দাম্পত্য জীবনে তারাই সুখী যাদের মধ্যে এই গুনগুলি থাকবে

দাম্পত্য জীবনে তারাই সুখী যাদের মধ্যে এই গুনগুলি থাকবে

দাম্পত্যজীবন অনেকটা তেল জলের সম্পর্কের মত। তেল ও জলে কখনো মিশ না খেলেও তাদের দুয়ের কম্বিনেশনে তৈরি হয় অসাধারণ সুস্বাদু কোন আইটেম। অর্থাত্‍ একজন পুরুষ ও মহিলা আলাদা বৈশিষ্ট্যর হলেও তাদের কম্বিনেশনে সৃষ্টি হয় দাম্পত্য নামক নতুন মজাদার সম্পর্ক।বিবাহিত জীবনে স্ত্রীকে খুশি করা গুরুত্বপূর্ণ একটা বিষয়।যদিও অনেকে মনে করেন অর্থই সকল সুখের মূল, আসলে ব্যাপারটা তা নয়। কারণ অনেক গবেষনায় দেখা গেছে, উচ্চবিত্ত পরিবারের তুলোনায় মধ্যবিত্ত পরিবারে ভালবাসার মূল্য অনেক বেশি। সেসব পরিবারে পারিবারিক বন্ধনও দৃঢ়। আমরা যখনই অর্থকে সব কিছুর উপরে প্রাধান্য দিব তখনই আমাদের কাছের মানুষদের সঙ্গে বন্ধন হাল্কা হতে শুরু করে।

সংসার সুখী হতে মেয়েদের পাশাপাশি পুরুষদেরও অনেক ব্যাপারে মনযোগী হতে হয়। বস্তুবাদি জীবনকে দূরে রেখে যে সকল কাজের মাধ্যমে স্ত্রীকে খুশি করা যায় সেগুলো করার চেষ্টা করতে হবে। যেসব কাজের মাধ্যমে সহজেই স্ত্রীর মন জয় করা যায় তা আজ দেয়া হলো দাম্পত্যজীবন তৈরির কথা তো আমরা সবাই জানি।কিন্তু এ জীবন কে সুন্দর ও মধুর করে রাখতে হলে তো কিছু উপায় মাথায় রাখতেই হবে। তাহলে এবার জেনে নেয়া যাক দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়ার উপায়: - এই ছয়টি উপায় যা বদলে দিতে পারে আপনার জীবন।

১) সঙ্গী কে সম্মান ও শ্রদ্ধা করুনঃ দাম্পত্য জীবনে বর্তমানে যে সমস্যা টি বেশি দেখা যায় তা হলো সম্মানের অভাব। যার কারনে সৃষ্টি হয় মতভেদ। আর তা বাড়তে বাড়তে বিচ্ছেদ পর্যন্ত গড়াতে দেখা যায়। স্বামী স্ত্রী দুজনেরই উচিত্‍ একে অপরকে মানুষ বা বন্ধু হিসেবে শ্রদ্ধা করা। শ্রদ্ধাবোধ যে কোন সম্পর্ককে আরও নতুন মাত্রা দেয়। কখনো এমন কোন কথা বলবেন না বা কাজ করবেন না যা অন্য ব্যক্তি মানুষটার আত্মসম্মানে আঘাত করে। প্রত্যেক মানুষেরই নিজের কাছে তার আত্মসম্মান বোধ রয়েছে।

২) একে অপরের বন্ধু হবার চেষ্টা করুনঃ দাম্পত্য জীবনের শুরুতেই দুজন মানুষের মধ্যে বন্ধুভাবাপন্ন মানসিকতা তৈরি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। একজন বন্ধু আপনাকে যতটা ভাল বুঝতে পারবে সেটা অন্যকেউ বুঝতে পারবেনা। আর একজন বন্ধুর কাছেই মানুষ তার ভালোলাগা, মন্দলাগা, ভয়, অভিমান, প্রত্যাশার কথা, সমস্যার কথা নির্দ্বিধায় শেয়ার করতে পারে।

