের ডাক্তারবাগানের অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক ড.‌ সমরেন্দ্রনাথ ঘোষ ফের বসলেন বিয়ের পিঁড়িতে | রিষড়ার বাসিন্দা ইরা রায়ের সাথে গত ২৭ জুলাই রেজিস্ট্রি করে বিয়ে করেন এই অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক | তারপরে গত ১০ অগাস্ট নিজের শ্রীরামপুরের ফ্ল্যাটে সামাজিক অনুষ্ঠান করে বিয়ে সারেন দুজনে | নিজেদের বিয়েতে বেজায় খুশি তারা দুজনে | একজনের সঙ্গে নতুন এক সম্পর্ক তৈরী করতে যে সময় এবং বয়স কখনোই বাঁধা হয়ে দাঁড়ায় না তা প্রমান করে দিলেন এই দুজনে | 

জানা যায়, মাসের পর মাস লকডাউন চলার ফলে খুব একাকিত্ব বোধ করতেন এই অবসরপ্রাপ্ত কলেজ শিক্ষক | প্রথম স্ত্রী অনেকদিন আগেই মারা গিয়েছেন | মেয়ে থাকেন বিদেশে | তাই নিজের ফ্ল্যাটে একই থাকতেন তিনি | নিঃসঙ্গ হয়ে পড়ার কারণে এক মাস আগে সংবাদপত্রে বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন | সেই সূত্রেই যোগাযোগ হয়  রিষড়ার বাসিন্দা ইরা রায়ের সঙ্গে | এরপরেই তারা দুজনে বিয়ের সিদ্ধান্ত নেন | নিজের ইচ্ছা ও মতেই বিয়ে সারেন দুজনে | তাদের সামাজিক বিয়ের অনুষ্ঠানে কোন পুরোহিত এসে তাদের বিয়ে দেননি | সংস্কৃত মন্ত্রোচ্চারণ করে বিয়ে দিয়েছেন কবি মীনা রায় | 

সমরেন্দ্রবাবু বাইশ বছর ধরে রিষড়া বিধানচন্দ্র কলেজের বাংলার অধ্যাপক ছিলেন | গত ২০০৮ সালে অবসর গ্রহন করেন | এখানেই তিনি থেমে থাকেননি | বর্তমানে বর্ধমানের কালনায় বেসরকারি বি এড কলেজে অধ্যাপনা করেন তিনি | লকডাউনের এক থাকতে হয়েছে তাকে | ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া হতো না তার | কসময় ছাত্র-ছাত্রী, পরিচিতেরা তাঁকে রান্না করে দিয়েছিলেন | কিন্তু জীবনের বেশি ভাগ সময়টাই একা থাকতেন | সেই কারণেই নিঃসঙ্গতা কাটাতে বিয়ের কল্পনা করেন তিনি | শেষমেশ বিয়ের পীড়িতেও বসলেন এবং জীবনসঙ্গীও পেলেন |