রিয়েল হিরো স্বপনকে চাকরি ও মেয়ের আজীবন পড়ার দায়িত্ব ত্রিপুরা সরকারের

Swapan, the job of the job and the life of the girl, is the Tripura government
স্বপন দেববর্মা ও ও মেয়ে

প্রসেনজিৎ দাস,আজবাংলা আগরতলা,  ত্রিপুরা একশো এলডি অ্যাসিস্ট্যান্ট পদে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য সরকার৷ ত্রিপুরায় পাবলিক সার্ভিস কমিশন তথা টিপিএসসি-র মাধ্যমে এই পদে নিয়োগ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে৷ অন্যদিকে, ভয়ংকর দুর্ঘটনা থেকে ট্রেন থামিয়ে প্রায় ১২০০ যাত্রীকে বাঁচিয়ে এবার সরকারি চাকরি পেতে চলেছেন স্বপন দেববর্মা৷ বুধবার রাজ্য মন্ত্রিসভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন ও শিক্ষা দফতরের মন্ত্রী রতনলাল নাথ৷ উল্লেখ্য, সেক্রেটারিয়েট অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের জন্য এই শূণ্যপদগুলিতে নিয়োগ করা হবে৷ এর জন্য প্রার্থীদের কম্পিউটারের জ্ঞান থাকা বাঞ্ছনীয়৷ তবে টিপিএসসি-র মাধ্যমে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় লিখিত পরীক্ষারও ব্যবস্থা থাকতে পারে৷ সেই সঙ্গে নেওয়া হবে টাইপিং টেস্ট৷ বর্তমান সরকারের নিয়োগনীতি মেনে এই শূন্য পদগুলিতে নিয়োগের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে টিপিএসসি-র ওপর৷ মন্ত্রী রতনলাল নাথ জানিয়েছেন, নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা এবং মেধাকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে রাজ্য সরকার৷ তাই মহাকরণের জন্য ১০০ গ্রুপ সি শূন্যপদে নিয়োগের দায়িত্বও এই সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে৷ এদিনই মন্ত্রিসভার বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে স্বপন দেববর্মাকে সরকারি চাকরি প্রদানের৷ তার জন্য শিক্ষাগত যোগ্যতায় বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ একই সাথে তার সেই শিশুকন্যার পড়াশুনার সমস্ত দায়িত্বও রাজ্য সরকার কাঁধে তুলে নিয়েছে৷ এমন-কি পড়াশুনার পর তাঁকেও চাকরিতে নেওয়ার সংস্থান রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রী রতন নাথ৷ উল্লেখ্য, চলতি বছরের ১৫ মে এক কন্যাকে নিয়ে যাওয়ার পথে রেললাইনে ধস দেখতে পান স্বপন দেববর্মা৷ তখন আগরতলা অভিমুখী যাত্রীবাহী ট্রেনকে থামিয়ে প্রায় ১২০০ যাত্রীর প্রাণ রক্ষা করেছিলেন স্বপন দেববর্মা ও তাঁর সেই কন্যা৷ এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর রাজ্যজুড়ে আলোড়নের সৃষ্টি হয়৷ স্বপন দেববর্মাকে রাজ্যবাসী ঈশ্বরের স্থান দেন৷ রাজ্য সরকারও স্বপন দেববর্মাকে বিধানসভায় নিয়ে এসে সম্মান জানিয়েছিল৷ বিভিন্ন ব্যক্তি এবং সংস্থাও তাঁকে সংবর্ধিত করেছে৷ কিছু সংস্থার তরফে আর্থিক সহায়তাও করা হয়৷ তখনই রাজ্য সরকার ঘোষণা করেছিল, স্বপন দেববর্মাকে সরকারি চাকরি দেওয়া হবে৷ কিন্তু চাকরির জন্য যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা থাকা দরকার তা নেই তাঁর৷ নিয়োগনীতি অনুযায়ী গ্রুপ ডি পদের জন্য তফশিলি জাতিভুক্ত প্রার্থীদেরও ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ দরকার৷ কিন্তু স্বপন দেববর্মার শিক্ষাগত যোগ্যতা তৃতীয় শ্রেণি উত্তীর্ণ৷ এমতাবস্থায় তাঁকে চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে সরকার চেষ্টা শুরু করে এবং যথারীতি ক্রীড়া ও যুবকল্যাণ দফতরের গ্রুপ ডি পিয়ন পদে তাঁকে নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয় মন্ত্রিসভা৷ তার জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতায় ছাড় দেওয়া হয়েছে৷ সেই সঙ্গে বয়সের ক্ষেত্রেও ছাড়ের বন্দোবস্ত করা হয়েছে৷ মন্ত্রিসভা সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্বপন দেববর্মার নাবালিকা মেয়েরও সমস্ত পড়াশুনার খরচ আজীবন বহন করবে সরকার৷ পড়া শেষে তাকে যাতে সরকারি চাকরি দেওয়া যায় তার জন্যও সংস্থান রাখা হয়েছে৷

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!