মার্কিন প্রেসিডেন্টে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে লড়তে চলেছেন প্রথম হিন্দু মহিলা

Hindu woman to fight for Democratic Party in the US President
তুলসী গাব্বার্ড

আজবাংলা নিউইয়র্ক    প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতিমধ্যেই জানিয়ে দিয়েছেন তিনি আবারও রিপাবলিকানদের প্রার্থী হতে চান। সেক্ষেত্রে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে শক্তপোক্ত কোনও প্রার্থীকেই দাঁড় করাতে চাইবেন ডেমোক্র্যাটরা। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচন ২০২০ সালে। তাতে নাম লেখাতে চলেছেন হাওয়াইয়ের হিন্দু ডেমোক্র্যাট সেনেটর তুলসী গাব্বার্ড। প্রোসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করব আগামী সপ্তাহে।

কে এই তুলসী গাব্বার্ড ? তুলসি ভারতীয়ও নন, ভারতীয় বংশোদ্ভূতও নন। তাঁর বাবা মাইক গাব্বার্ড বর্তমানে হাওয়াই রাজ্যের সিনেটর এবং মা ক্যারোল পোর্টার গাব্বার্ড একজন শিক্ষক ও ব্যবসায়ী। তুলসী গাব্বার্ড-এর মা ক্যারোল এবং বাবা মাইক গব্বার্ড ছিলেন আমেরিকান সামোয়া। তুলসীর দু’বছর বয়সের সময়ই তাঁরা পাকাপাকিভাবে হাওয়াই-য়ে চলে আসেন। খ্রিস্টান হলেও বাড়িতে হিন্দু ধর্মের মন্ত্রতন্ত্র, কীর্ত্তন চর্চা হত। তাঁর মা হিন্দু ধর্মে বিশ্বাসী ছিলেন এবং হিন্দু ধর্মের কিছু আচার, রীতি-নীতিও পালন করতেন। তাতে অনুপ্রাণিত হয়ে কিশোরী বয়সে হিন্দু ধর্ম গ্রহণ করেন তুলসী। মাত্র  তার পিতা যেমন ক্যাথলিক চার্চেও সক্রিয় সদস্য ছিলেন তেমনি কীর্তন ও চর্চা করতেন। মা ইউরোপীয় সংস্কৃতির উত্তরাধীকারী হলেও পালন করেন হিন্দুধর্ম। টিনএজার থাকা অবস্থায় তুলসি ধর্ম হিসেবে হিন্দুইজম গ্রহণ করেন। প্রাথমিক শিক্ষা বাড়িতেই। মাঝে দুই বছর কাটিয়েছেন ফিলিপিন্সে মিশনারি একাডেমিতে। হাওয়াই প্যাসিফিক ইউসির্ভাসিটি থেকে স্নাতক। ২০০৪-৫ সময়কালে হাওয়াই আর্মি ন্যাশনাল গার্ডের মেডিক্যাল ইউনিটের সদস্য হিসেবে সরাসরি কাজ করেছেন ইরাকের যুদ্ধক্ষেত্রে। সেখান থেকে ফিরে ২০০৬ এ কাজ করেছেন সিনেটর ড্যানিয়েল আকাকার সহকারী হিসেবে। এরপর কিছুদিন কাজ করেন কুয়েতে। দ্বিতীয় মেয়াদে মধ্যপ্রাচ্যে দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে হনুলুনু সিটি কাউন্সিলের সদস্য নির্বাচিত হন। হাউস অব রিপ্রেজেনটিটিভে তিনি আর্মস সার্ভিসেস এবং ফরেন এ্যাফিয়ার্স কমিটিতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন।

