নদিয়ায় নিজের দুধের সন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ থাকার পাঁচ দিন পর ধরা পড়লো যুবক

আজবাংলা     চাকদা       টানা পাঁচ দিন ধরে সন্তানকে নিয়ে নিখোঁজ থাকার পর অবশেষে ধরা পড়লেন বাবলু বিশ্বাস নামের এক যুবক। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে নদিয়া চাকদহ থানার কাঁঠালপুলি মিস্ত্রিপাড়াএলাকায়। বাবলু বিশ্বাসের স্ত্রী মমতা বিশ্বাস অভিযোগ করেছেন, গত মঙ্গলবার তাঁদের মধ্যে চরম অশান্তি হয়। তাঁকে মারধর করেন তার স্বামী। এরপরেই তাঁর ১৩ মাসের দুধের শিশুকে কোলে তুলে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান তাঁর স্বামী। তিনি সম্ভাব্য চারিদিকে খোঁজখবর করেন। কোথাও সন্তানের হদিশ না পেয়ে চাকদহ থানাতে নিখোঁজ ডায়েরি করেছিলেন। সম্ভবত কোন অসৎ উদ্দেশ্যে স্বামী তাঁর সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন বলে পুলিশের কাছে জানিয়েছেন মমতা বিশ্বাস । যদিও স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সেই নিখোঁজ ডায়েরি অনুযায়ী পুলিশ ১৩ মাসের দুধের শিশুকে উদ্ধার করার জন্য চেষ্টা চালায়নি। বাধ্য হয়েই মমতা বিশ্বাস রানাঘাট পুলিশ সুপার-সহ চাইল্ড প্রটেকশন অফিসার এবং চাইল্ড লাইনের দ্বারস্থ হয়েছিলেন।এরপরে কিছুটা নড়েচড়ে বসে পুলিশ। অবশ্য সোমবার বিকেলে চাকদহ থানার শিমুরালির মনসাপোতা এলাকায় ভাগ্যক্রমে ওই এলাকার একজন প্রতিবেশী গাড়িচালক গাড়ি নিয়ে ফেরার সময় বাবলু বিশ্বাসকে তাঁর সন্তান ঋষভকে নিয়ে রাস্তায় হেঁটে যেতে দেখেন। তিনি চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। এর পরেই নিজের প্রাণের ভয়ে সন্তানকে রাস্তার ওপরে ফেলে রেখে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বাবলু বিশ্বাস। প্রতিবেশীদের কাছ থেকে জানা গিয়েছে, পেশায় তিনি পরিযায়ী শ্রমিক। তিনি মুম্বইয়ে কাঠের কাজ করতেন। লকডাউনের কয়েকদিন আগে তিনি বাড়ি ফিরে আসেন।বাড়িতে ফিরে আসার কয়েকদিন পর থেকেই তাঁর পরিবারের আর্থিক অনটন শুরু হয়। তা নিয়ে মাঝেমধ্যেই স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে অশান্তিও চলছিল। যদিও সাংসারিক আর্থিক অনটন মেটাতে তিনি মাসখানেক হল মাছের ব্যবসা শুরু করেছিলেন বলে যানাযায়। রানাঘাট পুলিশ জেলার সুপার ভি এসআর অনন্তনাগ জানিয়েছেন, ‘অভিযুক্ত বাবলু বিশ্বাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। কী কারণে তিনি তার সন্তানকে নিয়ে পালিয়ে গিয়েছিলেন, তা জানার চেষ্টা করছে পুলিশ।