করোনাভাইরাস ভয়াবহ রূপ নিতে পারে ভারতে-আশঙ্কা মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার

আজবাংলা   চিন-সীমান্ত পেরিয়ে ক্রমশই গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ছে নোভেল করোনাভাইরাস। অন্ততটি ৫৭টি দেশ ভাইরাস-আক্রান্ত। এক এক করে সংক্রমণের খবর মিলছে বেলারুশ, লিথুয়ানিয়া, নিউজ়িল্যান্ড, নাইজিরিয়া, নেদারল্যান্ডসের মতো দেশ থেকেও। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আজ জানিয়েছে, সঙ্কট সর্বোচ্চমাত্রা ছুঁয়েছে। ভারতে করোনাভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা।ভারতে করোনা সংক্রমিত হলে দ্রুত তা উপমহাদেশের অন্যান্য দেশগুলোকেও ঝুঁকিতে ফেলবে বলে মনে করছে সংস্থাটি। ভারতে এখনও পর্যন্ত হাতে গোনা কয়েকজনের শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পাওয়া গেছে। কিন্তু জনসংখ্যার ঘনত্বের কারণে দেশটিতে করোনা ভাইরাস দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। দেশটির করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়া প্রতিরোধ করার ক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত বলে মনে করছে তারা। ২০১৮ সালে জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক সভায় গবেষণা সংস্থা আরঅ্যান্ডডি ব্লুপ্রিন্টের বিশেষজ্ঞ দল প্রথম ‘ডিজিজ এক্স’ নাম দিয়ে পরবর্তী মহামারি সম্পর্কে সতর্ক করেছিল। সেখানে বলা হয়েছিল, পরবর্তী মহামারিটি কী থেকে উদ্ভূত হবে, তা জানা নেই। কিন্তু এর আশঙ্কা প্রবল। অজানা সেই জীবাণুরই নাম তাঁরা দিয়েছিলেন, ‘ডিজিজ এক্স’। তাঁরা বলেছিলেন, চেনা কোনো জীবাণু থেকে পরবর্তী মহামারি হওয়ার আশঙ্কা কম। আর তেমন হলেও চেনা শত্রুর বিষয়ে মানুষের মোটামুটি প্রস্তুতি থাকে। মুশকিল হচ্ছে অজানা জীবাণু নিয়ে। সে সময় গবেষকেরা এমনকি এও বলেছিলেন যে, এই ডিজিজ এক্স কোনো প্রাণী দেহ থেকে আসা ভাইরাস থেকেই ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাঁরা বলেছিলেন, অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড বিস্তৃত হওয়ার কারণে আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রাণীর সংস্পর্শে আসছে মানুষ। ফলে বিভিন্ন প্রাণীর শরীরে থাকা জীবাণু দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কাও বেড়ে যাচ্ছে। মানুষ এখন এক নতুন মহামারির যুগের সামনে দাঁড়িয়ে। বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাবে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় এক সংবাদ সম্মেলনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান ড. টেড্রস অ্যাডহানম গেব্রেইয়েসুস এক ঘোষণায় বলেন সঙ্কট সর্বোচ্চমাত্রা ছুঁয়েছে। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা জানায়, এসব আশঙ্কার ফলে চীনের পরে করোনা ভাইরাসের সম্ভাব্য ক্ষেত্র হিসেবে যে দেশ তাদের সবচেয়ে চিন্তায় রেখেছে তা হলো ভারত।নিউইয়র্ক পোস্টের এক লেখায় বলাহয় করোনাভাইরাসের হামলা ঠেকাতে যতটা স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হয়, তা ভারতের বেশিরভাগ জায়গাতেই নেই বলে মনে করছে তারা।চীনের বাইরেও অন্যান্য দেশে করোনা ভাইরাসের গতিবিধির ওপর বিশেষ নজর রাখছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা। কোন দেশের সরকার করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে কতটা প্রস্তুত, সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে। সেই পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে ভারত প্রসঙ্গে এই মন্তব্য করেছে সংস্থাটি।শুধু ভারত নয়, ইরান-সহ আরও একাধিক দেশের উপর নজর রাখছে মার্কিন সংস্থাগুলি। তিনি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত বলে সম্প্রতি জানিয়েছেন ইরানের উপ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরাজ হারিরচি। তবে দেশের পরিস্থিতি কী, তা নিয়ে এখনও রাখঢাক করছে তেহরান। এখনও পর্যন্ত যা খবর মিলেছে, তাতে সেখানে  ২১০ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে। আদতে সংখ্যাটা ঢের বেশি বলে মনে করছে মার্কিন প্রশাসন। হাউজ অব রিপ্রেজেন্টেটিভস-এর গুপ্তচর কমিটি পরিস্থিতির দিকে নজর রেখেছে। করোনা নিয়ে সেখানেই সরাসরি রিপোর্ট করে গুপ্তচর সংস্থাগুলি। পরিস্থিতি সামাল দিতে উন্নয়নশীল দেশগুলির কাছে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকাঠামো এবং আর্থিক সংস্থান রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখছে ওই কমিটি।