পরিবারে এল কন্যাসন্তান, নাতনিকে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি নিয়ে এলেন দাদু!

পরিবারে এল কন্যাসন্তান, নাতনিকে হেলিকপ্টারে করে বাড়ি নিয়ে এলেন দাদু!

কন্যাসন্তান জন্মানো মানে এখনও সমাজের অনেক অংশে একটি দায়, বিষাদের সুর। তাই আজও কন্যাসন্তান জন্মানোর পরেই কিছু কিছু ক্ষেত্রে সেই শিশুকন্যাকে হত্যার ঘটনা আমাদের সমাজে সন্তর্পণে ঘটে। কিন্ত বদলাচ্ছে সমাজ, বদলাচ্ছে চিন্তাধারা। কন্যাসন্তান যে দেশের সম্পদ, তা প্রমাণ করল রাজস্থানের একটি পরিবার। দীর্ঘ ৩৫ বছরে এই পরিবারে কোনও কন্যা সন্তানের জন্ম হয়নি। হঠাত্‍ তাঁদের ঘরে লক্ষ্মীর আগমনে আনন্দের সীমা পার করে ওই পরিবারে। নবজাত কন্যাসন্তানকে স্বাগত জানাতে একেবারে হেলিকপ্টার ও ব্যান্ড ভাড়া করা হয়। তাকে স্বাগত জানাতে হেলিকপ্টারে খরচ পড়েছে প্রায় ৪.৫ লক্ষ টাকা।

গোটা গ্রামের রাস্তায় বিছিয়ে ফেলা হয় গোলাপের পাপড়ি। রাজস্থানের নাগৌড় জেলার নিম্বড়ি চান্দাওয়াতা (Nimbdi Chandawata) গ্রামের ঘটনা। ঘটনার দিন গ্রামে হেলিকপ্টারটি অবতরণ ও নবজাত কন্যার আগমনে স্থানীয়রা উত্‍সবের পালন করেন। শিশুটিকে এক ঝলক দেখতে প্রচুর সংখ্যায় মানুষেরা উপস্থিত হয়। পরিবার সূত্রে খবর, দুই মাস আগে ওই কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। রামনবমীর শুভদিন উপলক্ষে তাঁকে ঘটা করে পৈতৃক গ্রামে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করা হয়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, নবজাতক মেয়েটির দাদু মদন লাল কুমার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন হেলিকপ্টারে চড়িয়ে গ্রামে প্রবেশ করাবেন তাঁদের ঘরের লক্ষ্মীকে।

সেই কারণে জেলা কালেক্টরের কাছ থেকে অনুমতি নিয়ে দু'টি গ্রামে অস্থায়ী হেলিপ্যাড তৈরি করেছিলেন। দু'টি গ্রামের দূরত্ব ছিল ৩০ কিলোমিটার। হেলিকপ্টারে করে তা মাত্র ২০ মিনিটে অতিক্রম করা হয়। শিশু কন্যার বাবা হনুমান রাম প্রজাপত তাঁর মেয়েকে নিজের কোলে করে হেলিকপ্টার থেকে নিচে নামিয়েছিলেন। তিনি বলেন, "আমার নবজাতক কন্যাকে হেলিকপ্টারে করে নিয়ে আসার কারণ একটাই, আমি বার্তা দিতে চাই যে পরিবারে মেয়ের জন্ম উত্‍সবের মতো উদযাপন করা উচিত"।

অথচ আজও উন্নত সমাজে কন্যাসন্তান মানে দায়। তাই গ্রামাঞ্চলে অবাধে নষ্ট করা হয় কন্যাভ্রূণ। অথচ যাঁরা এই ভ্রূণ নষ্ট করেন, তাঁরা একবারও ভেবেছেন কি একটি কন্যাভ্রূণের মাধ্যমে কতগুলি সম্পর্ক তারা নষ্ট করছেন? কন্যাভ্রুণ অর্থাত্‍ কারও মেয়ে, কারও বান্ধবী, কারও স্ত্রী, আবার কারও মা। তাহলে একটা ভ্রূণে রয়েছে এতগুলি সম্পর্কের বীজ! ফলে সেই ভ্রূণটি নষ্ট হলে তারই সঙ্গে নষ্ট হয়ে যায় অসংখ্য সম্পর্ক। তবু কন্যাভ্রূণ হত্যা আজও চলছে। সেই সংখ্যা হয় তো কিছুটা কমেছে, কিন্তু একেবারে নির্মূল হয়ে যায়নি। রাজস্থানের এই ঘটনা গোটা দেশে কন্যাসন্তানের গ্রহণ যোগ্যতা একটু হলেও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে মনে করছে বিশিষ্টমহল।