সন্দেহের জেরে নিজের স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে ।

দেবু সিংহ আজবাংলা মালদা , স্ত্রী'র মোবাইলে ফেসবুক করাতেই সন্দেহ স্বামীর । আর সেই সন্দেহের জেরে নিজের স্ত্রীকে কুপিয়ে খুনের চেষ্টার অভিযোগ উঠলো স্বামীর বিরুদ্ধে । সোমবার রাতে চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মালদা শহরের উত্তর বালুচর এলাকায়। এই ঘটনার পর আক্রান্ত ওই গৃহবধূকে পরিবারের লোকেরাই মালদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তির ব্যবস্থা করেন। এই ঘটনায় হামলাকারী স্বামী বাপ্পা রজকের বিরুদ্ধে ইংরেজবাজার থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে। পাশাপাশি আক্রান্ত গৃহবধূর পরিবার স্থানীয় কাউন্সিলরকেও পুরো বিষয়টি জানিয়েছেন।  ঘটনার পর থেকে পলাতক অভিযুক্ত স্বামী।স্থানীয় কাউন্সিলর কাকলি চৌধুরী জানিয়েছেন,  গৃহবধূর হামলার ঘটনার অভিযোগ শুনেছি।  পুলিশ যাতে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে সে কথাও জানানো হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে,  আহত গৃহবধূর নাম প্রতিমা রজক (৩২)।  অভিযুক্ত স্বামী  বাপ্পা রজক। ওই দম্পতির দশ বছরের রাজীব রজক নামে এক পুত্র সন্তান রয়েছে‌। সে স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীতে পাঠরত । ওই গৃহবধূর বাড়ি মালদা শহরের উত্তর বালুচর এলাকায়। শশুর বাড়ি দক্ষিণ বালুচর এলাকায়। পাশাপাশি ওই দম্পতির দীর্ঘদিন আগেই ভাব করে বিয়ে হয়। সোমবার রাতে স্ত্রীর সঙ্গে মোবাইলে ফেসবুক করা নিয়ে বচসা বাধে স্বামী বাপ্পা রাজকের। এরপর সন্দেহের বশে স্ত্রী প্রতিমাদেবীকে লোহার রড দিয়ে মাথা থেতলে খুনের চেষ্টা চালায় অভিযুক্ত স্বামী।আক্রান্ত গৃহবধূ প্রতিমা রজক জানিয়েছেন,  তার স্বামী একটা সময় শ্রমিক সরবরাহ এবং রংয়ের কাজ করতেন । বর্তমানে সে বেকার। বিভিন্ন জায়গায় কাজ করে সংসার চালান তিনি। সোমবার রাতে মদ খাওয়ার জন্য তার স্বামী ৫০০ টাকা চেয়েছিল । সেই টাকা দিতে অস্বীকার করি। এরপরই শুরু হয় ফেসবুক করা নিয়ে স্বামীর সন্দেহ। প্রকাশ্যেই পরকীয়া সন্দেহ করেই শ্বশুর বাড়িতেই  বাপ্পা  লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে খুনের চেষ্টা চালায়। ‌  ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পরি। এরপরই আশেপাশের লোকজন এবং পরিবারের সদস্যরা ছুটে আসেন।  পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পালিয়ে যায় বাপ্পা রজক। পরে ওই গৃহবধূকে মালদা মেডিক্যাল কলেজে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়।আক্রান্ত গৃহবধূর মা সুনতি সাহা জানিয়েছেন, জামাই বরাবরই তার মেয়েকে সন্দেহের চোখে দেখতো। ফেসবুক করা নিয়ে সন্দেহের বশে জামাই তার মেয়েকে পিটিয়ে খুনের চেষ্টা চালিয়েছে।মালদা মেডিকেল কলেজের ডেপুটি সুপার ডাঃ জ্যোতিষ চন্দ্র দাস জানিয়েছেন,  ওই গৃহবধূর মাথায় ১০ টি সেলাই পড়েছে। রক্তক্ষরণ হয়েছে। তবে আপাতত এই মহিলার শারীরিক অবস্থা ভালো রয়েছে।ইংরেজবাজার থানার পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।  অভিযুক্ত পলাতক । তার খোঁজ চালানো হচ্ছে।