ইউরোপিয়ান ফুটবলে করোনা ভাইরাসের প্রকোপ

European football

আজবাংলা    গত বছরে ডিসেম্বরে চীনের উহান প্রদেশে প্রথম শোনা যায় করোনা ভাইরাসের কথা। খুব দ্রুত এ ছোঁয়াচে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে চীনের বাকি সব শহরে। ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি, এ সময়ে চীনে ভয়ঙ্কর সংক্রামণ হলেও চীনের বাইরে খুব কম দেশেই ছড়িয়েছিল। প্রচণ্ড ছোঁয়াচে হবার কারণে আগেভাগে বিভিন্ন দেশগুলো প্রস্তুতি নিয়ে রাখলেও ভাইরাসের কবল এড়ানো যায়নি। মূলত, জানুয়ারির শেষ ভাগ থেকে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের শুরুতে করোনা ভাইরাস পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বিস্তার লাভ করেছে। একই সাথে শুরু করেছে প্রাণহানি।

চীনের উহানের মতো এই ভাইরাস নতুন করে ঘাঁটি গড়ে ইতালি, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশে। এবং চীনের পর এই তিন দেশেই সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষ মারা গেছে।  ফ্রান্সে এখন পর্যন্ত মারা গেছেন প্রায় ২০০ জনের কাছাকাছি। আক্রান্ত প্রায় আট হাজার। সে তুলনায় ব্রাজিলে করোনাভাইরাস এখনো তেমন ছোবল তুলতে পারেনি। এখন পর্যন্ত সেখানে আক্রান্ত পৌনে চার শ-র মতো মানুষ, মারা গেছেন একজন।

প্রাণঘাতী করোনার ফণা তুলে ছড়িয়ে পড়ার এই সময়ে ফ্রান্সের চেয়ে ব্রাজিলই তো তুলনামূলক নিরাপদ!ইউরোপে ফুটবল অধিক জনপ্রিয় মূলত পাঁচটি দেশে। ইংল্যান্ড, জার্মানি, স্পেন, ইতালি ও ফ্রান্স। শুধু জনপ্রিয় নয়। এই পাঁচ দেশের ফুটবল লিগ ও ক্লাবও বিশ্বের সবথেকে সেরা। উহান থেকে যখন চীনের বিভিন্ন অঞ্চলে এই ভাইরাস বংশবৃদ্ধি করতে শুরু করে তখন চীন সরকার সকল জনসমাগম নিষিদ্ধ করে দেয়। যদিও এই সময়ে চীনের ফুটবল লিগের তেমন ম্যাচ ছিল না। যেগুলোও ছিল তা সাথে সাথে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়।

তখনও চীনের বাইরে এমন দুর্বার গতিতে বিস্তার লাভ করেনি করোনা ভাইরাস। তাই ইউরোপের বাকি দেশগুলো সতর্ক থাকলেও তখন তার প্রভাব পড়েনি ফুটবলের উপর। এরপর, ফ্রান্স, স্পেনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তি শনাক্ত করা। তবে তা চীন থেকে আসা কারও থেকে মাত্র, প্রবল বিস্তারের সংক্রামণ কিছু নয়। কিন্তু তারপর? চোখের পলকে এই ভাইরাস যেভাবে এই পাঁচটি দেশে ছড়িয়ে পড়লো, তা মহামারীর প্রথম ধাপ ছাড়া আর কিছু নয়। চীনের বাইরে নভেল করোনা ভাইরাস মহামারি হিসেবে ছড়িয়েছে ইতালিতে।

ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময় সিরি ‘আ’ লিগের অবস্থা যখন সব থেকে জমজমাট অবস্থা, তখনই খবর আসে লোম্বার্ডি রোজেন শহরে ভয়াবহ আক্রমণের খবর। তবে ইতালিতে প্রথম শনাক্ত হয় রোমে, ৩১ জানুয়ারি। ২৩ ফেব্রুয়ারি যখন ঐ অঞ্চলে ২৮৩ জন আক্রান্ত ও ৬ জনের মৃত্যুর খবর আসে, তখনই সিদ্ধান্ত নেয়া হয় দর্শকবিহীন মাঠে ম্যাচ অনুষ্ঠিত করার। কারণ, খুব বেশি জটিল শিডিউল থাকার কারণে হুট করে ম্যাচ বাতিলের ঝামেলায় যেতে চায়নি লিগ কমিটি।করোনার দাপটে ফরাসি লিগ বন্ধ হয়ে আছে বেশ কদিন হলো, কবে আবার শুরু হবে তা শুধু ভবিষ্যৎই জানে। একে তো খেলা নেই, তারওপর গৃহবন্দী হয়ে কাটছে প্যারিসিয়ানদের দিনগুলো। এমন শঙ্কার সময়ে আর প্যারিসে থেকে কী করবেন, সোমবার নেইমার উড়াল দিয়েছেন ব্রাজিলের উদ্দেশে। ফরাসি দৈনিক লা পারিসিয়েনকে উদ্ধৃত করে স্প্যানিশ দৈনিক মার্কা আজ সে খবর জানিয়ে লিখেছে, তাঁর অন্য সতীর্থরা যখন প্যারিসেই দিন কাটাচ্ছেন, তখন নেইমার ‘পালিয়েছেন’, উড়াল দিয়েছেন ব্রাজিলের উদ্দেশে।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!