সুন্দরবনে দুই সঙ্গীর সামনে থেকেই এক মৎস্যজীবীকে টেনে নিয়ে গেল বাঘ

আজবাংলা  গোসাবা    ইউরোপ এবং চিন-সহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশের বাজারে সুন্দরবনের সুস্বাদু স্কাইলা সেরাটা প্রজাতির কাঁকড়ার বিপুল চাহিদা। আড়তদারেরা তাই মোটা দামে সেগুলি সংগ্রহ করেন। মৎস্যজীবীরাও বাড়তি রোজগারের আশায় প্রাণের ঝুঁকি নিয়ে কাঁকড়া ধরতে করতে জঙ্গলে ঢোকেন। নির্বিচারে কাঁকড়া শিকারের ফলে কাঁকড়ার সংখ্যা বাড়ন্ত। ফলে নদী বা বড় খালে নৌকা থেকে 'দোন' (সুতোয় বাঁধা মাছের টুকরোর টোপ) ফেলে কাঁকড়া ধরা ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতি সঙ্কীর্ণ খাঁড়িতে ডিঙি ঢুকিয়ে বেআইনি ভাবে জঙ্গলে নেমে কাঁকড়ার গর্ত খুঁজে বার করছেন মৎস্যজীবীদের একাংশ। সুন্দরবনের খাঁড়িতে কাঁকড়া ধরার সময় দুই সঙ্গীর সামনে থেকেই এক মৎস্যজীবীকে টেনে নিয়ে গেল বাঘ। সুনীল কয়াল(৫৫) নামে ওই ধীবর গোসাবা ব্লকের লাহিড়ীপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের চরঘেরি গ্রামের বাসিন্দা। স্ত্রী তারারানি, ছেলে সুশান্ত এবং মেয়ে সুজাতাকে নিয়ে অভাবের সংসার সুনীলের। স্ত্রী, ছেলে এবং মেয়ে কলকাতায় কাজ করেন। গ্রামের ভিটে আঁকড়ে থেকেই সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরেই দিন গুজরান করতেন সুনীল। জীবনের ঝুঁকি উপেক্ষা করেই যেতেন বাদাবনের নদী-খাঁড়িতে। রবিবার ভোরে চরঘেরি গ্রাম থেকে দুই সঙ্গী কৃষ্ণপদ মিস্ত্রী ও দুলাল সরকারকে সঙ্গে নিয়ে সুনীল দাঁড়-টানা নৌকায় করে রওনা দিয়েছিলেন মরিচঝাঁপি জঙ্গল লাগোয়া রায়মঙ্গল নদী সংলগ্ন খাঁড়িতে। সকাল ৯টা নাগাদ তিন জনের দলটি যখন কাঁকড়া ধরতে ব্যস্ত, আচমকা পাড়ের জঙ্গল থেকে একটি বাঘ ঝাঁপিয়ে পড়ে নৌকায় থাকা সুনীলের উপর। মুহূর্তে তাঁর ঘাড়ে কামড় বসিয়ে দুই সঙ্গীর সামনে থেকেই তুলে নিয়ে বাদাবনের গভীরে। সুনীলকে বাঘ তুলে নিয়ে যাচ্ছে দেখেও কিছু করতে পারেননি নৌকায় সওয়ার দুই সঙ্গী। কিছুক্ষণ অপেক্ষার পরে তাঁরা নৌকা চালিয়ে ফিরে আসেন নিজেদের গ্রামের জেটিঘাটে। তারপর গ্রামবাসীদের কাছে ঘটনার কথা জানান। প্রতিবেশীদের মারফত খবর পেয়ে কলকাতা থেকে স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে রওনা হন গোসাবার গ্রামের পথে। অল্প বয়স থেকে সুন্দরবনে মাছ-কাঁকড়া ধরতে দক্ষ সুনীলকে বাঘ তুলে নিয়ে যাওয়ার খবরে চরঘেরি গ্রামে তাঁর বাড়ির সামনে ভিড় জমান স্থানীয় বাসিন্দারা।গ্রামবাসীদের থেকে খবর পেয়ে বনকর্মীরা তল্লাশি চালাতে যান ঘটনাস্থলে। এ বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা তথা গোসাবা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি অচিন পাইক বলেন, 'আমরা অবশ্যই ওই মৎস্যজীবীর পরিবারের পাশে থাকব।'