বিশ্বে সেরা অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির, এই মন্দিরের লঙ্গরখানার বিশেষত্ব জানা আছে?

বিশ্বে সেরা অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির, এই মন্দিরের লঙ্গরখানার বিশেষত্ব জানা আছে?

আজবাংলা         লন্ডনের ওয়ার্ল্ড বুক অফ রেকর্ডস থেকে কিছু বছর আগে জানানো হয়েছিল, বিশ্বের দ্রষ্টব্য স্থানগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয় শিখধর্মের পবিত্রতম তীর্থস্থান অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে | অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির দেখতে ভিড় জমান দেশ বিদেশ থাকা আসা অসংখ্য পর্যটক এবং ভক্ত | এই মন্দির হল শিখধর্মের পবিত্রতম তীর্থস্থান | এটি চতুর্থ শিখ গুরু রাম দাস কর্তৃক প্রতিষ্ঠিত অমৃতসর শহরে অবস্থিত | এই শহরটি গুরু দি নগরি বা গুরুর নগরী নামে পরিচিত | হরমন্দির সাহিবে শিখধর্মের চিরন্তন গুরু শ্রী গুরু গ্রন্থ সাহিব সর্বদা বিরাজমান | 

এই কারণে এই স্থান শিখদের নিকট পবিত্র | সকল পেশা ও সকল ধর্মের নারীপুরুষ যাতে ঈশ্বরকে সমভাবে উপাসনার সুযোগ পান, সেই কারণে এই মন্দির নির্মিত হয় | গুরু গ্রন্থ সাহিব শিখধর্মের পবিত্রতম ধর্মগ্রন্থ | ১৭০৮ সালের ৭ অক্টোবর নান্দেদে দশম গুরু গোবিন্দ সিংহ এই গ্রন্থকে শিখদের চিরন্তন গুরু ও শিখধর্মের নেতা ঘোষণা করে যান | 

গুরুপূর্ণিমায় ভক্ত সমাগমে ভরে ওঠে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দির | সাধারণ মানুষ থেকে তারকা, শিখ ধর্মবলম্বীদের প্রধান এই ধর্মস্থান আকর্ষণ করে সবাইকেই | শুধু ভক্তি নয়, স্বর্ণমন্দিরের অন্যতম আকর্ষণ এখানকার অসাধারণ খাবারও | অনেকেই তো অমৃতসর গিয়েছেন, কিন্তু স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গরখানার বিশেষত্ব কি জানা আছে কারুর? আজ আমরা সেই লঙ্গরখানা সম্বন্ধেই জানবো | রিপোর্ট মারফত জানা যায়, প্রতিদিন এক লক্ষ মানুষের পা পড়ে অমৃতসরের স্বর্ণমন্দিরে | গোটা পৃথিবীর মধ্যে স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গরটিই হল সবচেয়ে বড় কমিউনিটি কিচেন | প্রতিদিন এখানে প্রায় ৭৫,০০০ মানুষের পাত পড়ে | স্বর্ণমন্দিরের লঙ্গরের আসল জাদু রয়েছে এখানকার কড়া প্রসাদে | 

আসল ঘি দিয়ে তৈরি এই প্রসাদে গন্ধ মাতোয়ারা করে দেয় সকলকে | অনেকের মতেই এই প্রসাদের নানা ধরণের অসুখ সারানোর ক্ষমতা রয়েছে | গুরু রামদাস লঙ্গর হল ৫০,০০০ বর্গফুট জায়গা নিয়ে গঠিত | এটি দু-ভাগে ভাগ করা কাছে | সেখানে একসঙ্গে প্রায়  ৫০০০ মানুষ এখানে বসে খেতে পারেন | এখানে জাত, ধর্ম, বর্ণ বিশেষে মানুষে মানুষে কোনও ভেদাভেদ করা হয় না | এখানকার খাবারের মধ্যে ভাত, ডাল, রুটি, সবজি, ছানা, ক্ষির প্রতিদিন দেওয়া হয় | প্রতিদিন এই লঙ্গরে খাবার বানাতে ১২,০০০ কেজি ময়দা, ১,৫০০ কেজি চাল, ১৩,০০০ কেজি ডাল এবং ২,০০০ কেজি সবজি লাগে | ৪৫০ জন স্বেচ্ছাসেবী মিলে ২৪ ঘণ্টা এই রান্নাঘর চালু রাখেন |