পুজো উপলক্ষে স্টেজ-শো করতে এসে তৃণমূল নেতার হাতে যৌন হেনস্থার শিকার গায়িকা

যৌন হেনস্থা
যৌন হেনস্থা

আজবাংলা গণেশ পুজো উপলক্ষে মানিকতলার থানা এলাকার ২০ নম্বর মুরারিপুকুর লেনে সেদিন রাতে একটি জলসার আয়োজন করা হয়। ভানু ওরফে সুরজিৎ সাহা-ই সেই জলসার আয়োজন করেছিলেন। সেখানেই গান গাইতে আসেন ওই যুবতী। তাঁর সঙ্গে আরও একটি ব্যান্ডও পারফর্ম করে ওই জলসায়।নির্যাতিতা গায়িকা জানিয়েছেন, রাত ১০টায় শো-টাইম ছিল। ব্যান্ডের গানের পর রাত ১১টায় স্টেজে ওঠেন তিনি। গান শেষ করে স্টেজ থেকে যখন তিনি নামেন, তখন ঘড়ির কাঁটা রাত সোয়া ১২টা পেরিয়ে গিয়েছে। স্টেজের পিছনেই ছিল গ্রিনরুম। স্টেজ থেকে নেমে সেই গ্রিনরুমে গিয়েই ঢোকেন তিনি। তখন সেখানে ব্য়ান্ডের অন্য শিল্পীরাও ছিলেন। ওই যুবতীর অভিযোগ, তিনি গ্রিনরুমে ঢোকার একটু পরেই সেখানে আসেন ভানু। গ্রিনরুমে ঢুকে সেখান থেকে সবাইকে বেরিয়ে যেতে বলেন তিনি। সবাই বেরিয়ে যেতেই বাইরে থেকে আটকে দেওয়া হয় গ্রিনরুমের দরজা। এমনকি যাতে কেউ ভিতরে ঢুকতে না পারে, সেইজন্য দরজার বাইরে পাহারায় থাকে দুজন। এরপরই ফাঁকা গ্রিনরুমে তাঁর যৌন হেনস্থা করেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তাঁর উপর জোরজবরদস্তি করা শুরু হয়। জামা ছিঁড়ে দেওয়া হয়। মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় তাঁকে। প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে বন্দুকের নলের সামনে জোর করে তাঁকে বিবস্ত্র করার চেষ্টা করা হয়। বাইরে ব্যান্ডের শিল্পীরা দাঁড়িয়ে থাকলেও কেউ সাহায্যার্থে এগিয়ে আসেননি। এরপর ‘ফ্ল্যাটে নিয়ে চলার কথা’ বলে কোনওমতে নিরস্ত্র করেন অভিযুক্ত ভানুকে। তারপরই বন্ধ গ্রিনরুম থেকে পালাতে সক্ষম হন তিনি। সেখান থেকে বেরিয়ে পরিচিত এক ‘দাদা’র বাইকে করে উল্টোডাঙা ব্রিজের কাছে অবস্থিত পুলিস কিয়স্কে আসেন। তখনও পিছু পিছু ধাওয়া করে ভানুর লোকজন। উল্টোডাঙায় পৌঁছে মহিলা থানার পুলিসদের সঙ্গে নিয়ে এরপর তিনি ফের ঘটনাস্থলে যান। কিন্তু ততক্ষণে চম্পট দিয়েছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা।এই ঘটনায় মানিকতলা থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন নির্যাতিতা গায়িকা। এদিকে ঘটনার পর থেকেই পলাতক ভানু ।

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!