ভারতীয় বংশোদ্ভূত নোবেলজয়ী লেখক স্যার বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল আর নেই

V.S. Naipaul
স্যার বিদ্যাধর সূর্যপ্রসাদ নাইপল

আজবাংলা   ১৯৩২ সালের ১৭ আগস্ট ব্রিটিশ শাসিত ত্রিনিদাদের ছাগুয়ানায় এক হিন্দু পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন বিদিয়াধর সূরজপ্রসাদ নাইপল। উত্তরভারত থেকে চুক্তিভিত্তিক চাকরি নিয়ে ত্রিনিদাদে এসেছিলেন তাঁর ঠাকুর্দা। বাবা ছিলেন ত্রিনিদাদ গার্ডিয়ানের সাংবাদিক। মা ছিলেন ত্রিনিদাদের পড়নত অবস্থার এক উচ্চ শ্রেনীর জমিদারের ঘরের মেয়ে। তাঁর পরিবারের সঙ্গে নইপালের বাবার নিরন্তর ঝামেলাই হাউস অব মিস্টার বিশ্বাসের ভিত গড়ে দিয়েছিল । নাইপল ভক্ত ছিলেন মলিয়ের, ইশপ সিরানো দে বেজারাক প্রমুখ লেখকের। কিন্তু তাঁর নিজের লেখারস্টাইলে এঁদের থেকে বেশি করে ধরা পড়েছে তাঁর বাবার সাংহাদিকের চোখ। পোর্ট অব স্পেনে স্কুলের পড়াশোনা শেষ করে ভি এস আসেন অক্সফোর্ডে ইংরাজী সাহিত্য নিয়ে পড়াশোনা করতে। ১৯৫৩ সালে স্নাতক হল সেখান থেকে। ১৯৭৫ সালে ক্যারিবিয়ান বিপ্লব নিয়ে তিনি লিখেছিলেন ‘গেরিলাস’। সেই উপন্যাসই প্রথম তাঁকে বানিজ্যিক সাফল্য এনে দিয়েছিল। শনিবার লন্ডনে নিজের বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৫ বছর। বিশ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে তাঁর মতো খুব কম লেখকই ছিলেন যিনি একই সঙ্গে প্রশংসিত ও সমালোচিত হয়েছেন। তাঁর শক্তিশালী গদ্যের যেমন জবাব ছিল না, তেমনই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছেন তিনি। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে অধ্যায়ন করেছেন। ইংল্যান্ডে স্থায়ী হলেও সারা দুনিয়াব্যাপী ঘুরে বেড়িয়েছেন নাইপল। লেখক যদি বিতর্কই তৈরি করতে না পারেন তাহলে বুঝতে হবে সেই লেখকের মৃত্যু হয়েছে।’ বর্ণবিদ্বেষী, লিঙ্গবৈষম্যকারী, ইসলামবিরোধী – তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ কম ছিল না। তাঁর অবশ্য কোনও রাখঢাক ছিল না। জীবনীকার প্যাট্রিক ফ্রেঞ্চকে তিনি খোলাখুলি জানিয়েছিলেন, বিবাহিত জীবনে পতিতাদের সঙ্গে তাঁর নিয়মিত মেলামেশা ছিল। জানিয়েছিলেন তাঁর রক্ষিতার উপর অমানুষিক অত্যাচার করার কথা, বলেছিলেন স্ত্রীর সঙ্গে এমন ব্যবহার করেছিলেন যে বলা যায়, ‘আমি তাঁকে হত্যা করেছি’। তবে একথা স্বীকার করলেও এনিয়ে কখনও তাঁকে আফশোষ করতে দেখা যায়নি। এই ধরনের আরো খবর জানতে আমাদের ফেসবুক পাতায় লাইক করুন

 

 

 

১৯৬১ সালে প্রকাশিত উপন্যাস ‘হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’-ই প্রথম তাঁকে লেখক হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছিল। অক্সফোর্ড বিশববিদ্যালয়ে পড়ার সময় মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি এই উপন্যাস রচনা করেছিলেন। উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র মোহন বিশ্বাস চরিত্রটিকে আলগাভাবে তাঁর পিতার অনুকরণে রচনা করেছিলেন নাইপল। নাইপলের বাবা ছিলেন ত্রিনিদাদের একজন সাংবাদিকয তবে তাঁরও মনে লেখক হওয়ার স্বপ্ন ছিল। উপন্যাসে মোহন বিশ্বাস নিজের একটা বাড়ি চেয়েছিল। সে মনে করত সম্পত্তিই তাঁকে নিরাপত্তা দেবে, দেবে ব্যক্তি স্বাধীনতা।  ১৯৭২ সালে তাঁর প্রথম আর্জেন্টিনা সফরে তাঁর সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল মার্গারেট গুডিং-এর। বিবাহিত তিন সন্তানের মা, সেই অ্যাংলো-আর্জেন্টিনিয়ান মহিলার সঙ্গে তাঁর একটি স্য়াডোমাসোচিস্টিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ইংল্যান্ডের বাড়িতে স্ত্রী প্য়াট্রিশিয়া হেলকে ফেলে মার্গারেটকে নিয়ে নাইপল বেরিয়ে পড়েন বিশ্বভ্রমণে। তবে দুই নারীর উপরই তিনি অত্যাচার চালানোরর কথা নিজে মুখেই স্বীকার করেছিলেন। ১৯৯৫ সালে ক্যানসারে মারা যান প্যাট্রিসিয়া। তাঁর মৃত্যুর দুমাসের মধ্য়ে মার্গারেটের সঙ্গে সম্পর্কও চুকিয়ে দেন নইপাল। বিয়ে করেন পাকিস্তানি সাংবাদিক নাদিরা আলভিকে। সেষ অবধি আলভিই ছিলেন তাঁর সঙ্গী।  ভারতীয় বংশোদ্ভূত এই ঔপনাসিকের হাত দিয়ে বিশ্বের পাঠক পেয়েছে ৩০টির বেশি সাড়া জাগানো বই, যার মধ্যে রয়েছে ‘ইন এ ফ্রি স্টেট’, ‘এ বেন্ড ইন দা রিভার’, ‘এ হাউস ফর মিস্টার বিশ্বাস’ এর মত সাহিত্যকর্ম। ১৯৭১ সালে ‘ইন এ ফ্রি স্টেট’ উপন্যাসের জন্য বুকার পান নাইপল। আর ২০০১ সালে পান সাহিত্যের নোবেল।