৩) নিজেদের মধ্যে শেয়ারিং বাড়ানঃদাম্পত্য জীবনে সবচেয়ে কাছের মানুষ টি হলো স্বামী বা স্ত্রী। তাই দুজন দুজনার ভালোলাগা, মন্দ লাগা, জীবনের ভাল সময় খারাপ সময়,ভাল মুহূর্ত খারাপ মুহূর্ত তার সাথে শেয়ার করুন এতে করে পরিস্থিতি অনুযায়ী একে অপরকে বুঝতে খুব বেশি বেগ পেতে হবে না।

৪) সন্দেহ নামক ক্যান্সার কে ছড়াতে দেবেন নাঃ সন্দেহ ক্যান্সার থেকেও ভয়ানক রোগ। যা একবার মন কে গ্রাস করলে যে কোন সুন্দর কোনকিছু কে মুহূর্তেই ধুধু মরুভূমি করে দিতে পারে। সন্দেহ নামক শব্দ টিকে সিলগালা করে রাখার চেষ্টা করুন। আর যদি সন্দেহ জীবনে প্রবেশ করেই ফেলে তবে চেষ্টা করুন সন্দেহের বিষয় নিয়ে কথা বলার মধ্যে সেটি যত দ্রুত সম্ভব দূর করার চেষ্টা করুন। সন্দেহ কে জিয়িয়ে রাখবেন না।

৫) বিশ্বাস তৈরি করুন এবং সঙ্গী কে বিশ্বাস করুনঃ দাম্পত্য জীবনে সুখী হওয়াটা নির্ভর করে বিশ্বাস কতটা শক্ত তার অপর। বিশ্বাস ছাড়া কোন সম্পর্কই শেষ পর্যন্ত টিকিয়ে রাখা অসম্ভব। বিশ্বাস ছাড়া বছরের পর বছর একই ছাদের নিচে বসবাস করার পরও দেখা যায় দুজনার মধ্যে প্রচুর বিশ্বস্ততার অভাব রয়েছে। কিন্তু তারা সংসার করছে কেবল সম্মানহানি হবে বলে এবং বিশৃঙ্খলার ভয়ে অথবা ছেলেমেয়ের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে। এভাবে কি আর সুখে সংসার করা সম্ভব! এজন্য নিজেদের বোঝাপড়ার মাধ্যমে বিশ্বাসের ভিত্তি মজবুত করে নিন।

৬) সারপ্রাইজ দেবার চেষ্টা করুনঃ দাম্পত্যজীবন মধুর করার ক্ষেত্রে সারপ্রাইজ ম্যাজিকের মত কাজে দেবে। যেমনঃ চিরকুটে কোন রোম্যান্টিক বাক্য, বা চিঠি, অথবা গোলাপ, চক্লেট অথবা সঙ্গীর পছন্দের খাবার রান্না, সঙ্গীর জন্মদিন, দুজনের দেখা হবার প্রথম দিন, যে কোন প্রথম দিন, বিবাহবার্ষিকী, ভালবাসা দিবস সহ যে কোন দিবসে সঙ্গীর পছন্দের জিনিস উপহার দিয়ে চমকে দিতে পারেন।

দিনক্ষণ মনে রাখতে প্রয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ডায়েরী ব্যবহার করুন।সবশেষে বলা যায় দাম্পত্য জীবন কে সুখী করতে অপর পক্ষ কী করলো সেটা না ভেবে আপনি কি করলেন সেটা নিয়ে ভাবুন। আপনি এক পা আগে বাড়ালে অপর পক্ষও কিন্তু বসে থাকবে না। নিজের ভুল ত্রুটি গুলো শুধরে অন্য পক্ষকে শুধরাতে চাইলে তখন তার আর কিছু বলার থাকে না। তবে পুরুষদের ক্ষেত্রে নিজের সারাদিনের ক্লান্তি কে উপেক্ষা করে এই কাজগুলো করা কষ্টকর হলেও অসম্ভব নয় কিন্তু। আমরা আমাদের পারিবারিক জীবনকে সুখী করার জন্য এবং নিজের জীবন সঙ্গীকে একটু ভালো লাগা দেয়ার জন্য এতোটুকু করা অসম্ভব কিছু নয়।