মালদায় লকডাউনে অসহায় অবস্থায় আম বাগানে বসবাস করছেন যাযাবরেরা।

তনুজ জৈন   আজবাংলা    মালদা:     ইংলিশ বাজার ও ওল্ড মালদা পৌরসভার ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে সাহাপুর নিকটবর্তী রায়পুর গ্রাম।ঐ গ্রামের আম বাগানে বিভিন্ন জায়গা থেকে এসে বসবাস করছেন কয়েকটি যাযাবর পরিবার। দেশজুড়ে লক ডাউন চলার কারণে তারা আটকে পড়েছেন এবং প্রায় তিন মাস ধরে আম বাগানে পলিথিনের ছাউনির তলায় ঝড়, বৃষ্টির মধ্যেই বসবাস করছেন। তারা জানালেন বাপ-ঠাকুর্দার আমল থেকে শুরু করে এখনও সকলেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে এমনি ভাবেই বসবাস করেন। তবে তারা ভিখারী নয়। তারা প্রধানত কাজকর্ম করে জীবন-জীবিকা অর্জন করেন। তাদের প্রধান কাজকর্ম হল তেল-তাবিজ ও নানা ধরনের জরিবুটি বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করা। আর মহিলারা কান পরিষ্কার ও নখ কেটে অতিরিক্ত আয় করেন। কিন্তু লকডাউনের ফলে তাদের জীবন জীবিকা পুরোপুরি ভাবে বন্ধ। কোন উপার্জন নেই। তাদের কাছে সরকারি কোন নথিপত্র না থাকায় রেশনের চাল ও নানা সরকারি সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত। তাই তাদের বর্তমানে পুরোপুরি নির্ভর করতে হচ্ছে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা গুলোর ওপর। তারা জানালেন প্রায় দুই মাস ধরে নানা স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাদের নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দিয়ে সহযোগিতা করছেন। বর্তমানে ছোট, বড় মিলিয়ে ১৫০ জন যাযাবর রয়েছেন। একটি মাত্র পলিথিন এর নিচে গাদাগাদি করে সর্বক্ষণ বসবাস করছেন আম বাগানের নিচে। আম ফানের মত বিধ্বংসী বিপর্যয়েও তারা গাছের নিচে পলিথিনের কুঁড়ে ঘরেই ছিলেন। বংশ পরম্পরা বসবাস করার কারণেই নানা ধরনের বিপর্যয়, বৃষ্টিবাদল প্রভৃতি তাদের নিত্যসঙ্গী। তাই তাদের কঠিন পরিস্থিতিতেও ভয় লাগে না বলে অভিমত প্রকাশ করেন যাযাবরদের একজন সদস্য। পরিবারে রয়েছে অসংখ্য শিশু, যাদের বয়স কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর। গত কয়েকদিন আগে পরিবার গুলোর কথা জানতে পেরে মালদা জেলা আওয়াজ কমিটি ও এসো বন্ধু হই সংস্থার সদস্যরা এদিন হাজির হন তাদের পাশে। জেলা আওয়াজ কমিটির সম্পাদক অধ্যাপক ডঃ মুহাম্মদ ইসমাইল ও উপদেষ্টা কমিটির সদস্য নইমুদ্দিন সেখ সহ এসো বন্ধু হও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের সম্পাদিকা শ্রাবণী পাল ও সভাপতি শ্রীমন্ত মৈত্রের নেতৃত্বে খাদ্য সামগ্রী নিয়ে তুলে দেওয়া হয় অসহায় যাযাবর গরিব পরিবার গুলোর হাতে। দেওয়া হয় চাল,ডাল, আলু,সয়াবিন,মাস্ক,সাবান, দুধের প্যাকেট, বিস্কুটের প্যাকেট ।অধ্যাপক ডঃ ইসমাইল জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিগ্গানের যুগে তেল,তাবিজ, জড়িবুটির বাজার না থাকায় সংসার চালানোর মতো প্রয়োজনীয় আয় আর হয় না এবং বর্তমানে তাদের মধ্যে বহু পরিবার ভ্যান, রিক্সা, আটো প্রভৃতি চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছেন।শ্রীমন্তবাবু বলেন সরকারি তরফে উদ্যোগ নিয়ে তাদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা ও আবাস যোজনার আওতায় তাদের স্হায়ী গৃহ দেওয়ার ব্যবস্থা হলে ওদের সমস্যা মিটবে।