মালদহে পুলিশের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য

মালদহে পুলিশের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধারকে ঘিরে চাঞ্চল্য

মালদা:   বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ মিটার দূরে আমগাছ থেকে ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হল কলকাতা পুলিশের এক কর্মীর৷ এই ঘটনায় বুধবার সকাল থেকে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে মালদহের রতুয়া-১ ব্লকের বাহারাল পঞ্চায়েতের বাখরা গ্রামে৷ মৃত পুলিশকর্মীর নাম যতনকুমার রায় (৫২)৷ দেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেলে পাঠিয়েছে রতুয়া থানার পুলিশ৷

তবে এই ঘটনায় এখনও কোনও লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়নি৷ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে শুরু হয়েছে পুলিশি তদন্ত৷ পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, ২০০০ সালে কলকাতা পুলিশে চাকরি পান যতনবাবু৷ তিনি গাড়িচালকের পদে কর্মরত ছিলেন৷ বর্তমানে এক আইপিএস অফিসারের গাড়ি চালাতেন৷ পরিবারে রয়েছেন স্ত্রী প্রতিমা রায়, ছেলে অভিজিৎ ও মেয়ে সুপ্রিতা৷

ছেলেমেয়ের বিয়ে হয়ে গিয়েছে৷ অভিজিৎ একটি বিমা সংস্থায় কাজ করেন৷ সোমবারই কলকাতা থেকে বাড়ি ফিরেছিলেন যতনবাবু৷ গতকাল বাড়িতে তাঁর নাতির জন্মদিনের অনুষ্ঠান ছিল৷ সেই অনুষ্ঠানেও অংশ নেন তিনি৷ অনেক রাতে ঘুমোতে যান৷ আজ সকালে নির্দিষ্ট সময়েই ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে সবার সঙ্গে কথা বলেন৷ সকাল সাড়ে আটটা নাগাদ তিনি বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান৷

ঘণ্টা দুয়েক পর খবর আসে, বাড়ির অদূরে আমগাছে তাঁর দেহ ঝুলছে৷ খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে ছুটে যান পরিবারের সদস্যরা৷ এই খবর চাউর হলে চাঞ্চল্য পড়ে যায় গ্রাম জুড়ে৷ যতনবাবুর দাদা রতন রায় জানাচ্ছেন, ‘আমরা একান্নবর্তী পরিবার৷ আজ সকালে ঘুম থেকে উঠে চা খেয়ে সবার সঙ্গে কথাবার্তা বলে যতন বাড়ি থেকে বেরিয়ে যায়৷

খানিক বাদেই স্থানীয় এক কৃষক খবর দেয়, বাড়ি থেকে সামান্য দূরে ওর দেহ ঝুলছে৷ ও ২২ বছর ধরে কলকাতা পুলিশে গাড়িচালকের চাকরি করছে৷ লালবাজারে পোস্টিং ছিল৷ গতকাল রাতে নাতির জন্মদিনেও ও অংশ নিয়েছিল৷ কেন যে ও এমন সিদ্ধান্ত নিল, তা বুঝে পাচ্ছি না৷ মৃতের এক ভাইপো মনোজিৎ রায় বলেন, ‘কাকা সোমবারই বাড়ি ফিরেছিল৷

গতকাল মাঝরাত পর্যন্ত নাতির জন্মদিনের অনুষ্ঠানে ছিল৷ মাঝেমধ্যেই কলকাতা থেকে বাড়িতে আসত৷ কর্মক্ষেত্রে কারও সঙ্গে কোনও ঝামেলা ছিল কিনা জানি না৷ তবে বাড়িতে কোনও সমস্যা ছিল না৷’ রতুয়া থানার পুলিশ জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কোনও অভিযোগ দায়ের হয়নি৷ আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে৷ মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে৷ তার রিপোর্ট পাওয়া গেলেই মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে৷