করোনায় আক্রান্তে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৪, একনজরে করোনা আপডেট

আজবাংলা     কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রক জানিয়েছে, ভারতে এখনও পর্যন্ত করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ১৬৭ জন। তার মধ্যে রয়েছেন ২৫ জন বিদেশি। মৃত্যু হয়েছে ৪ জনের। দিল্লি, কর্ণাটক, পঞ্জাব ও মহারাষ্ট্রে এক জন করে মারা গিয়েছেন।  ক্রমেই ভয়ংকর আকার নিচ্ছে করোনাভাইরাস। চিনের থেকেও চিনের বাইরে ১৭ গুণ বেশি হারে ছড়াচ্ছে এই রোগ। করোনা থাবা বসিয়েছে ভারতেও।ভারতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হল আরও একজনের। পঞ্জাবে মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। এনিয়ে মৃতের সংখ্যা ৪। একদিনে চারশ পঁচাত্তর। করোনার রেকর্ড মৃত্যু ইটালিতে। মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল তিন হাজার। কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে ইটালির পরিস্থিতি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা লম্বার্ডির। একদিনে তিনশ ঊনিশ জনের মৃত্যু হয়েছে সেখানে। গোটা দেশে পঁয়ত্রিশ হাজার সাতশ তেরো জন করোনায় আক্রান্ত। চিকিত্‍সার পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন চার হাজার রোগী।লম্বার্ডির বেরগ্যামো শহরের এক চিকিৎসকও তার ফেসবুক পেজে লিখেছেন যে তিনি প্রায় দুসপ্তাহ নিজের ছেলে এবং পরিবারের সঙ্গে দেখা করেননি। কর্মক্ষেত্রেই রয়েছেন। তাদের শুধু ছবি দেখছেন এবং মাঝেমধ্যে ভিডিও কলিং করছেন। ওই চিকিৎসকের পোস্টও ভাইরাল হয়েছে। টাসকানির এক হাসপাতালের নার্স তার একটি সেলফি পোস্ট করেছেন, যেখানে তার সারা মুখে মাস্ক বেঁধে রাখার দাগ দেখা যাচ্ছে। ছবি পোস্ট করে ওই নার্স লিখেছেন, ২৪ ঘণ্টাই মুখে মাস্ক বেঁধে রয়েছেন তিনি কারণ তার আশঙ্কা যদি কখনও নোংরা হাতে মুখে হাত দিয়ে ফেলেন অসাবধানতা বশত, তাহলে তিনিও সংক্রমিত হতে পারেন। বুধবার দেশে করোনা আক্রান্তে সংখ্যা ছিল ১৫১। তা এখন বেড়ে হয়েছে ১৭৩ জন। এর মধ্যেই পঞ্জাবে নওয়াশহরে ৭২ বছরের এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে করোনায়। এই নিয়ে দেশে করোনায় ৪ জনের মৃত্যু হল। ওই বৃদ্ধ তিনি জার্মানি ও ইটালি সফর করেছিলেন বলে জানা গিয়েছে। অন্য দিকে, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ুতে নতুন করে কয়েক জন সংক্রামিত হয়েছেন। গোটা দেশে নিরিখে মহারাষ্ট্রে সংক্রমণ এখনও পর্যন্ত সর্বাধিক। চণ্ডীগড়েও প্রথম করোনা আক্রান্ত ধরা পড়েছে। করোনা রুখতে জমায়েতে রাশ টানতে চাইছে বিভিন্ন রাজ্যের প্রশাসন। তাই উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান-সহ বিভিন্ন  রাজ্যের কিছু কিছু জায়গায় ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। কাশ্মীরে ট্রেন পরিষেবা আপাতত বন্ধ রাখা হচ্ছে। বন্ধ করা হয়েছে তিরুপতি মন্দিরও।চিনের পর, করোনা-পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে ইটালিতে। সেখানে এক দিনেই ৪৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। যা এই মুহূর্তে সর্বোচ্চ বলেই জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। সেখানে আটকে পড়া প্রবাসী ভারতীয়দের উদ্ধারের পরিকল্পনা করছে বিদেশ মন্ত্রক। আমেরিকায় আক্রান্তের সংখ্যা এই মুহূর্তে ১০ হাজার। মৃত্যু হয়েছে ১৫০ জনের। আক্রান্ত হয়েছেন মার্কিন কংগ্রেসের এক সদস্যও। উহানে অবশ্য এই প্রথম নতুন করে কোনও সংক্রমণের খবর নেই বলেই জানিয়েছে চিনা সরকার।