দেবী ও পার্বতীর সঙ্গে কথা বলতে বিদ্যালয় ছুটে গেলেন স্বয়ং মালদার জেলাশাসক

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা - দেবী ও পার্বতীর সঙ্গে কথা বলতে তাদের কালিন্দী উচ্চ বিদ্যালয় ছুটে গেলেন স্বয়ং জেলাশাসক কৌশিক ভট্টাচার্য্য। ছিলেন জেলা সভাধিপতি গৌড় মন্ডল, জেলা শিশু সুরক্ষা কমিটির চেয়ারপারসন চৈতালি সরকার সহ অন্যান্যরা। দেবী ও পার্বতীর নিরাপত্তার জন্য তাদের সরকারি হোমে রেখে পড়াশোনা কি করে চালানো যায় সে ব্যাপারে উদ্যোগ নিয়েছেন জেলাশাসক। এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকারি হোম শৈশালিতে রেখে তাদের পড়াশুনার ব্যাপারে আপনার চিন্তা চলছে। ওই শিশুটিকে বোঝানোর চেষ্টা চলছে তাদের নিরাপত্তার কথা ভেবেই এ ভাবনা চিন্তা করা হয়েছে। ওখানে পড়াশোনাসহ গান-বাজনা করা যেমন সুযোগ পাবে তেমনি সরকারি বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা সেখান থেকে তারা পাবে। এ ব্যাপারে তাদের কাউন্সিলিং প্রক্রিয়া চলছে। অন্যদিকে সিডাব্লিউসি-র চেয়ারপারসন চৈতালি সরকার বলেন, আমরা এরকম অনেক শিশুদেরই ঘুমে রেখে তাদের শিক্ষা সংক্রান্ত সমস্ত বিষয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে থাকি। ওই দুই শিশুকন্যা কেউ সেখানে রেখে বিভিন্ন পরিষেবা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে ওরা ছুটির সময় আবার নিজেদের গ্রামে আসতে পারবে। এদিন উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস ঘরে দেবী ও পার্বতীর হাতে কিছু উপহার তুলে দেওয়া হয়। দেবী ও পার্বতীর জন্য রাতারাতি জন্য বিখ্যাত হয়ে উঠেছে মানিকচক ব্লকের ভগবানপুর গ্রাম। দুইদিন ধরে সাহায্যে ঢল নেমেছে অনাথ ২ বোনকে। সরকারি আমলা থেকে জনপ্রতিনিধিদের আনাগোনা শুরু হয়েছে গ্রামে। সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন তাঁরা। এখন আর ভিক্ষা করে পেট চালানোর নয়, সরকারি সাহায্যেই তারা নিজেদের পেট চালানোর পাশাপাশি চালিয়ে যেতে পারবে পড়াশোনা। যতদিন ইচ্ছে সরকারি সাহায্য তারা পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে এমনই আশ্বাস পাওয়া গেছে প্রশাসনের তরফ থেকে।অসহায় ২ কন্যার পাশে দাঁড়ান রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র। তাদের বাড়ি গিয়ে প্রাক্তন মন্ত্রী রাজ্য সরকারের সমস্ত রকম সাহায্যের আশ্বাস দেন। প্রাক্তন মন্ত্রীর সাথে এগিয়ে এসেছেন বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনও। এখন রীতিমত সেলিব্রেটি হয়ে উঠেছে দিদি দেবী মাঝি ও বোন পার্বতী মাঝি। স্থানীয় কালিন্দ্রি উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাক্রমে অষ্টম ও পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। বাবা নগেন মাঝি অসুস্থ হয়ে মারা যান বছর দুয়েক আগে। মা চঞ্চলা মাঝি মারা যান তারপরেইই। বাবা মাকে হারিয়ে অনাথ হয়ে পড়ে ২ কন্যা সন্তান। তারা ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবনযাপন করতে শুরুু করে। প্রাক্তন মন্ত্রী সাবিত্রী মিত্র জানান, ' রবিবার বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে দেখেছি এই দুই কন্যাশ্রী জীবন যুদ্ধের কাহিনী। আমি জেলাশাসক ও শিশু সুরক্ষা বিভাগ-সহ বিভিন্ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলে মঙ্গলবার তুই কন্যাশ্রীর সাথে দেখা করে আসি। সরকারি সমস্ত সাহায্য অসহায় ২ বোন পাবে।' বুধবার ওই ২বোনের সঙ্গে দেখা করতে যান জেলা পরিষদের সভাধিপতি গৌর মন্ডল। অসহায় ২ বোনের পড়াশোনা ও খাওয়া খরচ, পোশাক-আশাক, বাউন্ডারি ওয়াল দিয়ে বাড়ি নির্মাণ, বিদ্যুৎ বাতি ও রান্নার গ্যাসের যাবতীয় ব্যবস্থা করেন তিনি। এছাড়াও সরকারি ভাবে ২ বোনকে মাসে ২ হাজার টাকা করে মোট ৪ হাজার টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সভাধিপতি এদিন বলেন, 'অসহায় দুই বোনের পাশে কেন্দ্রীয় সরকার না থাকলেও রাজ্য সরকার সব সময় আছে এবং থাকবেও। এবার থেকে ওই দুই কন্যা সন্তান আর অসহায় নয় আমরা সবাই আছি ওদের পাশে।' সভাধিপতি ছাড়াও এদিন সেখানে হাজির ছিলেন জেলা পরিষদের সদস্য-সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের সরকারি আধিকারিকরা।