Home আজ বিশ্ব ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সায় দিলেন ইইউ নেতারা।

ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সায় দিলেন ইইউ নেতারা।

ব্রেক্সিট চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সায় দিলেন ইইউ
ব্রেক্সিট চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক সায় দিলেন ইইউ

আজবাংলা  দীর্ঘ প্রায় ৪৬ বছরের সম্পর্ক গুটিয়ে নিতে সম্মত হলো উভয় পক্ষ। সেই সঙ্গে বিচ্ছেদ সমঝোতা নিয়ে দীর্ঘ প্রায় দুই বছরের নানা বিতর্ক ও উত্তেজনার আপাত-অবসান হলো। ঐতিহাসিক ব্রেক্সিট চুক্তিতে আনুষ্ঠানিক ভাবে সায় দিলেন ইইউ নেতারা। রবিবার তাঁরা একযোগে চুক্তিতে সম্মতি জানানোর পরে বল এ বার ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে-র কোর্টে। তাঁকে এ বার এই চুক্তি নিয়ে আগামী মাসে লড়তে হবে পার্লামেন্টে। হাউস অব কমন্সে প্রবল প্রতিরোধ তৈরির ইঙ্গিত আগে থেকেই দিয়ে রেখেছেন এমপি-রা। ইইউয়ের ২৭ জন রাষ্ট্রনেতা ৬০০ পাতার চুক্তিতে সায় দেন। আগামী বছরের ২৯ মার্চ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে বেরোনোর আগে চুক্তির সব শর্ত মানতে হবে ব্রিটেনকে। সঙ্গে রয়েছে ২৬ পাতার এক ঘোষণাপত্রও, যার মাধ্যমে ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সম্পর্কের গতিপথ নির্ধারণ করা হবে। ১৮ মাসেরও বেশি সময়ের কঠিন এই চুক্তিতে অর্থনৈতিক বিষয় থেকে শুরু রাখা হয়েছে নাগরিক অধিকার, নর্দার্ন আয়ারল্যান্ড এবং ব্রেক্সিট পরবর্তী ২১ মাসের অন্তর্বর্তিকালীন পর্যায়ের বন্দোবস্ত-সহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  টেরেসা যে ভাবে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে লড়েছেন, তার প্রশংসা করেছেন নেদারল্যান্ডসের প্রধানমন্ত্রী মার্ক রুত্তে। তাঁর বিশ্বাস, আগামী সপ্তাহে পার্লামেন্টে আস্থা অর্জন করতে পারবেন টেরেসা।  ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট জঁ ক্লদ জাঙ্কার বলেন, ব্রিটেন চলে যাওয়া ইউরোপের জন্য গভীর মর্মবেদনার। ইইউ নেতারা মনে করেন, সম্ভাব্য সর্বোচ্চ ভালো চুক্তিতে তাঁরা সম্মত হয়েছেন। ব্রিটেনর পার্লামেন্ট যদি এ চুক্তি প্রত্যাখ্যান করে এবং নতুন করে সমঝোতার চেষ্টা চালায়, সে ক্ষেত্রেও আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেন ইইউ নেতারা। ১৯৭২ সালের ২২ জানুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী অ্যাডওয়ার্ড হিথ ‘দ্য ইউরোপিয়ান কমিউনিটিস অ্যাক্ট’ স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে এক ঐতিহাসিক সম্পর্কের সূচনা করেছিলেন, যার পরিবর্তিত রূপ ২৮ দেশের জোট ইউরোপীয় ইউনিয়ন। এই জোটে পরিবেশ সুরক্ষা থেকে খাদ্য নিরাপত্তা কিংবা বাণিজ্য ও নাগরিক অধিকার সমান নিয়মে চলে। প্রাক্তন ফরাসি বিদেশমন্ত্রী মিশেল বাহ্‌নিয়ে (ইইউয়ের তরফে যিনি এই চুক্তির অন্যতম মধ্যস্থতাকারী) বলেন, ‘‘আমরা বন্ধু হিসেবেই থাকব।’’ তার পরে তাঁর সংযোজন, ‘‘এ বার সবার দায়িত্ব নেওয়ার সময়।’’ ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাকরঁ বলেছেন, এই চুক্তি দেখিয়ে দিল, ইউরোপের সংস্কার প্রয়োজন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন, প্যারিস চায় ব্রিটেন ইইউয়ের শর্ত মেনে এগোক (বিশেষত পরিবেশ সংক্রান্ত)। তার বদলে ব্রিটেনকে ব্যবসার সহজ সুযোগ করে দেবে তাঁর দেশ। মাকরঁর মতে, ব্রিটেন যে পথ বেছেছে, তা নিয়ে আনন্দের কিছু নেই, হা হুতাশ করারও কিছু নেই। ব্রিটেন নিজের পছন্দে হাঁটতে চেয়েছে— সেটাই গুরুত্বপূর্ণ।