বোল্টকে টেক্কা দিতে কাম্বালার শ্রীনিবাস এবার বিশ্বের দরবারে

আজবাংলা      কর্নাটকে কৃষকদের খেলা কাম্বালায় দৌড়ে রেকর্ড করেছেন ২৮ বছরের শ্রীনিবাস। এই দৌড়ের গতিতে ওই তরুণ নাকি টেক্কা দিয়েছেন বিশ্বের দ্রুততম মানুষ, উসেইন বোল্টকে!শুনে নিজের কানকেই বিশ্বাস করতে পারেননি শ্রীনিবাস গৌড়া। কর্নাটকের প্রত্যন্ত গ্রাম মুদাবিদরির ঠিকাশ্রমিক তিনি। কাজ করেন নির্মাণক্ষেত্রে। তাঁর জগত থেকে কয়েক আলোকবর্ষ দূরে বাস করেন বোল্ট। কিন্তু সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতে তাঁর সঙ্গেই তুলনা হচ্ছে শ্রীনিবাসের। বৃহস্পতিবার কাম্বালা উৎসবে অংশ নিয়েছিলেন শ্রীনিবাস। পালিত মোষের সঙ্গে টানা ১৪২.৫ মিটার মাত্র ১৩.৬২ সেকেন্ডে পার করে ফেলেন শ্রীনিবাস। তাঁর গতি দেখে অবাক হয়ে যান দর্শকরা। সঙ্গে সঙ্গেই উসেইন বোল্টের সঙ্গে তাঁর গতির তুলনা করা শুরু হয়।উসেইন বোল্ট মাত্র ৯.৫৮ সেকেন্ডে ১০০ মিটার স্প্রিন্ট সম্পূর্ণ করেছিলেন। এটাই এখনও পর্যন্ত ১০০ মিটার স্প্রিন্টের বিশ্বরেকর্ড। এর চেয়ে কম সময়ে কেউ তা সম্পূর্ণ করতে পারেননি। আর ওই ১০০ মিটার যেতে শ্রীনিবাস কত সময় নিয়েছেন? হিসাব কষে দেখা গিয়েছে, তা ৯.৫৫ সেকেন্ডে সম্পূর্ণ করে ফেলেছেন তিনি। অর্থাৎ বোল্টের থেকে ০.০৩ সেকেন্ড সময় কম নিয়েছেন।কিন্তু কী এই কাম্বালা? তামিলনাড়ুর জাল্লিকট্টুর মতো এটি একটি মেঠো উৎসব। নভেম্বর থেকে মার্চ মাস হল এই পার্বণের মরসুম। ফসল কাটার পরে যে ধানখেত পড়ে থাকে, সেখানেই জলকাদার মধ্যে চলে পোষ্য ও পালকের দৌড়।দু’টি গৃহপালিত মোষকে একসঙ্গে বেঁধে তাদের সঙ্গে দৌড়ন মালিক। দক্ষিণ কর্নাটকের উপকূলীয় অংশে প্রধানত তুলু উপজাতিদের মধ্যে প্রচলিত এই খেলা খুব জনপ্রিয়। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া মোষদের সাজানো হয় রকমারি সাজে। তুলু ভাষায় ‘কাম্বালা’ কথার অর্থ জলকাদা ভর্তি জমি। সেখান থেকেই এর নামকরণ। কয়েকশো বছর ধরে চলে আসা এই খেলার বিরুদ্ধে বহুবার সরব হয়েছেন পশুপ্রেমীরা। কারণ এই খেলায় মোষকে তাড়া দেওয়ার জন্য চাবুক দিয়ে আঘাত করা হয়। পশুদের উপরে নির্মম অত্যাচার করা হয় বলে এই উৎসব বন্ধ করার জন্য আদালতে আবেদন জানিয়েছিল তারা। জাল্লিকট্টুর মতো এই খেলাও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু পরে দু’টিকেই ছাড়পত্র দেয় আদালত।সোশ্যাল মিডিয়ার দৌলতেই কর্নাটকের ২৮ বছরের যুবক শ্রীনিবাসের কথা কেন্দ্রীয় ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী কিরেন রিজিজুর কাছ পৌঁছেছে। শনিবার টুইট করে তিনি জানিয়েছেন, “গৌড়াকে সাইয়ের সেরা কোচদের সামনে ট্রায়ালের জন্য ডাকা হয়েছে। ভারতের সমস্ত প্রতিভাকেই দেখে নেওয়া হবে। এই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত করছি।” পরে তিনি জানান, গৌড়ার বেঙ্গালুরু সাই কেন্দ্রে আসার যাবতীয় ব্যবস্থা হয়ে গিয়েছে। সোমবারই তিনি সাই কেন্দ্রে এসে পৌঁছবেন। তবে তাঁকে বোল্টের সঙ্গে তুলনায় নেহাতই বিব্রত শ্রীনিবাস। তাঁর কথায়, কোথায় কিংবদন্তি বোল্ট আর কোথায় কাদা ভর্তি ধানখেতে দৌড়ানো আমি।