শরীরে ডায়াবেটিস উপস্থিত, বুঝুন এই লক্ষণগুলি থেকে

শরীরে ডায়াবেটিস উপস্থিত, বুঝুন এই লক্ষণগুলি থেকে

আজবাংলা   বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা ‘হু’র তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে বিশ্বে ৪২ কোটি ২০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন বলছে যে, বর্তমানে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ১১ লাখ ৬ হাজার ৫০০ ও বছরে প্রায় ৪ লাখ মানুষের মৃত্যু হয় ডায়বেটিসের কারণেই।

অপরদিকে অন্য এক রিপোর্টে ‘হু’ বলেছে, প্রতিবছর এইচআইভি কিংবা ক্যান্সারের চেয়েও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়ে থাকে ডায়াবেটিসে। ডায়াবেটিস প্রকৃতপক্ষে দু’প্রকার। টাইপ ১- ডায়াবেটিসটি হয়ে থাকে শরীরে ইনসুলিনের ঘাটতির ফলে। অপরদিকে টাইপ ২- ডায়াবেটিস মূলত শরীরে ইনসুলিনের অকার্যকারিতার কারণেই হয়ে থাকে।

ডায়াবেটিস এমন একটি রোগ যা শারীরিক অসুস্থতা আরও বাড়িয়ে তোলে। ওষুধ, শরীরচর্চা ও নিয়ম মেনে খাওয়া-দাওয়া করলে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তবে পুরোপুরি নিরাময় হয় না এটি।

ডায়াবেটিস সম্পর্কে সময় মতো সচেতন হতে পারলে দীর্ঘদিন স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব। আসুন আজকের প্রতিবেদনে দেখে নিন ডায়াবেটিসের প্রাথমিক কয়েকটি লক্ষণ, এই লক্ষণগুলি থাকলে শুরুতেই সাবধান হন।

১. হুট করে অনেক বেশি ওজন কমতে থাকাও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হিসেবে দেখা হয়।

২. হাত এবং পায়ের আঙুল কিংবা পুরো হাত অবশ বোধ করা, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম ও প্রধান লক্ষণ। পরিস্থিতি মারাত্মক পর্যায়ের চলে গেলে এই লক্ষণ প্রকাশ পেয়ে থাকে।

৩. বিশেষজ্ঞদের মত হলো, শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে কিডনিতে প্রচণ্ড চাপ সৃষ্টি হয়। তখন কিডনি চেষ্টা করে শরীর হতে সুগার বের করে দেওয়ার জন্য। সে কারণেই ঘন ঘন প্রস্রাব হয়।

৪. শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে তার প্রভাব পড়ে দৃষ্টিশক্তির উপরেও। যে কারণে দৃষ্টিশক্তি ঘোলাটে হয়ে যাওয়ার সমস্যা সৃষ্টি হয়।

৫.  খুব অল্পতেই হাঁপিয়ে ওঠা শরীরে সুগারের মাত্রা বৃদ্ধির প্রধান লক্ষণ। সুগারের মাত্রা বেড়ে গেলে শরীরে জলের ঘাটতিও হয়। তখন ডিহাইড্রেশনের কারণে শরীর দুর্বল হয়ে যায়।

৬. সুগার বের করার সময় কিডনি শরীরের কোষ হতে ফ্লুইড নিতে থাকে। এতে করে শরীরে জলের ঘাটতি হতে থাকে, যার কারণে ঘন ঘন জলের পিপাসাও লাগে।

৭. শরীরের কোনো অংশ কেটে কিংবা ছিড়ে গেলে তা শুকাতে অনেক বেশি সময় লাগার বিষয়টিও শরীরে সুগারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার লক্ষণ হিসেবে মনে করা হয়।

উল্লেখিত লক্ষণগুলোর কোনো একটি নিজের মধ্যে লক্ষ্য করলেই অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে রক্ত পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া অত্যন্ত জরুরি। কেনোনা প্রথমে যদি ডায়াবেটিস চিহ্নিত করা যায়, তাহলে সচেতনভাবে চলতে পারলে অনেক ঝুঁকি থেকে রক্ষা পাওয়া পাবেন।