দূষণমুক্ত সবুজ পৃথিবী গড়ে তোলার শপথ নিলো ছাত্র-ছাত্রীরা

 আজবাংলা   কৃষ্ণনাগর  : "আবার আসিব আমি বাংলার নদী মাঠ ক্ষেত ভালোবেসে। জলঙ্গীর ঢেউয়ে ভেজা বাংলার এই সবুজ করুণ ডাঙ্গায়"।কবি জীবনানন্দ দাশের লেখা কবিতার এই লাইন কটি কেই বা ভুলতে পারে?কিন্তু সত্যি কি জলঙ্গীর ঢেউয়ে বাংলার প্রান্তর সিক্ত হবে? জলঙ্গি তো আজ মুমূর্ষ উৎস থেকে হারিয়ে গেছে দীর্ঘ ৫০ কিলোমিটার নদীপথ।জলের রঙ নীল,আকাশের রঙও নীল, গাছের রঙ সবুজ, আর বসন্তের রঙ? বসন্তের নানা রঙে রাঙাতে সেভ জলঙ্গীর আয়োজনে বসন্তে নদী বাঁচুক। স্কুল কলেজের ছাত্রছাত্রীরা নদী পাড়ে হাতে এঁকে দিলো নদী বাঁচানোর বার্তা। ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে ছিলো জল পরীক্ষার কর্মসূচী, ছিলো টুসু কে কেন্দ্র করে ধামসামাদল সহকারে নৃত্য, অনুষ্ঠানে উপস্থিত সকল মানুষকে নিয়ে নদী বাঁচানোর শপথবাক্য পাঠ। সমস্থ স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের পাশাপাশি, উপস্থিত ছিলো কৃষ্ণনগর শহরের অনেক মানুষজন। এছাড়াও মুকবধির ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহন ছিলো চোখে পড়ার মতো।মহিলাদের অলংকারেও ছিলো নদী বাঁচানোর ডাক। বসন্তে সকল মানুষের উপস্থিতি দূষিত জলঙ্গী নদী কে বেরঙীন থেকে রঙীন করে তুললো।ক্রমাগত দূষণ এবং অবহেলার শিকার এই নদীকে বাঁচাতে নদীয়া জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন "সেভ জলঙ্গি (নদী সমাজ) " আয়োজন করেছিল একটি "পরিবেশ সচেতনতা শিবির ও কর্মশালার"। শিবিরে অংশগ্রহণ করল শহরের ১০ টি স্কুলের প্রায় ২০০ জন ছাত্র-ছাত্রী । দূষণমুক্ত সবুজ পৃথিবী গড়তে,ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে প্রত্যক্ষভাবে অংশগ্রহণ করানো ছিল এই শিবিরের লক্ষ্য।দূষণমুক্ত পৃথিবী গড়ার শপথ নিল উপস্থিত ছাত্রছাত্রীরা। ওদের প্রত্যয়ী, চিকন কণ্ঠস্বরে নতুন পৃথিবীর স্বপ্ন দেখলেন উপস্থিত সাধারণ মানুষ। সংগঠনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন কৃষ্ণনাগরিকেরা।