হিন্দুদের জমি দখলের হোতা যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসানের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবীতে শিপন কুমার বসু

জাহিদ হাসান টুকুন যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি
জাহিদ হাসান টুকুন যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি

আজবাংলা বাংলাদেশের হিন্দু নেতা তথা ওয়ার্ল্ড হিন্দু স্ট্রাগগলে কমিটির সভাপতি শিপন কুমার বসু আজবাংলার সাংবাদিককে বলেন রাজাকার পুত্র, রাজাকাদের ঘনিষ্ট সহচর, সরকারি অফিসে অবাধে চলাফেরা, যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরী ভক্ত হিসেবে মামলা দায়ের ও সাকা চৌধুরির সিডি উদ্ভোধন, অস্ত্রের মুখে হিন্দুদের জমি দখল, হিন্দুদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগের হোতা জাহিদ হাসান টুকুন।যশোরের চিহ্নিত রাজাকার বদরুল আলা ওরফে বদ আলা। তিনি পিস কমিটির যশোর জেলা সভাপতি ছিলেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৬৮-৬৯ সালে যখন একটি মামলায় যশোরে হাজিরা দিতে আসেন। তখন যশোরের সকল উকিল জাতির পিতার জামিনের জন্য আদালত কে জানান। শুধুমাত্র একজন জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন তিনি বদরুল আলা । সেদিন যশোরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কে আটকানোর অনেক চেষ্টা করেন বদরুল আলা। তার দেওয়া তথ্যে যশোর থেকে ফেরার পথে ঢাকা বিমান বন্দরে আটক হন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিন আদালতের বাইরে দেশবিরোধী ও বঙ্গবন্ধু বিরোধী স্লোগান দেন রাজাকার আলা পুত্র জাহিদ হাসান টুকুন। যশোরের চাঁচড়ায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের পাওয়ার হাউজ, টিএন্ডটি স্টাফ কোয়ার্টার, ফুড গোডাউন এগুলি হিন্দু মালিক ও জমিদারের সম্পত্তি ভুয়া দলিল বানিয়ে পাকিস্থানি সরকারের কাছে বিক্রি করে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেন রাজাকার বদরুল আলা। ১৯৭১ সালে আলার সাথে যশোর শহরের বেজপাড়া এলাকার মানুষকে অনেক অত্যাচার করে তার পুত্র টুকুন। তৎকালিন সময়ে রাজাকার পিতার ক্ষমতাবলে তিনি অনেক হিন্দু বাড়িও লুট করেন তিনি। শহরের বেজপাড়া এলাকায় বিভিন্ন সময়ে তিনি হিন্দু নারীদের সম্ভ্রমহানী করে। সে সময়ে তিনি ও তার বাহিনী অনেক মা-বোনকে ধর্ষণ করেছেন। বর্তমানে তিনি যশোরে জামাত-বিএনপির রক্ষক ও অর্থ যোগানদাতা। জামাত-বিএনপি সমর্থনে তিনি জামাত-বিএনপির শাসনামলে যশোর প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। শহরের বড় বড় হিন্দু ব্যবসায়ীদেরকে বিভিন্নভাবে ভয়ভিতি দেখিয়ে চাঁদাবাজী করেন তিনি। তার চাঁদাবাজী’র অর্থ কালেকশন করে ডিস ব্যবসায়ী বাবু ওরফে ডিস বাবু। তারা দুর্নীতির মাধ্যমে গড়েছেন অবৈধ সম্পত্তির পাহাড়। ক্ষমতার জোর দেখিয়ে স্থানীয় কয়েক ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিয়ে তা আর ফেরত দিচ্ছেন না তিনি। তার ভয়ে মুখ খুলতে কেউ সাহস পায় না। ২০০১ সালে আওয়ামী লীগ সরকার পরিবর্তনের পর করেছেন অনেক হিন্দু বাড়ী লুট ও হিন্দুদের জমি দখল করেছেন তিনি। যশোর জেলা আওয়ামীলীগ অফিস তিন বার ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছেন এই জাহিদ হাসান টুকুন। জাল দলিল করে অনেক মানুষের জমি দখল করেছে। যশোর বেজপাড়ায় শ্রীধর পুকুরটি ছিলো একজন হিন্দু জমিদারের সম্পত্তি, তিনি জাল দলিল করে তা দখল করে বিক্রি করে দিয়েছে। শহরের পাশে চাঁচড়া বাজারে ২৫ বিঘা সম্পত্তি দখল করে ভোগ দখল করছেন। যশোরের বিভিন্ন এলাকায় কয়েকজন