হাওড়ার শিবপুরে ১৪০ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন হাজার হাতের মা কালী

হাওড়ার শিবপুরে ১৪০ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন হাজার হাতের মা কালী
আজবাংলা       কলকাতা থেকে হাওড়া ব্রিজ পার করে এলেই পরে হাওড়া | সেই হাওড়তেই দীর্ঘদিন ধরে পূজিত হয়ে আসছেন হাজার হাতের মা কালী | হাওড়ার শিবপুরের ওলাবিবিতলায় প্রায় ১৪০ বছর ধরে পূজিত হয়ে আসছেন মা | হাওড়তে এই মন্দির খুবই বিখ্যাত | জানা গিয়েছে মায়ের এই মন্দিরটি ১৮৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল | কথিত আছে শিবপুরের ওলাবিবিতলার মুখোপাধ্যায় পরিবারের ছেলে আশুতোষ মুখোপাধ্যায় ছিলেন একজন তান্ত্রীক | তাকেই মা স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন এই মন্দির গড়ে তোলার জন্য | মা চণ্ডীর রূপে মা স্বপ্নাদেশ দিয়েছিলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়কে | স্বপ্নাদেশ পাওয়ার পরে আশুতোষবাবুর মন্দির নির্মাণ করার জন্য সেই রকম অর্থ ছিল না | তার উপর মায়ের হাজার হাত সেই কারণে চিন্তায় পড়েছিলেন সে | এরপরেই মন্দির নির্মাণ করতে এগিয়ে এসেছিলেন ওই এলাকারই আরও একটি পরিবার | সেই পরিবারের সঙ্গে সঙ্গে এগিয়ে এসেছিলেন সেখানকার সমস্ত বাসিন্দারাও | সকলেই বাড়িয়ে দিয়েছিলেন সাহায্যের হাত | তারপরেই এক বুদ্ধ পূর্ণিমার দিনে প্রতিষ্ঠিত হয় হাজার হাত কালী মন্দির | মন্দিরটি মা কালির হলেও সেখানে কোনদিনও পশু বলির প্রচলন ছিল না | চণ্ডীপুরাণ অনুযায়ী মা কালীর এই রূপ অসুর বধের সময়ে দেবী দুর্গা অনেকগুলি রূপের মধ্যেই একটি | তারপর থেকে সেখানে আজ পুজো হয়ে আসছে | হাজার হাজার ভক্ত ভিড় করেন মায়ের মন্দিরে দর্শনে জন্য | বছরে দুদিন, বুদ্ধ পূর্ণিমার দিন অর্থাৎ মন্দির প্রতিষ্ঠা দিবসের দিন ও কালীপুজোর দিন এই মন্দিরে জাঁকজমক করে পুজো হয়ে থাকে | আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের পরবর্তী বংশধররাই এখন মায়ের সেবা করে আসছেন | লোকমুখে জানা গিয়েছে, মায়ের এই হাজার হাত নাকি গোনা যায় না | হাজার হাথে মা কালী খুবই জাগ্রত | স্থানীয় লোকজন থেকে শুরু করে অনেকেই সমস্যায় পড়লে দৌড়ে যান মায়ের কাছে, মায়ের আশীর্বাদ নিতে |