Ganesh Chaturthi| সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আনতে বাড়িতে কিভাবে ভগবান গণেশ পুজো করবেন দেখে নিন

Ganesh Chaturthi| সংসারে সুখ সমৃদ্ধি আনতে বাড়িতে কিভাবে ভগবান গণেশ পুজো করবেন দেখে নিন

আজ বাংলা : তিনি কোথাও গানপাতি বাপ্পা আবার , কোথাও তাঁকে গজানন বলে প্রার্থনা করা হচ্ছে। শ্রী গণেশের বাহন হলেন মুশিক মহারাজ। গণেশ পুজোর সময়, ভক্তরা মোদক বা লাড্ডু, বেগুনি ফুল, রক্তচন্দন এবং দুর্বা ঘাস দিয়ে উপাসনা করে । শাস্ত্র মতে, ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের চতুর্থী তিথিতে গণেশের জন্ম হয়। তাই শাস্ত্রে ভাদ্রপদ শুক্লপক্ষের চতুর্থী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এই দিনই সারা দেশে গণেশ চতুর্থী পালিত হয়। জ্যোতিষশাস্ত্রে চতুর্থীকে রিক্তা তিথি বলা হয়েছে। সে দিন কোনও শুভ কাজ হয় না। কিন্তু সে দিনই গণেশের জন্মদিন হওয়ায় চতুর্থীতে রিক্তা তিথির দোষ গ্রাহ্য করা হয় না। তাই সমস্ত শুভ কাজ করা যায়। তাহলে চলুন জেনে নিই গণেশ ঠাকুরের কোনও মূর্তির পূজা করে কোন ফল পাওয়া যায় -

আর পড়ুন    বাড়িতে সিদ্ধিদাতা গণেশের পুজো কী ভাবে করবেন জেনে নিন

১. আপনি যদি বাড়িতে গণেশ ঠাকুরের একটি মূর্তি স্থাপন করেন তবে আপনাকে অবশ্যই এটি উত্তর দিকে রেখে দেওয়া উচিত।বাস্তুশাস্ত্র অনুসারে উত্তর কোণে গণেশের মূর্তি স্থাপন করা বাড়ির পক্ষে অত্যন্ত শুভ। যদি কোনও কারণে এটি সম্ভব না হয় তবে গণেশের মূর্তিটি উত্তর-পূর্ব দিকে মুখ করে স্থাপন করা উচিত। তবে কখনও গণেশের মুর্তি দক্ষিণে রাখা উচিত নয় । এটি পরিস্থিতি আরও খারাপ করতে পারে। কোনওভাবেই বাড়ির বাথরুমের আশেপাশে গণেশের মূর্তি থাকা উচিত নয়। এরপরে বিপর্যস্ত ভাগ্য পেতে পারেন ।

২. ঘরে সাদা গণেশ মূর্তি বসানো থাকলে সমস্ত আর্থিক সমস্যার সমাধান হবে। বাড়িতে গণেশের মূর্তি এমন ভাবে প্রতিষ্ঠিত করবেন যাতে আপনার বাড়ির বাইরে বেরোনোর দরজার দিকে গণেশ ঠাকুরের মূর্তির পিছন দিকে থাকে, ফলস্বরূপ আপনি কয়েক দিনের মধ্যে সম্পদ অর্জন করবে।

৩.আপনি যদি ঘরের প্রবেশ পথে গণেশ ঠাকুর রাখতে চান তবে আপনার গণেশের শুর বাম পাশে থাকতে হবে। এই ধরণের ভাস্কর্যটি ঘরে ইতিবাচক শক্তি বাড়াতে সহায়তা করে।

৪. উন্নতির জন্য আপনি ঘরের গণেশ মূর্তিতে সিঁদুর দিতে পারেন। এটি আপনার সৌভাগ্যের দরজা খুলে দেবে ।

আর পড়ুন      শত শত বছর ধরে জ্বলন্ত আগ্নেয়গিরির মুখে আজও পূজিত হয় সিদ্বিদাতা শ্রী গণেশ

৫. আপনি গণেশের নাচের মূর্তি কখনোই বাড়িতে রাখবেন না। কারণ এই ধরণের মূর্তি হলো অনিয়ন্ত্রিত শক্তির প্রতীক। সুতরাং এই জাতীয় প্রতিমা যদি পরিবারের অভ্যন্তরে থাকে তবে ঘরে অস্থিতিশীলতা বৃদ্ধি পায়। গৃহকর্তা সুখ ও শান্তি থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।

গণেশের ধ্যান, প্রার্থনা ও প্রণাম মন্ত্রঃ “খর্বং স্থূলতনুং গজেন্দ্রবদনং লম্বোদরং সুন্দরং প্রস্যন্দন্মদ্গন্ধলুব্ধমধুপব্যালোলগণ্ডস্থলম্। দন্তাঘাতবিদারিতারিরুধিরৈঃ সিন্দূরশোভাকরং বন্দে শৈলসুতাসুতং গণপতিং সিদ্ধিপ্রদং কামদম্।।

গণেশের প্রণামমন্ত্র একদন্তং মহাকায়ং লম্বোদরং গজাননং। বিঘ্ননাশকরং দেবং হেরম্বং প্রণমাম্যহম্।।
গণেশের প্রার্থনা মন্ত্র দেবেন্দ্রমৌলিমন্দারমকরন্দকণারুণাঃ। বিঘ্নং হরন্তু হেরম্বচরণাম্বুজরেণবঃ।।
গণেশ পুজো চলে দুই থেকে ‌দশ দিন। তারপর ১১ দিনের মাথায় শোভাযাত্রা করে মূর্তি নিয়ে গিয়ে জলে বিসর্জন দেওয়া হয়। যে কোনও কাজে সমৃদ্ধি তথা সিদ্ধি দান করেন গণেশ। এ ছাড়াও বুদ্ধিভ্রষ্ট মানুষকে বুদ্ধি দান করেন তিনি। তাই গণেশ চতুর্থীর পূজা উপলক্ষে ভগবানের আরাধনার সঙ্গে সঙ্গে উদযাপন করা হয় সুখ ও সমৃদ্ধিকেও। বাড়িতে গণেশ পূজা করলে সেখানে সুখ, শান্তি যেমন বজায় থাকে, তেমনই প্রবেশ করতে পারে না বিপদও। এই বছর গণেশ চতুর্থীর সময় পড়েছে শুক্রবার সকাল ১১.০৯ মিনিট থেকে রাত ১০.৫৯ মিনিট পর্যন্ত। এই বছর গণেশ পুজোর জন্য শুভ সময় শুরু হবে ১২টা ১৭ মিনিটে অভিজিত্‍ মুহূর্ত থেকে এবং এই শুভক্ষণ থাকবে রাত ১০টা পর্যন্ত। এই দিনের বিশেষ সময়কে মাথায় রেখেই বাড়িতে গণেশ প্রতিষ্ঠা করুন। কারণ এই লগ্ন খুবই শুভ।