২১ বছর বয়সেই তুলসি হাওয়াই রাজ্যসভার সর্বকনিষ্ঠ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।  কেবল রাজ্যে নয় সারা যুক্তরাষ্ট্রে স্টেট অফিসে নির্বাচিত সর্বকনিষ্ঠ নারীর রেকর্ডও তার। আর মাত্র ৩৭ বছর বয়সে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আগামী ২০২০-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটিক দলের অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আবির্ভূত হয়ে চমকে দিয়েছেন রাজনৈতিক বোদ্ধাদের। এই তরুণের উত্থানে চমক থাকলেও মেধা এবং যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার অবকাশ নেই। ২১ বছর বয়সে রাজ্যসভার সদস্য হয়ে যে যাত্রা শুরু, ৩৭ পা দিয়েও কংগ্রেস সদস্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ নির্বাহী অর্থাৎ প্রেসিডেন্ট পদটির দিকে এগিয়ে চলেছেন অপ্রতিহত গতিতে। বর্তমানে হাওয়াই থেকে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির হয়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভের নির্বাচিত সদস্য তুলসি নিজের অবস্থানে সব সময় ছিলেন দৃঢ়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসে তিনিই প্রথম কোন হিন্দু ধর্মাবলম্বী কংগ্রেস সদস্য। ২০১৬ তে ডেমোক্র্যাটিক ন্যাশনাল কমিটির ভাইস চেয়ারের দায়িত্বে থাকার পরেও বার্নি স্যান্ডার্সের বিরুদ্ধে পরিচালিত অনৈতিক কার্যকলাপের প্রতিবাদে পদত্যাগ করে দলের অভ্যন্তরে প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে বার্নি স্যান্ডার্সকে সমর্থন প্রদান করেন।

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের যুক্তি, ডেমোক্র্যাটদের হয়ে প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে নাম লেখাতে চলেছেন অনেকেই। ম্যাসাচুসেটসের সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেন ইতিমধ্যেই কাজকর্ম শুরু করে দিয়েছেন। নিজের উদ্যোগে একটি কমিটি গড়েছেন তিনি। যাদের নির্দেশ মেনে বিভিন্ন প্রদেশগুলি ঘুরে দেখতে শুরু করেছেন। ক্যালিফোর্নিয়া থেকে প্রার্থী হতে পারেন কমলা হ্যারিস, নিউ জার্সি থেকে কোরি বুকার এবং ভারমন্টের বার্নি স্যান্ডার্স তো রয়েইছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহে একে একে নিজেদের প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করতে শুরু করবেন তাঁরা। বারাক ওবামার আমলের জুলিয়ান কাস্ত্রো শনিবারই প্রার্থী হওয়ার কথা ঘোষণা করবেন। বসে নেই তুলসি ও ইতোমধ্যে তার পক্ষে বার্নি স্যান্ডার্সের ডেপুটি ক্যাম্পেইন ম্যানেজার রানিয়া ব্যাট্রিসের নিয়োগ প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বী হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। রানিয়ানিজে তার মতো করে তুলসির পক্ষে দল সাজাচ্ছেন। উদ্দেশ্য একটাই ডেমোক্র্যাটিক পার্টির প্রেসিডেন্সিয়াল রেসে বিজয়ী হওয়া। সম্প্রতি আইওয়া রাজ্য পরিদর্শনকালে সেখানকার সাধারণ নাগরিকরা প্রেসেডেন্ট পদে তুলসির প্রতিদ্বন্দ্বিতার পক্ষেজোরালো দাবি জানান। সম্প্রতি সিএনএন-এর ‘দ্য ভ্যান জোন্স শো’-তে  হাজির হন তুলসী। সেখানে তিনি জানান, প্রোসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে নাম লেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করব আগামী সপ্তাহে।  ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার সংস্কার, জলবায়ু পরিবর্তন এবং স্বাস্থ্যবিমা সংক্রান্ত সমস্যাগুলির সমাধান বার করাই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন তিনি। তবে যুদ্ধের অবসান এবং শান্তি প্রতিষ্ঠাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দি়য়ে দেখতে চান। তিনি বলেন, ‘‘এই সিদ্ধান্তের পিছনে অনেক কারণ রয়েছে। নানা সমস্যায় জর্জরিত মার্কিনবাসী। সেগুলির সমাধান করতে চাই।’’ ধারণা করা হচ্ছে ২০২০-এর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে তিনি শক্ত প্রার্থীরূপে আবির্ভূত হবেন। আর আমেরিকা পেয়ে যাবে তাদের তরুণতম প্রেসিডেন্ট। সেটি হয়ত একটি সম্ভাবনা। কিন্তু এ পর্যন্ত তার অর্জনের কারণে সারা বিশ্বের তরুণদের কাছে এখন তিনি রোল মডেল।