পুঁইশাক চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বাংলার কৃষকরা

পুঁইশাক চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বাংলার কৃষকরা

আজবাংলা    পুঁইশাক চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন বাংলার কৃষকরা। খরচের তুলনায় প্রায় অনেক বেশি লাভের এই পুঁইশাক চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। পুঁইশাক চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন কৃষক। খরচের তুলনায় প্রায় ৭ গুণ লাভের এ শাক চাষে তাদের আগ্রহ দিন দিন বাড়ছেই। চলতি বছর পুঁইশাকের চাষ প্রায় ৩ গুণ বেড়েছে। পুঁইশাক কে না চেনে। এটি আমাদের দেশের একটি পরিচিত শাক।

শীতকাল ব্যতীত প্রায় সবসময়ই পুঁইশাক পাওয়া যায়। শাক জাতীয় তরকারীর মধ্যে পুঁইশাক হল সবার সেরা। পুঁইশাক একটি পুষ্টিকর এবং সুস্বাদু শাঁক। আমাদের দেশে প্রায় সকল স্থানেই পুঁইশাকের চাষ করা হয়। আসুন জেনে নেই পুঁইশাক চাষ করার পদ্ধতি। প্রয়োজনীয় জলবায়ু ও মাটি গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে পুঁইশাক জন্মে। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়া এবং রোদ পুঁইশাক গাছের পছন্দ। কম তাপমাত্রায় গাছের বৃদ্ধি ও ফলন কম হয়।

  সারিতে বুনলে প্রতি শতকে ৮-১০ গ্রাম বীজ লাগবে। আর ছিটিয়ে বুনলে বীজের পরিমাণ বেশী লাগবে। পুঁইশাকের বীজ বপনের জন্য ১৮ থেকে ২০ সেন্টিগ্রেড তামপাত্রা প্রয়োজন। তাই শীতে সময় যখন তাপমাত্রা কম থাকে সেই সময় বীজ বপনকরা ভাল। সাধারণতঃ গ্রীষ্মকালে বর্ষায় এর চাষ ভাল হয়। বীজ ২৪ ঘন্টা জলে ভিজিয়ে রেখে পরে জমিতে বুনতে হয়। কখনও কখনও বেডে চারা তৈরি করা হয়। ফেব্রুয়ারী থেকে মার্চ মাস পর্যন্ত চারা তৈরির জন্য বেডে বা পলিব্যাগে বীজ বোনা হয়।

চারা দু সপ্তাহের হলে সেগুলো তুলে মূল জমিতে লাগানো যায় বা ফাঁকা জায়গা পূরণ করা যায়। সারিতে বুনলে প্রতি শতকে ৮-১০ গ্রাম ও হেক্টর প্রতি ১.৫-২.৫ কেজি বীজ লাগবে। চাষের উপযুক্ত জমি তৈরি ও চারা রোপন জমির আগাছা পরিস্কারের পর ৫ থেকে ৬টি চাষ ও মই দিয়ে জমির মাটির উত্তমরূপে তৈরি করতে হবে। চারা উৎপাদন করে ১৫-২০ দিনের চারা লাগানো যায়। পুঁই শাকের চারা রোপণের জন্য সারি থেকে সারি ১ মিটার এবং প্রতি সারিতে ৫০ সেন্টি মিটার দূরে দূরে চারা রোপণ করতে হয়।

 

সব ধরনের মাটিতেই পুঁইশাক জন্মে। তবে পুঁইশাক সুনিকাশনযুক্ত বেলে দোআঁশ থেকে এটেল দোআঁশ মাটিতে সবচেয়ে ভাল হয়। তাই বাণিজ্যিকভাবে পুঁইশাক চাষের ক্ষেত্রে দো-আঁশ, বেলে দো-আঁশ ও এঁটেল মাটিযুক্ত জমি বেছে নিতে হবে।গেল বছর চাষ হয়েছিল মাত্র ৪৫ হেক্টর; আর এ বছর তা বেড়ে ১৩০ হেক্টরে উন্নীত হয়েছে। শাক চাষিরা জানান, পুঁইশাক চাষে লাভ হয় অনেক বেশি । এ শাক খেতে সুস্বাদু ও পুষ্টিগুণে ভরা; চাষে বাড়তি সেচ, সার, তেল ও কীটনাশক ব্যবহারের প্রয়োজন হয় না। সামান্য জৈব সার ও ফেরোমন ফাঁদ ব্যবহারেই পোকামাকড় ধ্বংস হয়ে যায়।

চাষীরা জানান, প্রতি বিঘায় ১২ হাজার থেকে ১৬ হাজার টাকা খরচ করে ১ মাসেই ৩৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। এতে বিঘাপ্রতি ২৫ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা লাভ থাকে। সে হিসাব মতে, ৩-৪ বিঘা জমিতে পুঁইশাক চাষ করে দেড় মাসেই পাওয়া যায় প্রায় ৭ গুণ লাভ। এ শাক চাষ করে অল্প সময়েই যে কেউ লাখপতি হতে পারেন বলে স্থানীয় কৃষক জানান।

পুঁইশাক সাধারণত দেড় থেকে ২ মাসের ফসল; তাই একই জমিতে বছরে ৬ থেকে ৮ বার চাষ করা যায়। উঁচু ও মাঝারি উঁচু জমিতে বেলে, বেলে-দোআঁশ মাটিতে; বিশেষ করে বাড়ির আঙিনায় পুঁইশাক চাষ করা যায়।শাক ব্যবসায়ীরা জানান, পুঁইশাক সতেজ মেলে, তাই এর চাহিদা ও দাম সারা বছর বেশি থাকে। ফলে উত্‍পাদনকারী, খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতারা আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন পুঁইশাক বিক্রি করে।