রাজ্য সরকার বিভিন্ন উদ্যোগে ভোল বদলে গিয়েছে মালদার গম্ভীরা শিল্পীদের

মালদায়  গম্ভীরার একটি অনুষ্ঠান। 
মালদায়  গম্ভীরার একটি অনুষ্ঠান। 

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা    নিজেদের প্রতিভা মানুষের কাছে তুলে  ধরলেও বাম আমল থেকে  বঞ্চিত ছিলেন গম্ভীরা শিল্পীরা।  কিন্তু রাজ্যে তৃণমূল সরকার আসার পরই ভোল বদলে গিয়েছে মালদার গম্ভীরা শিল্পীদের । হাজার টাকা সাম্মানিক পাওয়াটা বড় কথা নয়।  বিষয় হচ্ছে বিভিন্ন সরকারি অনুষ্ঠানে এবং যে কোন সরকারি প্রচারের এখন প্রয়োজন হচ্ছে গম্ভীরা শিল্পীদের।  এর ফলে রোজগার যেমন বেড়েছে । তার সঙ্গে বেড়েছে সামাজিক পরিচিতি।  সহযোগিতা মিলছে জেলার শীর্ষ আমলাদের কাছ থেকে।  যা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে গম্ভীরা শিল্পীদের আমূল পরিবর্তন করে দিয়েছে।  পুরাতন মালদা পুরসভা এলাকার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের কোটস্টেশন এলাকার বাসিন্দা গম্ভীরা শিল্পী অশোক চক্রবর্তী বলেন,  এখন আমার বয়স ৬৫ বছর । ৪০ বছর ধরে গম্ভীরা গানের সঙ্গে যুক্ত রয়েছি। বাম জমানায় কোনদিনই কোন সুযোগ সুবিধা আমরা পায় নি। কখনো দিনমজুরি কখনো লোকের দোকানে কাজ করে সংসার চালিয়েছি। এর ফাঁকে যখন যেমন সময় পেয়েছি গম্ভীরা করেছি । কিন্তু সময়টা বদলে গিয়েছ ২০১২ সালের পর থেকে।  অশোক বাবু বলেন , এক হাছার টাকা সাম্মানিক পাওয়াটা বড় কথা নয় । এখন প্রশাসনের সমস্ত সরকারি কর্মসূচি প্রচারে গম্ভীরা শিল্পীদের আমন্ত্রণ জানানো হচ্ছে । সসম্মানে আমাদের নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।  আমরা গান দিয়ে সহকারী প্রচার তুলে ধরছি।  এর জন্য আলাদা পারিশ্রমিক তো রয়েছেই। তার সঙ্গে ও সামাজিক পরিচিতির ধীরে ধীরে বাড়ছে।  আমরা চাই রাজ্য সরকার  আমাদের মতো শিল্পীদের বিষয়ে আরো বেশি করে সরকারি সুযোগ-সুবিধা দিতে এগিয়ে আসুক। মালদা জেলা গম্ভীরা শিল্পী সংস্কৃতি মঞ্চের সভাপতি প্রশান্ত শেঠ বলেন,  গম্ভীরা শিল্পীদের সরকারি অনুদান মিলছে । পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট আশ্রয়ের জন্য শিল্পীদের সরকারি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে পাট্টা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে । এমনকি সমাজের সম্মান মূলক স্থান পেতে শিল্পীদের এখন প্রতিটি সরকারি কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।  কখনোই ভাবিনি’ রাজ্যে তৃণমূল সরকারের আমলে এই ধরনের সুযোগ-সুবিধা আমাদের মতো শিল্পীদের নিয়ে কাজ করা হবে । তবে প্রাচীন এই শিল্পকে ধরে রাখতে সরকার আরও বিশেষ করে উদ্যোগী হোক । নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার জন্য আলাদা করে চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার ব্যবস্থা করুক রাজ্য সরকার।  বলাবাহুল্য মালদা জেলার ঐতিহ্যপূর্ণ সংস্কৃতির মধ্যে গম্ভীরা শিল্প যুক্ত রয়েছে । পুরুলিয়ার ছৌ নিত্যের পাশাপাশি মালদার গম্ভীরা শিল্প এক প্রাচীন নিদর্শন । এই শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে রাজ্য সরকার বিভিন্ন ভাবে উদ্যোগী হয়েছে। যদিও মালদায়  এখন হাতে নগো ২০ থেকে ২২ জন গম্ভীরা শিল্পী রয়েছেন।  এই শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ক্ষেত্রে স্কুল কলেজ পড়ুয়াদের বিভিন্ন রকম ভাবে আগ্রহ বাড়াতে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দপ্তর নানাভাবে প্রচেষ্টা চালানো শুরু করেছে। জেলা প্রশাসনের এক কর্তা জানিয়েছেন,  প্রাচীন গম্ভীরা শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সব রকম সাহায্যের উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্য সরকার।  তাদের সাম্মানিক দেওয়ার পাশাপাশি গৃহনির্মান প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এবং অন্যান্য ক্ষেত্রে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার।  তবে প্রশাসন গম্ভীরা শিল্পীদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের যারা এই গম্ভীরা শিল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে চান তাদেরকে সব রকম ভাবে সহযোগিতা করার প্রচেষ্টা চালাবে।