আদালতের রায়-য়ে শেষমেষ মুখে খুশির হাসি ফুটলো বৃদ্ধ বাবা-মা’র

Happy smile in the face of old parents'
বাবা-মাকে অবহেলা
Happy smile in the face of old parents'
বাবা-মাকে অবহেলা

আজবাংলা মালদা : ছেলের চাকুরী পাওয়ার পর চূড়ান্ত অমানবিকতার শিকার হয়েছিল বৃদ্ধ বাবা-মা।মারধর করে বাড়ি থেকে বাবা-মা’কে তাড়িয়ে দিয়েছিলো শিক্ষক ছেলে।কার্যত পথের ভিকেরি হয়ে পড়েছিল বাবা-মা। সুবিচার চেয়ে ছেলের বিরুদ্ধে আদালতের দারস্ত হতে হয়েছিলো বাবা-মা’কে। প্রায় ৭ মাস ধরে আদালতে চলা মামলার রাই পেলো বৃদ্ধ বাবা-মা।বিচারপতি রাই দিলেন বাবা-মা’র পক্ষে।আদালতের এই রাইয়ে শেষমেষ মুখে খুশির হাসি ফুটলো বৃদ্ধ বাবা-মা’র। মালদা জেলার মোথাবাড়ি থানার বাঙ্গীটোলা গ্রামের বাসিন্দা। তৈমুর শেখ।বয়স ৬৭।স্ত্রী নূর নাহার বিবি।বয়স ৬১।এই বৃদ্ধ দম্পতির তিন পুত্র সন্তান।দুই ছেলে ভিনরাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিকের কাজ করেন।সংসারের আর্থিক অনটনের কারণে দুই ছেলেকে লেখাপড়া শেখাতে না পারলেও মেজো ছেলে সোহেল রানাকে বাড়ির ঘটি-বাটি বিক্রি করে পড়াশোনা করিয়েছিল বাবা-মা।মেজো ছেলে সোহেল রানা পড়াশোনায় মেধাবী থাকায় কোনো দ্বিধাবোধ ছাড়াই বাড়ির সর্বস্য বিক্রি করে পড়াশোনা সেখাই মা-বাবা।প্রায় বছর খানেক আগে প্রাথমিক শিক্ষকের চাকুরী পাই ছেলে সোহেল রানা। মোথাবাড়ি পিপলতলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চাকুরিতে যোগ দেন ছেলে। আর চাকুরী পেয়েই ছেলের ভোলবদল হয়। কার্যত শিক্ষক ছেলে ভুলেই যায় বৃদ্ধ মা বাবার কথা। ছেলে অত্যাচার শুরু করে বাবা মায়ের ওপর। এমনকি মা বাবাকে মারধর করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয় শিক্ষক ছেলে। যদিও স্থানীয় বাসিন্দা ও স্থানীয় থানার চেষ্টায় বাবা মা বাড়ি ফিরতে পারলেও ছেলে বাবা মায়ের সাথে থাকতে রাজি হয়নি। বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে যায় ছেলে। বৃদ্ধ দম্পতির যা সম্পত্তি টুকু ছিলো ছেলের পড়াশোনায় বিক্রি করার পর এই অসহায় দম্পত্তি কার্যত অর্ধাহারে অনাহারে দিন কাটাতে শুরু করে। অবশেষে ছেলের অমানবিকতার বিরুদ্ধে বৃদ্ধ মা বাবা মালদা জেলা আদালতের দ্বারস্থ হয়। ২৯.০৮.২০১৭ তারিখে আদালতের কাছে সুবিচারের আশায় দারস্ত হন। বৃদ্ধ দম্পত্তি আদালতে আর্জি করেন,সংসার চালাতে পারছেন না তাই শিক্ষক ছেলে যাতে তাদের সহযোগিতা করেন। এই আর্জির ঠিক সাত মাসের মাথায় জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট থার্ড কোর্টের বিচারপতি শ্রীমতী সুস্মিতা খান শুক্রবার রাই ঘোষণা করেন এবং এই বৃদ্ধ দম্পত্তির পক্ষেই রাই ঘোষণা করেন। রাই দেন প্রত্যেক মাসে বাবা ও মা’কে তিন হাজার করে ছয় হাজার টাকা খোরকস দিতে হবে ছেলেকে। আদালতের এই রাইয়ের পর মুখে হাসি ফুটে ওঠে বৃদ্ধ দম্পত্তির।’আদালতের রাইয়ে আমরা খুশি’ বলে জানান বৃদ্ধ মা নূর নাহার বিবি। এপ্রসঙ্গে বৃদ্ধ মা-বাবার পক্ষের আইনজীবী মোহম্মদ সন্টু মিঞা বলেন,” ২৯.০৮.২০১৭ তারিখে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছিলো। যার চূড়ান্ত রাই ঘোষণা করেছেন বিচারপতি। প্রত্যেক মাসে তিন হাজার টাকা বাবা ও তিন হাজার টাকা মা’য়ের জন্য প্রত্যেক মাসে ছেলেকে দিতে হবে বলে রাই দিয়েছেন। টাকা যাতে প্রতিমাসে মা বাবা পায় তার জন্য ছেলে যেহেতু প্রাথমিক শিক্ষক জেলা প্রাথমিক সংসদ চেয়ারম্যানকে আমরা জানাবো লিখিত ভাবে। টাকা যেন বৃদ্ধ বাবা মার ব্যাঙ্কের খাতায় সরাসরি আসে সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করছি”।