আগামী সপ্তাহে জন্মাষ্টমী! ঐদিন কেন শ্রীকৃষ্ণকে দেওয়া হয় ছাপ্পান্ন ভোগ, জেনে নিন

আগামী সপ্তাহে জন্মাষ্টমী! ঐদিন কেন শ্রীকৃষ্ণকে দেওয়া হয় ছাপ্পান্ন ভোগ, জেনে নিন

আজবাংলা         এবছর জন্মাষ্টমীর পুজো হবে আগামী ১২ অগাস্ট অর্থাৎ বুধবার | তবে ১১ অগাস্ট সূর্যোদয়ের পরই শুরু হয়ে যাচ্ছে জন্মাষ্টমী তিথি | বলা হয় ভগবান বিষ্ণুর অষ্টম অবতার শ্রী কৃষ্ণ | তাঁকে আদর করে অনেকে অনেক নামেই ডেকে থাকেন | কেউ বলেন বালগোপাল, নন্দলাল আবার কেউ বলেন শ্রী কৃষ্ণ, কানহা, গোপাল | পুরান মোতে শ্রীকৃষের জন্ম হয়েছিল কারাগারে মাতা দেবকীর গর্ভে | কৃষ্ণজন্মের শুভ তিথিটিই ঘরে ঘরে জন্মাষ্টমী রূপে পালিত হয় | জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশে সারা দেশ ভোগ নিবেদন করে। ষোড়শপচারে নিবেদিত এই ভোগ ‘ছাপ্পান্ন ভোগ’ নামেই সমাধিক পরিচিত | 

প্রশ্ন এখানেই, এই ৫৬ সংখ্যাটির তাৎপর্য ঠিক কী? কেন এই বিশেষ দিনে শ্রীকৃষ্ণকে ৫৬ রকমের ভোগ নিবেদন করা হয় |  ‘ভাগবত পুরাণ’ থেকে জানা যায়, দেবরাজ ইন্দ্রের রোষ থেকে তাঁর গ্রামবাসীদের বাঁচাতে শ্রীকৃষ্ণ গিরি গোবর্ধন ধারণ করেছিলেন | এই পর্বতই গ্রামবাসীদের বজ্র-বিদ্যুতের দেবতা ইন্দ্রের হাত থেকে রক্ষা করে | ইন্দ্র বজ্রপাত ঘটান টানা সাত দিন ধরে | কিন্তু শ্রীকৃষ্ণের কনিষ্ঠায় ধৃত গিরি গোবর্ধনের নীচে আশ্রয়প্রাপ্ত গ্রামবাসীদের তাতে কোনও ক্ষতি হয়নি | পরে ইন্দ্র নিজের ভুল বুঝতে পারেন এবং বজ্রপাত থেকে নিবৃত্ত হন | জানা যাই, এই সাতদিন শ্রীকৃষ্ণ কোনও খাদ্যগ্রহণ করেননি | তিনি প্রতিদিন ৮টি পদ আহার করতেন বলেই জানায় ‘ভাগবত পুরাণ’ | সাতদিন অভুক্ত থাকার পরে শ্রীকৃষ্ণ আহারে প্রবৃত্ত হন | তারপরেই কৃতজ্ঞ গ্রামবাসীরা তাঁকে খাদ্য নিবেদন করেন | সাতদিনের আট প্রকার পদ, অর্থাৎ ৭ x ৮= ৫৬টি পদ তাঁকে একবারে নিবেদন করা হয় | এই ৫৬ ভোগে থাকে অন্ন, ফল, মিষ্টান্ন, পানীয়, নোনতা খাবার ও আচার | 

অন্যদিকে এই বছর ১১ অগাস্ট সূর্যোদয়ের পরই শুরু হয়ে যাচ্ছে জন্মাষ্টমী তিথি | পুজোর শুভ মুহূর্ত শুরু হবে ২৪:০৪:৩১ থেকে ২৪:৪৭:৩৮ পর্যন্ত | অর্থাৎ মোট ৪৩ মিনিট ৷ এছাড়া, ১৩ অগাষ্ট রাত ১২ টা বেজে ৪৮ মিনিট থেকে রাত ২ টো বেজে ৩৪ মিনিট পর্যন্ত থাকবে সর্বার্থ সিদ্ধি যোগ | ওই বিশেষ দিনে দুধ-ঘি-মধুতে স্নান সেরে নতুন জামা, গয়না পরে, ফুল-চন্দন-আতরে সেজে ওঠেন আদরের নন্দলাল |