এনআরসি-র চূড়ান্ত তালিকা, গোটা অসমজুড়ে নেমে এসেছে আশঙ্কা আর উদ্বেগের ছায়া।

আজবাংলা গুয়াহাটি রাজ্যের মোট ৩৩টি জেলার মধ্যে ১৪টিকে রাজ্য সরকার স্পর্শকাতর বলে ঘোষণা করেছে। মুসলমান–অধ্যুষিত এলাকায় নেওয়া হয়েছে বিশেষ সতর্কতা। বিজেপি শাসিত এই রাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, এনআরসি তালিকা প্রকাশের পর কোনো রকম প্রতিবাদ বরদাশত করা হবে না। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত ২০ কোম্পানি আধা সামরিক বাহিনী রাজ্যে পাঠানো হয়েছে। মোট আড়াই হাজার এনআরসি সেবাকেন্দ্র আগলাতে শুরু করেছে নিরাপত্তারক্ষীরা। বরাক উপত্যকার করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দিসহ স্পর্শকাতর ১৪ জেলার ওপর বিশেষ নজর রেখেছে প্রশাসন। এনআরসি ঘিরে গোটা রাজ্যের পরিবেশ থমথমে। এনআরসি-র পদ্ধতি নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন রাজ্য বিজেপির বেশ কিছু নেতা-মন্ত্রীও। তাঁদের আশঙ্কা, বহু বাঙালি হিন্দুর নাম তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে। অনেক বিদেশি এই তালিকায় ঢুকে পড়তে পারেন। গত সপ্তাহেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে এনআরসি নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনওয়াল। তিনি পরে জানান, তালিকা থেকে বিদেশিদের বাদ দিতে কেন্দ্র আইন আনারও চিন্তাভাবনা করছে যাতে সঠিক নাগরিকরা তালিকা থেকে বাদ না পড়েন। ১৯৮৫ সালের আসাম চুক্তিতে জাতীয় নাগরিকপঞ্জি তৈরির কথা বলা ছিল। ভিত্তিবর্ষ ধরা হয়েছিল ১৯৭১ সালের ২৪ মার্চ। কিন্তু দীর্ঘ টালবাহানায় নাগরিকপঞ্জি তৈরি করা হয়ে ওঠেনি। ২০১৩ সালে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে এনআরসি তৈরির কাজ হাতে নেওয়া হয়। গোটা রাজ্যে খোলা হয় ২ হাজার ৫০০টি এনআরসি সেবাকেন্দ্র। ৫২ হাজার সরকারি কর্মী নিযুক্ত হন নাগরিক তালিকা তৈরির কাজে। খরচ হয় ১ হাজার ২২০ কোটি টাকা। নাগরিকপঞ্জিতে নাম তোলার জন্য মোট আবেদন জমা পড়ে ৩ কোটি ২৯ লাখ ৯১ হাজার ৩৮৪। চূড়ান্ত খসড়া তালিকায় স্থান হয় ২ কোটি ৮৯ লাখ ৮৩ হাজার ৬৭৭ জনের। বাতিলের তালিকায় ঠাঁই হয় ৪০ লাখ ৭ হাজার ৭০৭ জনের। পরে বাদ দেওয়া হয় আরও ১ লাখ ২ হাজার ৪৬৫ জনকে। নাগরিক তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না হওয়া ৪১ লাখ ১০ হাজার ১৭২ জন নারী–পুরুষের অধিকাংশই হিন্দু ও মুসলমান বাঙালি। চূড়ান্ত তালিকায় নাম রয়েছে কি না, তা জানতে এঁরা সবাই বিনিদ্র রজনী যাপন করছেন। যাঁদের নাম উঠবে না, তাঁদের প্রত্যেকের ভবিষ্যৎ আজ থেকে অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।