কাঠুয়ার ঘটনার পেছনে আসল ঘটনা কি? জম্মুথেকে কি হিন্দুদের তাড়ানোর চক্রান্ত?

plan to remove Hindus from Jammu?
প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ

আজবাংলা কাঠুয়া ধর্ষণ ও খুনের মামলা সিবিআইয়ের হাতে তুলে দিতে রাজি কেন্দ্র। অন্য দিকে মেহবুবা মুফতির সরকার জানিয়েছে, তারা এই মামলার শুনানি রাজ্যের বাইরে সরানোর বিরোধিতা করবে। কিন্তু কেন এই বিরোধিতা । জম্মুর কাঠুয়ায় বকরওয়াল জনজাতির বছর আটেকের এক শিশুকে ধর্ষণ করে খুনের মামলা নিয়ে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ হয়েছে রাজ্যে। এই বছর জানুয়ারির ১০ তারিখে জম্মুর রাসানার জঙ্গলে ঘোড়া চড়াতে গিয়ে নিখোজ হয়ে গিয়েছিল ৮ বছরের নিষ্পাপ শিশু আসিফা। রাসানার জঙ্গল থেকেই ৭ দিন পর তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। কাঠুয়া মামলায় ধর্ষণে অভিযুক্ত আটজনের মধ্যে এক জন অবসরপ্রাপ্ত সরকারি অফিসার সঞ্জি রাম। অভিযোগ, একটি যাযাবর গোষ্ঠীকে ভয় দেখিয়ে উত্‌খাতের জন্য তাঁরা ওই গোষ্ঠীরই ছোট্ট মেয়েটিকে বন্দি রেখে দিনের পর দিন ধরে ধর্ষণ করেছিলেন। পরে তাকে খুন করা হয় নৃশংস ভাবে।  হিন্দুদের অভিযোগ এলাকায় অবৈধ ভাবে ঢোকানো রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে হিন্দুরা প্রতবাদ করছে দেখে মাঠে নামে বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত কনফারেন্স। আসিফার পরিবারের লোক মামলার CBI তদন্ত চাইলেও হুরিয়তের লোকেরা তাদের বুঝিয়ে তদন্ত ভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেয়।  যে পুলিশ আধিকারিকের হাতে তদন্ত যায় সে নিজে  একজন পাকিস্তানপন্থী এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষন এবং হত্যার অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের অভিযোগ যে তদন্ত হাতে নেওয়ার পরেই পুরনো তদন্তের রিপোর্টকে খারিজ করে দিয়ে নিজের মত করে মামলা সাজানো হয়। ক্রাইম ব্রাঞ্চ স্থানীয় এলাকার নিরীহ হিন্দুদের থানায় তুলে নিয়ে গিয়ে তাদের ওপর অমানবিক অত্যাচার করে এবং তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষন এবং হত্যার মামলা দায়ের করে। ক্রাইম ব্রাঞ্চ দাবী করেছিল যে মৃতদেহ নাকি মন্দির থেকে উদ্ধার হয়েছিল, কিন্তু ভাইরাল ভিডিওতে দেখা যায় যে মৃতদেহ জঙ্গলে পরে আছে। হিন্দুদের দাবী প্রথমে স্থানীয় একটি মুসলিম কিশোরকে গ্রেপ্তার করে। পুলিশের জেরার মুখে সে জানায় যে আসিফাকে জঙ্গল থেকে ধরে নিজের কাকার একটা গোয়াল ঘরে আটকে ধর্ষন করার চেষ্টা করে, কিন্তু আসিফা বাধা দেওয়ায় তাকে গলা টিপে হত্যা করে। এখানে উল্লেখ্য এই পর্যন্ত সব ঠিক ছিল, হিন্দুদের অভিযোগ মুসলিম কিশোর ফেসে যাচ্ছে দেখে বিচ্ছিন্নতাবাদী হুরিয়ত কনফারেন্স মাঠে নামে।  পরিবারের লোক মামলার CBI তদন্ত চাইলেও হুরিয়তের লোকেরা তাদের বুঝিয়ে তদন্ত ভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দেয়। যে পুলিশ আধিকারিকের হাতে তদন্ত যায় সে নিজে  একজন পাকিস্তানপন্থী এবং তার বিরুদ্ধে ধর্ষন এবং হত্যার অভিযোগ আছে। স্থানীয়দের দাবি সেই জন্যই বিজেপির একাংশ অভিযুক্তদের পাশে দাঁড়ান।  মামলার শুনানি জম্মু থেকে চণ্ডীগড়ে সরাতে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন নির্যাতিতার বাবা। শীর্ষ আদালত এ নিয়ে মেহবুবা মুফতি সরকারের মত জানতে চেয়েছে। জম্মু-কাশ্মীর সরকারের আইনমন্ত্রী আব্দুল হক খান জানিয়েছেন, এই মামলার শুনানি রাজ্যের বাইরে নিয়ে যাওয়ার বিরোধিতা করা হবে। কারণ, রাজ্য সরকার নির্যাতিতাকে দ্রুত সুবিচার দেওয়ার বিষয়ে বদ্ধপরিকর। কাঠুয়ায় ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট নেই। তাই মামলাটি শ্রীনগর বা জম্মুতে সরানো হবে। হিন্দুদের প্রশ্ন, বিচারের আগেই কেন হিন্দু পুরোহিত কে দোষী সাব্যস্ত করছে দেশের মিডিয়া ও বুদ্ধি জীবীরা?  হিন্দুদের প্রতি অপমানজনক প্ল্যাকার্ড হাতে প্রতিবাদ জানাতে আসা বুদ্ধি জীবীদের টার্গেট কি হিন্দুরা? প্রশ্ন এখানেই ….