ফেরার কলকাতা পুলিশের প্রাক্তন কমিশনার রাজীব কুমারের খোঁজে সিবিআই।

আজবাংলা প্রায় এক বছর ধরে সিবিআই বনাম রাজ্য পুলিশের এই দোর্দণ্ডপ্রতাপ আইপিএসের দড়ি টানাটানিতে যে এখন রাজীব অনেকটা কোণঠাসা, শনিবার সিবিআই অফিসে হাজিরা এড়িয়ে গিয়েছিলেন রাজীব কুমার।এদিন বিকেলে নবান্নে পৌঁছেয় যায় সিবিআই-এর একটি দল। ছুটির দিন ঠিক ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ নবান্নে হাজির হন সিবিআইয়ের ৩ আধিকারিক। তাঁদের হতে রয়েছে ৩টি চিঠি। মুখবন্ধখামের ওই চিঠি মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব ও ডিজিকে দেওয়া হবে বলে সূত্রের খবর। রাজীব কুমারকে নিয়েই চিঠি দেওয়া হয়েছে বলে ধারনা। তবে চিঠিতে কী রয়েছে, তা ভাঙতে চাননি সিবিআই আধিকারিকরা। পরে নবান্নের ভিতরে ঢুকে যান তাঁরা। ৫ মিনিট পরেই বেরিয়ে আসেন তাঁরা। সিবিআইয়ের প্রতিনিধিরা জানান, ডিজিকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিবকে চিঠি দেওয়া সম্ভব হয়নি। আগামিকাল আসার জন্য বলা হয়েছে। চিটফান্ড মামলায় অভিযুক্ত রাজ্যে এডিজি সিআইডি রাজীব কুমারকে 'বাড়তি' সময় দিতে রাজি নয় সিবিআই। সূত্রের খবর এমনটাই। রবিবার সিবিআইয়ের এক আধিকারিক ইঙ্গিত দেন যে তাঁরা সেই আগাম জামিনের আবেদনের বিরোধিতা তো করবেনই, পরিস্থিতি বুঝে তাঁরা রাজীবের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করার আবেদন করতেও পিছপা হবেন না। রাজীব ঘনিষ্ঠ এক আইপিএসের কথায়, ‘‘আগাম জামিন পাওয়ার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর গ্রেফতার হওয়ার আশঙ্কা কতটা তা প্রমাণ করতে হয় আদালতে। এটা ঠিক যে রাজীব কুমারকে এই মামলায় সিবিআই সরকারি ভাবে অভিযুক্ত করেনি। এফআইআরে তাঁর নাম নেই, চার্জশিটেও নাম নেই। কিন্তু শীর্ষ আদালতে বার বার সিবিআই রাজীবকে হেফাজতে নিয়ে জেরার প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছে। সেটাই রাজীবের গ্রেফতারির আশঙ্কা তৈরি করার জন্য যথেষ্ট শক্তিশালী প্রমাণ।” আগাম জামিনের আবেদন করতে গেলেও মঙ্গলবারের আগে কিছু করতে পারবেন না রাজীব। কারণ, শনিবার বার কাউন্সিলের সদস্য বর্ষীয়ান আইনজীবী সনাতন মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যু হওয়ায়, সোমবার হাইকোর্ট-সহ রাজ্যের কোনও আদালতে কাজ করবেন না আইনজীবীরা। সে ক্ষেত্রে হাইকোর্ট বা বারাসত কোর্টেও কাজ হবে না (বারাসত কোর্টেই সারদার আরসি-৪ মামলা চলছে এবং রাজীবকে ওই মামলার সূত্রেই সমন পাঠানো হয়েছে)। আগাম জামিন চাইতে গেলে আবেদন করতে হবে মঙ্গলবার।