এনআরসি আতঙ্কে ভারত থেকে বাংলাদেশে ঢুকছে হাজার হাজার মানুষ।এরা কারা ?

আজবাংলা     ঝিনাইদহ       জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন (এনআরসি) আতঙ্কে ভারত থেকে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ হঠাৎ করেই বেড়ে গেছে। প্রায় প্রতিদিনই ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভারত সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকছে মানুষ। গত দুই সপ্তাহে হাজার হাজার মানুষ। বাংলাদেশে ধরা পরা রাবেয়া হাওলাদারের কথায় আট বছর ধরে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে পুরো পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন।তার ছেলের জন্ম হয়েছে ভারতে। বাংলাদেশে নড়াইল জেলার কালিয়াতে তার বাড়ি বলে দাবি করলেন। স্বেচ্ছায় এসেছেন নাকি কেউ আসতে বাধ্য করেছে এ প্রশ্নে রাবেয়া বলেন, “আমি নিজের ইচ্ছায় চলে আসছি। এখন সবকিছু হয়ে গেছে। এখানে বাড়ি করেছি। স্বামীকে বিদেশে পাঠিয়েছি।”

তিনি  স্থানীয় সাংবাদিক দের জানান স্বামী ভারতীয় পাসপোর্টে বিদেশে আছে।গত ৯ই ডিসেম্বর রাতে বাংলাদেশে মহেশপুর সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে ঢোকার সময় বিজিবি সদস্যদের হাতে আটক হয় ১২ জন বাংলাদেশি ।এর মধ্যে রবু নামের একজন ছোট ছেলেকে নিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছেন। সপরিবারে থাকতেন ভারতের মুম্বাই শহরে।তার দাবি, ভাল কাজের সুযোগ পেতে বাংলাদেশ থেকে তিনি কয়েক বছর আগে ভারতে গিয়েছিলেন।অবৈধ নাগরিক হিসেবে আটক হয়ে তার স্ত্রী ছ’মাস ধরে এখন ভারতের কারাগারে রয়েছেন। আর এক জন সবুজ নামের ওই তরুণ জানান তিনি ব্যাঙ্গালুরু থেকে এসেছেন।আট-নয় মাস আগে কাজের সন্ধানে তিনি ভারতে গিয়েছিলেন।তার মতো আরো অনেকেই ১০ই ডিসেম্বর রাতে সীমান্ত পার হয়েছেন। কিন্তু ঐ দিন বিজিবির হাতে কেউ আটক হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি।”আমরা একসাথে ঢুকছি চারজন। অন্য লাইনেও দেখছি ঢুকতে। পঞ্চাশ জনের মতো,” বলেন সবুজ।মহেশপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের মানুষের কথায় পরিস্থিতি অস্বাভাবিক, এবং আগে কখনোই ভারত থেকে এরকম মানুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেখেননি তারা।অবশ্য স্থানীয়রা বলছেন, বিজিবি যে কয়েকজনকে আটক করেছে অনুপ্রবেশকারী তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি। তারা বিজিবির চোখ ফাঁকি দিয়ে এদেশে প্রবেশ করেছে।অবশ্য বিজিবি কর্মকর্তা কামরুল আহসানের দাবি, তারা কঠোর নজরদারি করছেন। সে ক্ষেত্রে চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রবেশের সুযোগ নেই। এ বিষয়ে মহেশপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রাশেদুল আলম বলেন, যারা আটক হচ্ছে তাদের পরিচয় নিয়ে দেখা যাচ্ছে তারা বেশির ভাগ বাগেরহাট ও খুলনা এলাকার। তারা দুই দশক ধরে ভারতে গিয়ে কাজ করছিলেন। সেখানে স্থানীয় ঝামেলায় চলে আসছেন। তাদের বাংলাদেশে আত্মীয়-স্বজন রয়েছে। ঝিনাইদহের মানবাধিকার কর্মী আমিনুর রহমান আজবাংলা নিউজ কে বলেন সম্প্রতি ভারত সরকার ভারতের প্রকৃত নাগরিকদের তথ্য বের করতে জাতীয় নাগরিক নিবন্ধন প্রকাশ করে। সেখানে নাম না থাকায় নির্যাতনের ভয়ে এসব নারী-পুরুষ বর্ডার পার হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করছে। তিনি বলেন, আমাদের একটা ঘনবসতি দেশ। ইতোমধ্যে আমরা রোহিঙ্গাদের মানবিক কারণে জায়গা দিয়েছি। এভাবে যদি আবার ভারত থেকে মানুষ চলে আসে তাহলে আমাদের আরও একটা সমস্যা সৃষ্টি হবে। তারা অনেকেই সম্পত্তি বিক্রি করে চলে গিয়েছিলেন। এখন ফিরে এসে তারা কর্মসংস্থান না পেয়ে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি। এছাড়া যারা ভারত থেকে আসছে তারা কোনো মারাত্মক রোগ বা এইচআইভি বহন করছে কি-না এটাও বড় চিন্তার বিষয়। তারা দেশ থেকে চলে গিয়ে দীর্ঘদিন সেখানে ছিলেন। তাদেরকে এখন অবৈধভাবে আমাদের দেশে আসতে দিতে পারি না। ভারত আমাদের বন্ধু দেশ এই বিষয়ে আলোচনা করে সমাধান করা যেতে পারে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঝিনাইদহের জেলা প্রশাসক সরোজ কুমার নাথ বলেন গত শনিবার থেকে প্রচুর পরিমাণে নারী-পুরুষ ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত অঞ্চলে আটক হচ্ছেন। আটকরা দাবি করছেন- তারা বাংলাদেশের নাগরিক। কারাগারে পাঠানোর পর তাদের সঙ্গে আমি কথা বলেছি। তাদের ভাষ্য, তারা পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে ছিল। ওখানে কোনো বাসা বাড়ি বা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতো। সম্প্রতি ওখানে তাদেরকে কিছু লোকজন খোঁজ করছে এবং যারা তাদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল তারা তাদেরকে বলেছে তারা তাদের আর রাখতে পারবে না। তখন বাধ্য হয়ে তারা ভারতের স্থানীয় দালাল ধরে ঝিনাইদহের মহেশপুর সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর বিজিবির হাতে আটক হচ্ছেন।ভারতের এনআরসি ও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে পার্শ্ববর্তী বাংলাদেশে। এমনকি ওই ঘটনায় পরোক্ষে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল ইস্যুতে ভারত সফর পর্যন্ত বাতিল করেছেন বাংলাদেশের বিদেশ মন্ত্রী আবদুল মোমেন ও আসাদুজ্জামান খান। প্রশ্ন হচ্ছে এনআরসি আতঙ্কে ভারত থেকে বাংলাদেশে যারা আসছে এরা কারা ?

এমন সমস্ত আপডেট পেতে লাইক দিন!