বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে শুরু হল গাজল উৎসব ও সিধু-কানু-বীরসা-জিতু মেলা।

Sidhu-Kanu-Birsa-Jitu fair are started in colorful procession.
গাজলে শুরু হল গাজল উৎসব ও সিধু-কানু-বীরসা-জিতু মেলা।

আজবাংলা মালদা   বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্যে দিয়ে সোমবার দুপুরে গাজলে শুরু হল গাজল উৎসব ও সিধু-কানু-বীরসা-জিতু মেলা। গাজলের হাজি নাকু মহম্মদ হাই স্কুলের মাঠে গাজল ব্লকের একেবারে নিজস্ব এই ২৮ তম গাজল উৎসব চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।  ১৯৯১ সালে গাজল ব্লকের সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া চর্চার প্রসারে শুরু হয়েছিল এই গাজল উৎসব ও সিধু-কানু-বীরসা-জিতু মেলা। প্রথমে স্থানীয় ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক মনস্ক বাসিন্দারা মিলে কমিটি গড়ে এই উৎসবের সূচনা করেছিল। পরে গাজল পঞ্চায়েত সমিতিও এই উৎসবের আয়োজনে শামিল হয়। এভাবেই উৎসব কমিটি ও গাজল পঞ্চায়েত সমিতির যৌথ উদ্যোগে ২৭ বছর ধরে গাজলের এই হাজি নাকু মহম্মদ হাই স্কুল মাঠেই হয়ে আসছে এই উৎসব। এবারে উৎসব ২৮ বছরে পা দিল। উৎসব উপলক্ষে এদিন দুপুরে গাজল পঞ্চায়েত সমিতি দফতর চত্বর থেকে বিশাল একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। সেই শোভাযাত্রায় ব্লকের একাধিক স্কুলের ছাত্রছাত্রী, শিক্ষক থেকে শুরু করে একাধিক আদিবাসী সাংস্কৃতিক দলের সদস্যরা ও বিশিষ্টজনেরা অংশ নেন। পুরো গাজল বন্দর এলাকা পরিক্রমা করে সেই শোভাযাত্রা শেষ হয় হাই স্কুল মাঠে। সেখানে ফিতে কেটে আনুষ্ঠানিকভাবে মেলার সূচনা করেন পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি রেজিনা পারভীন। পরে প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে গাজল উৎসবের সূচনা করেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল, সাংসদ মৌসম নূর, বিধায়ক দিপালী বিশ্বাস, স্বাস্থ্য দফতরের মালদহ জেলা চুক্তিভিত্তিক কর্মী নিয়োগ কমিটির চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন, জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সংসদের চেয়ারম্যান আশিস কুণ্ডু প্রমুখ। তারা অনুষ্ঠানের শুভারম্ভে পায়রা ও বেলুনও ওড়ান। বিধায়ক বলেন, গাজলের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবের প্রারম্ভিক পর্ব শুরু হয়েছিল ২৬ ডিসেম্বর থেকে। চূড়ান্ত পর্বে অংশগ্রহণের জন্য বিভিন্ন সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার বাছাইপর্ব সেসময় থেকে ৮ জানুয়ারি পর্যন্ত হয়েছে। এদিন থেকে শুরু হল উৎসব। চলবে ২১ জানুয়ারি পর্যন্ত।  এই উৎসবে থাকছে পুষ্প প্রদর্শনী, শিশু উৎসব, সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা, বইমেলা, বিজ্ঞান মডেল প্রদর্শনী, চিত্র প্রদর্শনী, সাহিত্য চর্চা, সামাজিক সুরক্ষা সংক্রান্ত প্রদর্শনী প্রভৃতি। পাশাপাশি প্রতিদিন বিকেল থেকে রাত অবধি চলবে স্থানীয় ও বহিরাগত শিল্পীদের নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এ ছাড়া গাজল স্টেডিয়ামে উৎসব উপলক্ষে হবে বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাও। গাজল উৎসবকে ঘিরে এদিন প্রথম দিন থেকেই জমজমাট উৎসব প্রাঙ্গণ।