তিক্ততা ভুলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়িতে যুব সভাপতি সৌমিত্র খাঁ

তিক্ততা ভুলে রাজ্য বিজেপির সভাপতি দিলীপ ঘোষের বাড়িতে যুব  সভাপতি  সৌমিত্র খাঁ

আজবাংলা     বিহার বিধানসভা নির্বাচনের পরই এ রাজ্যের নির্বাচনের দিনক্ষণঘোষণা করা হবে বলেই ধরে নেওয়া হয়েছে। সেই নির্বাচনের ফলাফলের মধ্যে দিয়ে যারা বাংলার ক্ষমতা দখল করতে মরিয়া, সেই দলের রাজ্য নেতৃত্ব আসন্ন নির্বাচনের ঠিক আগে জড়িয়ে পড়েছেন আভ্যন্তরীণ দলাদলিতে। বিষয়টা কেবলমাত্র এখানেই থেমে নেই। শেষ ঘটনা বিজেপির যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সাংসদ সৌমিত্র খাঁ ওই পদ থেকে ইস্তফা ঘোষণা করেন।

কিন্তু তার কয়েক ঘণ্টা পরেই তিনি সেই ইস্তফা প্রত্যাহার করে নেন। এবার সেই তিক্ততা ভুলে রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের  বাড়িতে গিয়ে বিজয়ার প্রণাম সেরে এলেন দলেরই যুব মোর্চার রাজ্য সভাপতি সৌমিত্র খাঁ । মঙ্গলবার সাতসকালে দিলীপের বাড়িতে যান সৌমিত্র। সঙ্গে ছিলেন দলের সাধারণ সম্পাদক (সংগঠন) সুব্রত চট্টোপাধ্যায় এবং সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু ।

যাবতীয় তিক্ততা ভুলে দিলীপের কাছে আগামী দিনের জন্য আশীর্বাদ চেয়ে নিয়েছেন সৌমিত্র। সেই সঙ্গে দলের রাজ্য সভাপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করেছেন তিনি। দু'জনকে উপহার বিনিময় করতেও দেখা গিয়েছে।সম্প্রতি দিলীপ ঘোষের একটি পদক্ষেপের পর বিষ্ণুপুরের সাংসদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্কের তিক্ততা নিয়ে বহু জল্পনা কল্পনা চলেছে।

 আসলে, পুজোর মধ্যেই হঠাত যুব মোর্চার সব রাজ্য কমিটি সাংগঠনিক কারণে ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন দিলীপ। আর তাতেই গেরুয়া শিবিরের রাজ্য সভাপতি এবং রাজ্য যুব মোর্চার সভাপতির তিক্ততা নিয়ে জল্পনা শুরু হয়ে যায়। শোনা যায় সৌমিত্র নাকি পদত্যাগ করারও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

এমনকী, যুব মোর্চার হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ থেকেও নাকি তিনি বেরিয়ে গিয়েছিলেন। কিন্তু মঙ্গলবার বিজয়ার প্রণাম সারতে দিলীপের বাড়িতে গিয়ে তিনি বার্তা দিয়ে দিলেন, সব ঠিকই আছে। দলের রাজ্য সভাপতির সঙ্গে তাঁর কোনও ব্যক্তিগত সমস্যা নেই।আসলে, একুশের লক্ষ্যে যে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই করতে হবে তা বিজেপির সব স্তরের নেতাই বুঝতে পারছেন।

তাই রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও তাঁরা তা মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। দিন দু'য়েক আগে বিজেপির সর্বভারতীয় পদাধিকারী অনুপম হাজরাকে দেখা গিয়েছিল দলের কর্মীদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব নিয়ে সতর্ক করতে। আজ সৌমিত্র খাঁ-ও বুঝিয়ে দিলেন দিলীপ ঘোষের সঙ্গে রাজনৈতিক মতানৈক্য থাকলেও ব্যক্তিগত সম্পর্কে এর কোনও প্রভাব পড়েনি। যাবতীয় তিক্ততা, বিবাদ, মতানৈক্য ভুলিয়ে দিয়েছে উত্‍সব! দুই নেতাকেই এদিন একে অপরের সঙ্গে সৌজন্য বিনিময় করতে দেখা গিয়েছে।