হিন্দু বৃদ্ধ-বৃদ্ধাকে হত্যা করে তাদের বাড়ি-ঘর দখল করেছেন তিনি ও তার সহযোগীরা। অনেক হিন্দুদের জমি দখল করে অস্ত্রের মুখে রাতারাতি ভারতে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বর্তমানে তার যশোর রেল রোডের বাড়িটিও তার পিতা এক হিন্দু মহিলা কে হত্যা করে দখল করেছিলেন। ভূমিহীন হিসেবে যশোর সোনালী ব্যাংক কর্পোরেট শাখার পিছনে একজন হিন্দু মালিকানাধীনের একটি পরিত্যক্ত বাড়ী নেওয়ার জন্য আবেদন করেছেন যা যশোরের সাবেক জেলা প্রশাসক আব্দুল আউয়াল আবেদনপত্রটি অনুমোদন করে ঢাকায় পাঠিয়েছেন ইতোমধ্যে।বিশিষ্ঠ যুদ্ধাপরাধী সাকা চৌধুরীর নামে ডেইলী স্টার পত্রিকায় তার যুদ্ধ অপরাধ নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর জাহিদ হাসান টুকুন যশোর আদালতে সাকা চৌধুরির ভক্ত হিসেবে ডেইলী স্টারের সম্পাদকের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন, এবং ২০০৫ সালে তিনি যশোর প্রেসক্লাবে সাকা চৌধুরির সিডি উদ্ভোধন করেন। যার সংবাদ তৎকালিন সময়ে বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিক হয়।যশোর প্রেসক্লাবের জন্য জমি দান করেন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান । দুঃখের বিষয়, জামাত পন্থী সাংবাদিক ইউনিয়ের সমর্থনে আজ রাজাকারের পুত্র, রাজাকাদের ঘনিষ্ট সহযোগী সেই প্রেসক্লাবের সভাপতি। আজ রাজাকারের পুত্র, রাজাকাদের ঘনিষ্ট সহযোগী সেই প্রেসক্লাবের সভাপতি। প্রায় প্রতিদিন তিনি বিভিন্ন সরকারি অফিসে পায়ের উপর পা দিয়ে বসেন তিনি । সকল অনুষ্ঠানে বড় বড় ভাষন ও দেন তিনি। সব জায়গায় তাকে করা হয় বিশেষ অতিথি। তা হলে কি যশোরের সরকারি কর্মকর্তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করেন না? ডিসি অফিস, এসপি অফিস, যশোর ও বেনাপোল কাস্টমস, বিজিবি, খাদ্য অফিস, সার অফিস, কোতয়ালী থানা, জেলখানা, বিদ্যুৎ, সেনা নিবাস, বিমান বাহিনী, শিক্ষা বোর্ড, যশোরে সদরের এমপি কাজী নাবিল আহমেদের অফিস, জেলা পরিষদ, সদর উপজেলা পরিষদ, যশোর পৌরসভা, পাসপোর্ট অফিস, চেম্বার অফ কমার্সে তার অবাধে যাতায়াত। ও প্রতিমাসে তার নামে মাসোহারা। কিভাবে একজন রাজাকার পুত্র যশোরের সরকারি অফিসে অবাধে যাতায়াত করে এবং তাকে অতিথি করা হয় তা নিয়ে যশোরের মানুষ উদ্বিগ্ন। সারাদিন মোবাইল ফোনে করেন সরকারি অফিসে সুপারিশ বাণিজ্য। দিনে কয়েকদফা ফোনে কথা বলেন বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তার সাথে। যশোর থেকে প্রমোশন পাওয়া বিভিন্ন কর্মকর্তাদের সাথে দেখা করতে যান বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে। আজ যশোরে মুক্তিযোদ্ধা ও সৎ সাংবাদিকরা কোন ঠাসা। গোলাম আজম, সাকা চৌধুরি, কাদের মোল্লার সন্তানেরা আর আলা রাজাকারের সন্তানের মধ্যে কি আলাদা সংজ্ঞা? জাহিদ হাসান টুকুন, তার কথায় ডিসি তার লোক। মহান স্বাধীনতা দিবসে যশোর টাউন হল মাঠে জেলা প্রশাসনের অনুষ্ঠানে রাজাকারদের সহযোগী টুকুনকে মঞ্চে অতিথি করেন জেলা প্রশাসক। যার ছবি বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। বর্তমানে টুকুন বিষয়টি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। যশোরের উকিল, মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে শুনলে আরো অনেক তথ্য পাওয়া যাবে। এই তদন্ত শুরু করলে যশোরের অনেক মানুষই মুখ খুলবে।দ্রুত তদন্ত পূর্বক এই রাজাকারের পুত্র, রাজাকারদের ঘনিষ্ট এই সহযোগীর দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবী করেছে যশোরের সাধারণ মানুষ।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!