মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনই নকল চললো রতুয়া থানার দেবীপুর হাইস্কুলে। 

প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকলের অভিযোগ
প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকলের অভিযোগ

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা    মাধ্যমিক পরীক্ষার প্রথম দিনই দেদার নকল চললো রতুয়া থানার দেবীপুর হাইস্কুলে।  মঙ্গলবার ছিল মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষা । প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগে দিনভর চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে জেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে।  প্রশ্নপত্র ফাঁসের বিষয়টি নিয়ে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অভিভাবকেরা।  তাঁদের অভিযোগ, পরীক্ষা শুরুর একঘণ্টা পরই মোবাইলের মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা প্রশ্নপত্র। প্রথমে মোবাইলের মেলা প্রশ্নপত্র দেখে অতটা সন্দেহ হয় নি।  কিন্তু পরীক্ষার শেষে যখন ছেলেমেয়েরা পরীক্ষা কেন্দ্র থেকে বেরিয়ে আসে সেই প্রশ্নের সাথে মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে থাকা প্রশ্নের অনেকটাই মিল আছে বলে ও অভিভাবকদের অভিযোগ। আর তাতেই ক্ষোভ প্রকাশ করেন পরীক্ষার্থীদের অভিভাবকরা।  যদিও প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং নকলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক তাপস বিশ্বাস।  এদিন পরীক্ষা শুরুর এক ঘণ্টা পরই মোবাইলে ছড়িয়ে পড়ে বাংলা প্রশ্নপত্র বলে অভিযোগ । সেই প্রশ্নপত্র কোথা থেকে ফাঁস হয়েছে তা নিয়ে চলে দিনভর জল্পনা । ক্ষোভ প্রকাশ করেন বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে আসা ছাত্র-ছাত্রীদের অভিভাবকেরা।  প্রশ্নপত্র ফাঁস নিয়ে অবশ্য মুখ খুলতে চাননি জেলার প্রশাসনিক কর্তারা।  এদিকে জেলার সর্বত্রই পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে হলেও রতুয়া থানার দেবীপুর হাই স্কুলে বাংলা পরীক্ষায় ব্যাপকহারে নকলের অভিযোগ উঠেছে।  সেই পরীক্ষা কেন্দ্রের সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে ফেলা হয়েছে বলে অভিযোগ।  ওই স্কুলে পরীক্ষাকেন্দ্র করা নিয়ে কয়েকদিন ধরেই গোলমাল চলছিল । কড়া নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে পরীক্ষা কেন্দ্রের জানালা দিয়ে নকল ছুড়তে দেখা যায় বহিরাগতদের । তবে বিষয়টি নিয়ে মুখ খোলেন নি স্কুল কর্তৃপক্ষ। জেলা মাধ্যমিক বিদ্যালয় পরিদর্শক তাপস বিশ্বাস জানিয়েছেন , মালদা জেলায় কোথাও প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনা ঘটে নি।  মোবাইলের হোয়াটসঅ্যাপে যে সব প্রশ্নপত্র ছড়িয়েছে তার সত্যতা কতটা রয়েছে তা খতিয়ে দেখছি।  দেবীপুর হাইস্কুলে সিসিটিভি ক্যামেরা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল।  ওই স্কুলের পরিচালন কমিটির তরফ থেকে বিষয়টি জানানো হয়েছে।  কিন্তু ওই স্কুলে কোন নকলের ঘটনা ঘটে নি।  তবে দেবীপুর হাই স্কুলে পরীক্ষা চলাকালীন কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। এদিন পরীক্ষা শুরুর পরে যৌথভাবে ইংলিশবাজারের কয়েকটি পরীক্ষা কেন্দ্র ঘুরে দেখেন মালদহ জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌরচন্দ্র মণ্ডল এবং জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য। দু’জনেই দাবী করেছেন অত্যন্ত সুচারুভাবে শেষ হয়েছে মাধ্যমিকের প্রথম দিনের পরীক্ষা। জেলাশাসক বলেন, মালদহে শান্তিতেই কেটেছে মাধ্যমিকের বাংলা পরীক্ষার দিনটি। প্রশ্ন ফাঁসের কোনো অভিযোগ জমা পড়ে নি। হাই মাদ্রাসার পরীক্ষাও নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়েছে। কোনো অপ্রীতিকর কোনো ঘটনার খবর নেই।