বিশ্বকাপের শুরু তেই দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়

দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়
দক্ষিণ আফ্রিকাকে হারিয়ে বাংলাদেশের জয়

আজবাংলা বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে টানা চার বিশ্বকাপেই প্রথম ম্যাচেই ফিফটি করেছেন। কিন্তু বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার ওতেই সন্তুষ্ট হন কীভাবে? যখনই মনে হচ্ছিল বাংলাদেশ ম্যাচ থেকে ছিটকে যাচ্ছে, তখনই এইডেন মার্করামকে (৪৫) ফিরিয়ে দিয়ে বাংলাদেশের আশা ফিরিয়ে এনেছেন। টসও জিতেছিলেন প্রোটিয়া অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসি। রান তাড়া করার সিদ্ধান্ত নেন। প্র্যাকটিস ম্যাচে লিটন দাস খেললেও চোট সারিয়ে রবিবার দলে ফিরলেন তামিম ইকবাল। তামিম যে প্রতিপক্ষ বোলারদের বেগ দিয়েছেন ভীষণ, তেমন নয়। তবে দলকে ভালো একটা শুরু পেতে সাহায্য করেন এই ওপেনার। অপর ওপেনার সৌম্য সরকার অল্পের জন্য হাফ সেঞ্চুরি হাতছাড়া করেন। ৩০ বলে ৪২ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলে ফেরেন। দক্ষিণ আফ্রিকা শিবিরে যা আঘাত করার,সাকিব ও মুশফিকুরই করেন। তৃতীয় উইকেটে ১৪২ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তাঁরা। সাকিব করলেন ৭৫। মুশফিকুর ৭৮ রানে আউট হন। শেষদিকে মাহমুদ্দুল্লাহের ৩৩ বলে ৪৬ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলে দলকে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেন। বাংলাদেশ ৫০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ৩৩০ তোলে। অ্যান্ডিলে ফেলুকোয়াও, ক্রিস মরিস ও ইমরান তাহির দু’টি করে উইকেট নেন । দক্ষিণ আফ্রিকা রান তাড়া করার ক্ষেত্রে সবসময়ই ম্যাচে ছিল। একদম শেষের এক-আধটা ওভার ছাড়া। দলের ৪৯ রানের মাথায় ছন্দে থাকা কুইন্টন ডি ককের রান আউট তাদের কাছে নিঃসন্দেহে বড় ধাক্কা ছিল। মাত্র ২৩ রানে ফিরতে হলো তাঁকে। ওপেনার এইডেন মারক্রাম ও প্রোটিয়া অধিনায়ক ডু প্লেসি বাংলাদেশের ওপর চাপ বজায় রেখে আক্রমণ করে যান। সাকিব আল হাসান এদিন বল হাতে একটি উইকেটই পান। তবে ক্রমশ ভয়ঙ্কর দেখানো মারক্রামকে বোল্ড করে বাংলাদেশকে আবার লড়াইয়ে আনেন বিশ্বের এক নম্বর অলরাউন্ডার।
ব্যক্তিগত ৪৫ রানে মারক্রাম আউট হওয়ার পর ডু প্লেসি আরও কিছুটা টানেন। তাঁর আগ্রাসনে লাগাম টানেন মেহিদি হাসান মিরাজ। ৬২ রানে বোল্ড হন দক্ষিণ আফ্রিকা অধিনায়ক। মিডল অর্ডারে প্রায় প্রত্যেকেই রান পেলেন। ডেভিড মিলার ৩৮, র্যা সি ভান ডার ডুসেন ৪৮ এবং জাঁ-পল ডুমিনি ৪৫ করেন। এরা শেষ অবধি কেউই টিকতে পারলেন না। তাহলে ম্যাচের চরিত্র অন্যরকম হতে পারত। মুস্তাফিজুর রহমান ও মহম্মদ সইফুদ্দিন মিডল অর্ডার ভেঙে দিতেই ম্যাচ বাংলাদেশের পক্ষে চলে আসে।
আজ বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের আগ্রাসন, বোলারদের স্নায়ুচাপ সয়ে বল করা আর ভাগ্যকে প্রতিপক্ষ পেয়েও লড়ে যাওয়াই বলে দিচ্ছে, স্বপ্নটা ঠিকই দেখছে বাংলাদেশ।